ঢাবিতে লুঙ্গি চুরি করতে এসে আটক বহিরাগত; শাহবাগ থানায় সোপর্দ

ঢাবিতে লুঙ্গি চুরি করতে এসে আটক বহিরাগত; শাহবাগ থানায় সোপর্দ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) মাস্টার দা সূর্যসেন হলে গভীর রাতে লুঙ্গি চুরি করতে এসে ধরা পড়েছে ইনজামাম নামের এক বহিরাগত। পরে প্রক্টরিয়াল বডির সহায়তায় শাহবাগ থানায় সোপর্দ করা হয় তাকে।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত সাড়ে তিনটা নাগাদ সূর্য সেন হলের উত্তর ব্লকে ৩১৫ নম্বর কক্ষের সামনের থেকে লুঙ্গি চুরির সময় তাকে হাতেনাতে ধরে ফেলেন শিক্ষার্থীরা। এসময় তাকে বস্তায় লুঙ্গি ঢুকাতে দেখা যায়৷ সকালে হল প্রশাসনের কাছে সোপর্দ করে শিক্ষার্থীরা।

শিক্ষার্থীদের বরাতে জানা যায়, ইনজামামকে আটক করার পরে বিভিন্ন প্রশ্ন জানতে চাওয়া হলে তার উত্তর অসংগতিপূর্ণ মনে হয়। পরে তার মোবাইল ঘাটাঘাটি করা হলে ছাত্রদলের পূরণ করা সদস্য ফর্ম, ছাত্রদলের নেতাদের সঙ্গে ছবিসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে যোগদানের তথ্য পান তারা। এসময় চুরির কথা স্বীকার করে ইনজামাম বলেন, স্যার এ এফ রহমান হলের ছাত্রদল কর্মী আল আমিন ও সানির শেল্টারে বিগত এক বছর ধরে হলে থেকে আসছিল সে। এছাড়া ৩০১ নাম্বার রুমে অবস্থানরত ছাত্রদলের নেতা কর্মীদেরকে দামি রেস্টুরেন্টে নিয়ে গিয়ে খাওয়াতো সে। পাশাপাশি, মুরাদ নামের এক লোকের কাছে চুরি করা কাপড়চোপড় বিক্রির কথা স্বীকার করে।

মোবাইল ঘেঁটে ও ইনজামামকে জিজ্ঞাসাবাদ শেষে আরো জানা যায়, সে এফ আর রহমান হলের ছাত্রদলের কয়েকজন কর্মীর সহায়তায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ছাত্রদলের রাজনীতি করার পাশাপাশি ট্যুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি বিভাগের শিক্ষার্থী দাবি করে।

এদিকে সূর্যসেন হলে হাউস টিউটরদের সাথে জিজ্ঞাসাবাদ থেকে বিকেল চারটায় সূর্যসেন হল প্রশাসনকে চুরি করেছে মর্মে মুচলেকা প্রদান করে ইনজামাম। পরে এ এফ রহমান হলের প্রাধ্যক্ষ কাজী মাহফুজুর রহমান সুপন তদন্তের স্বার্থে নিজ হলে নিয়ে আসেন।

পরে প্রক্টর অফিসের সহায়তায় ইনজামামকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করে এ এফ রহমান হল প্রশাসন। পাশাপাশি যারা তাকে হলে থাকতে সহায়তা করেছে তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়াসহ পুরো ঘটনা তদন্তে একটি কমিটি গঠনেরও কথা বলেন হল প্রাধ্যক্ষ কাজী মাহফুজুর রহমান সুপন। তিনি বলেন, বিকেলে আমরা ইনজামামকে শাহবাগ থানায় সোপর্দ করি। পুলিশ তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবে। এঘটনায় যারা জড়িত তাদেরকে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না। তার মোবাইলে ছাত্রদলের একটি ফরম পাওয়া যায়। যেটিতে পুরোপুরি মিথ্যা তথ্য দেওয়া হয়েছে। আর এটিতে সহায়তা করেছে হলের এক শিক্ষার্থী। আমরা পুরো বিষয়টা তদন্ত করবো৷

শাহবাগ থানার দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. খালিদ মনসুর বলেন, লুঙ্গি, কাপড়চোপড় ও মোবাইল চুরির কারণে একজন ছেলেকে আমাদের কাছে সোপর্দ করে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। আমরা তার বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ চালাচ্ছি। পরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিশ্ববিদ্যালয় শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন বলেন, আমি এ ঘটনা সম্পর্কে তেমন কিছু জানি না। তবে ছাত্রদলের যদি কোনো নেতাকর্মী এধরনের কাজের সাথে জড়িত থাকে তার বিরুদ্ধে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন