শাবিপ্রবিতে চার নবীন শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে র‌্যাগিং

শাবিপ্রবিতে চার নবীন শিক্ষার্থীকে আটকে রেখে র‌্যাগিং
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) প্রধান ফটক।

শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শাবিপ্রবি) ছয় সিনিয়র শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে নতুন ভর্তি হওয়া প্রথম বর্ষের চার শিক্ষার্থীকে প্রায় চার ঘণ্টা আটকে রেখে বিভিন্ন কায়দায় র‌্যাগিং দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এর মধ্যে একজনকে গামছা দিয়ে মেয়ে এবং আরেকজনকে ছেলে সাজিয়ে প্রপোজ করার অভিনয় করানোর অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় ক্যাম্পাসে তোলপাড় শুরু হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

গত সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের সৈয়দ মুজতবা আলী হল সংলগ্ন বড়গুল রিপন ছাত্রাবাসে এ ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম বর্ষের চার শিক্ষার্থীকে দীর্ঘ চার ঘণ্টা আটকে রেখে বিভিন্ন ধরনের র‌্যাগিং দেওয়া হয়। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী এক শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অফিসে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন। প্রক্টরিয়াল বডি জানিয়েছে, অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা হলেন—২০১৮-১৯ শিক্ষাবর্ষের বাংলা বিভাগের গোলজার, ২০২০-২১ শিক্ষাবর্ষের অর্থনীতি বিভাগের সোলাইমান, ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের শিল্প ও উৎপাদন প্রকৌশল বিভাগের সাব্বির, একই শিক্ষাবর্ষের পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগের মারুফ ও আবু রায়হান এবং পেট্রোলিয়াম অ্যান্ড মাইনিং ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের তীব্র।

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন—সমুদ্রবিজ্ঞান বিভাগের নাসির, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের মো. গোলাম মোর্শেদ ও শাহাদাত হোসেন সাগর এবং বাংলা বিভাগের জিয়াউর রহমান। তারা সবাই বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০২৫-২৬ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে এক ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী বলেন, ‘এক সিনিয়র শিক্ষার্থীর জন্মদিন উপলক্ষে আমাদের নিয়ে বসার কথা বলে ছয়জন সিনিয়র আমাদের র‌্যাগ দেন। প্রথমে চারজনকে বিভিন্ন ধরনের নাচ করতে বাধ্য করা হয়। এ সময় কেউ ভুল করে হাসলে তাকে পা তুলে দাঁড়িয়ে থাকতে বলা হয়। পরে বিভিন্ন ধরনের দশ রকমের কান্নার অভিনয় করানো হয়।

তিনি আরো বলেন, চেয়ারকে মেয়ে ও একজনকে ছেলে সাজিয়ে যৌন কবিতার তালে আপত্তিকর ও বিকৃত যৌন অভিনয় করানো হয়। এরপর বিভিন্ন অশালীন ও প্রাপ্তবয়স্কদের কবিতা জোরে জোরে পড়তে বলা হয়। একজনকে আপত্তিকর শব্দ বা যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ শব্দ করতেও বাধ্য করা হয়।

ভুক্তভোগী আরেক শিক্ষার্থী বলেন, আমাকে একটি চেয়ারের সামনে দাঁড় করিয়ে সেটিকে মেয়ে কল্পনা করে যৌন ইঙ্গিতপূর্ণ কবিতার তালে অভিনয় করতে বাধ্য করা হয়। আমি তখন খুবই ভেঙে পড়েছিলাম, কান্না চলে আসছিল। তবুও তারা বারবার চাপ দিচ্ছিল অভিনয় করতে। ঘটনার পর থেকে আমি মানসিকভাবে অনেক বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছি। এখনো সেই ট্রমা কাটিয়ে উঠতে পারিনি।

এ বিষয়ে অভিযুক্ত শিক্ষার্থী সোলাইমান কবিরকে কল দেওয়া হলে তিনি ফোন কেটে দেন। অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী আবু রায়হান বলেন, সেখানে উপস্থিত ছিলাম। কিন্তু যে অভিযোগগুলো আসছে, সেগুলোর কিছু হয়েছে। তবে আমি এগুলো করিনি। এগুলো করেছেন আইপি বিভাগের সাব্বির।

সাব্বিরকে কল দিয়ে অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি ফোন কেটে দেন। অভিযুক্ত আরেক শিক্ষার্থী মারুফ বলেন, আমাদের নিজেদের ঘটনা নিজেরা সমাধান করে নিয়েছি।

এ বিষয়ে প্রক্টর অধ্যাপক মোখলেসুর রহমানের বক্তব্য জানতে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।

সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক বেলাল হোসেন শিকদার সাংবাদিকদের বলেন, এ বিষয়ে আজকে আমাদের কাছে অভিযোগ এসেছে। আগামীকাল বিষয়টি নিয়ে বসে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন