খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)-এ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কোনো কমিটি নাই। ছাত্রদলের নিবন্ধিত কর্মী না হলেও তাদের ঘটনাকে কেন্দ্র করে 'ছাত্রদলের হামলা' হিসেবে প্রচার করাকে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব।
বুধবার বিকেল সাড়ে চারটায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্রের গেমস রুমে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই দাবি করেন।
লিখিত বক্তব্য পাঠকালে তিনি বলেন, কুয়েটে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কোন কমিটি গঠিত হয়নি এখন পর্যন্ত কুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্রদলের সদস্য ফরম পূরণ কার্যক্রমও শুরু হয়নি, সেহেতু যাদেরকে প্রথমে মারধর করা হয়েছে সেই তিনজন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের নিবন্ধিত কর্মীও নন। তাই তাদেরকে কেন্দ্র করে ঘটা কোন ঘটনাকে "ছাত্রদলের হামলা" শীর্ষক ঘটনা হিসেবে প্রচার করা সর্বৈবভাবে মিথ্যা ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত একটি কাজ।
তিনি আরো বলেন, নিষিদ্ধ ঘোষিত ফ্যাসিবাদী সংগঠন ছাত্রলীগ যেমন অতীতে সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামকে ভাঙিয়ে নিজেদের নানান অপকর্মের সাফাই দিতো, ঠিক সেভাবেই ৫ আগস্ট পরবর্তী সময়ে গুপ্ত সংগঠন শিবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের নামকে কলুষিত করছে এবং এই নাম ব্যবহারের মাধ্যমে ক্যাম্পাসসমূহে ভিন্ন রূপে অগণতান্ত্রিক ফ্যাসিবাদী কর্তৃত্ববাদ পুনঃপ্রতিষ্ঠা করার অপচেষ্টায় লিপ্ত আছে।
রাকিব আরো বলেন, ১৮ ফেব্রুয়ারি মঙ্গলবার বিকালে খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (কুয়েট)- এ একটি চরম অনাকাঙ্ক্ষিত ও অনভিপ্রেত ঘটনা ঘটেছে। পাল্টাপাল্টি হামলায় মারাত্মকভাবে হতাহত হয়েছেন শতাধিক শিক্ষার্থী ও স্থানীয় জনতা।
এসময় উক্ত সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তিনি এই হামলায় ও হামলার উস্কানিতে জড়িতদের সুষ্ঠু তদন্তপূর্বক বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান।
পরে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, বাংলাদেশে যত বড় বড় অগ্নিকাণ্ড হয়েছে, তার উৎস ছিল ছোট ছোট শর্ট সার্কিট। গতকাল সেই কাজ শুরু করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের বিশৃঙ্খল মব। নেতৃত্ব দিয়েছে আহবায়ক ওমর ফারুক। কেন্দ্রীয়ভাবে মনিটরিং করেছে সমন্বয়ক হাসনাত আব্দুল্লাহ।
তিনি আরও বলেন, হাসনাত আব্দুল্লাহ বিভিন্ন সভা-সেমিনারে মানুষকে জ্ঞান দিয়ে থাকেন। বিভিন্ন ওয়াজ নসিহত করেন। কিন্তু আমরা প্রশ্ন করতে চাই, প্রধান উপদেষ্টার সাথে রাজনৈতিক দলগুলোর যে মিটিং হয়েছে, সেখানে কোন প্রটোকলে তিনি এবং নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী গিয়েছেন।
নাছির বলেন, বাংলাদেশের যেকোনো সংগঠনে রাজনীতি করার সাংবিধানিক অধিকার রয়েছে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন কীভাবে ছাত্রদলের তিনজন নেতার উপর হামলা করে, সে প্রশ্ন আমরা রাখতে চাই। শিবিরের কাছে আমরা প্রশ্ন রাখতে চাই কুয়েটে তাদের কমিটি আছে কী না, গতকাল যে হামলা হয়েছে তার ব্যাখ্যা দিতে হবে। আর কোনো ক্যাম্পাসে যদি বিনা কারণে হামলার ঘটনা ঘটে, তাহলে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনকে দায় নিতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে ছাত্রদল ঢাবি শাখার সভাপতি গণেশ চন্দ্র রায় সাহস, সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপনসহ ছাত্রদলের বিভিন্ন ইউনিটের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।###
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

