আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের রায় পুনর্বহালে সন্তুষ্ট বুয়েট শিক্ষার্থীরা

আবরার ফাহাদের হত্যাকাণ্ডের রায় পুনর্বহালে সন্তুষ্ট বুয়েট শিক্ষার্থীরা

বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) শিক্ষার্থী আবরার ফাহাদ হত্যা মামলায় ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর, বিচারিক আদালত ছাত্রলীগের ২০ জন সন্ত্রাসীকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করে। আজ বোরবার এই মামলায় হাইকোর্ট রায় পুনর্বহাল করেছে। এমন রায়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে বিবৃতি দিয়েছে বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা। পাশাপাশি দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই রায় কার্যকর করার দাবি জানিয়েছেন তারা।

বিজ্ঞাপন

বিবৃতিতে তারা বলেন, এই মামলাটি আমাদের সকলের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, কারণ এটি শুধু একটি বিচারিক রায় নয়, বরং ন্যায়বিচার, মানবিক মূল্যবোধ এবং ক্যাম্পাসকে সন্ত্রাসমুক্ত করার সংগ্রামের একটি মাইলফলক।

রায় পুনর্বহালে সন্তুষ্টি প্রকাশ করে শিক্ষার্থীরা আরো বলেন, ২০১৯ সালের ৭ অক্টোবর, নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের কিছু সন্ত্রাসী বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) ছাত্র আবরার ফাহাদকে নির্মমভাবে পিটিয়ে হত্যা করে। ২০২১ সালের ৮ ডিসেম্বর, বিচারিক আদালত ছাত্রলীগের ২০ জন সন্ত্রাসীকে মৃত্যুদণ্ড এবং পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড প্রদান করেন।

সম্প্রতি, এই মামলায় হাইকোর্ট ২০ জনের মৃত্যুদণ্ড ও ৫ জনের যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বহাল রেখে রায় দিয়েছেন। বিচারপতি এ কে এম আসাদুজ্জামান ও বিচারপতি সৈয়দ এনায়েত হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ আজ রোববার এই রায় ঘোষণা করেন। আমরা, বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা, এই রায়ে সন্তুষ্ট এবং দাবি করছি, এই রায় যেন দ্রুত কার্যকর করা হয়।

তবে, ৫ আগস্টের পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি মুনতাসির আল জেমির পলায়নে বুয়েট শিক্ষার্থীরা হতভম্ব হয়েছে উল্লেখ করে তারা বলেন, ফাঁসির আসামিদের স্থান হওয়ার কথা নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তার চাদরে আবৃত কনডেম সেলে। সেখান থেকে এত শীর্ষ সন্ত্রাসীর পলায়ন ন্যক্কারজনক এবং আমাদের জন্য লজ্জার। এই পলায়ন শহীদ আবরার ফাহাদের রক্তের সঙ্গে গাদ্দারি।

সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে তারা বলেন, দ্রুত খুনি মুনতাসির আল জেমিসহ বাকি সকল পলাতক আসামীকে খুঁজে বের করে আটক করতে হবে। পাশাপাশি, জেমির পলায়নকার্যে সহযোগিতাকারী প্রত্যেক ব্যক্তিকে শনাক্ত করে বিচারের আওতায় আনতে হবে। কারা কর্তৃপক্ষ ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ ব্যাপারে নিজেদের দায় কোনোভাবেই এড়াতে পারে না।

বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির নামে কোনো ধরনের সহিংসতা, অনাচার বা অপকর্মের স্থান নেই জানিয়ে এতে বলা হয়, আমরা নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের মতো সংগঠনের বিরুদ্ধে যেমন কঠোর অবস্থান নিয়েছি, তেমনি কোনো ছাত্র সংগঠনই যেন ছাত্ররাজনীতির নামে ক্যাম্পাসে সহিংসতা বা অনিয়মের আশ্রয় না নেয়, সে বিষয়ে আমরা সজাগ থাকব। বাংলাদেশ। বুয়েট ক্যাম্পাসে ছাত্ররাজনীতির নামে কোনো অপকর্মের সুযোগ দেওয়া হবে না।

আমরা বুয়েটের সাধারণ শিক্ষার্থীরা প্রকাশ্যে, গোপনে বা ছত্রছায়ায় কোনো ধরনের ছাত্ররাজনীতি বুয়েট ক্যাম্পাসে চাই না। আমরা চাই একটি শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও জ্ঞানচর্চার পরিবেশ। আমরা সকল ছাত্র সংগঠন ও সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানাই, যেন তারা ক্যাম্পাসে শান্তি ও শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সহযোগিতা করে।

বিবৃতিতে আবরার ফাহাদের আত্মার শান্তি কামনা এবং তার পরিবারকে গভীর সমবেদনা জানান শিক্ষার্থীরা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন