শাহবাগের জুডিশিয়াল কিলিংয়ের বিচারের দাবিতে জাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

শাহবাগের জুডিশিয়াল কিলিংয়ের বিচারের দাবিতে জাবিতে বিক্ষোভ মিছিল

মব সন্ত্রাসের প্রতিবাদ ও শাহবাগের জুডিশিয়াল কিলিংয়ের বিচারের দাবিতে মধ্যরাতে বিক্ষোভ মিছিল করেছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার রাত ২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা থেকে একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়ে বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে আবার বটতলায় ফিরে আসে। পরবর্তীতে সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশ করে শিক্ষার্থীরা।

বিজ্ঞাপন

বিক্ষোভ মিছিলে ‘সন্ত্রাস করে একদল, শাহবাগী মবের দল’, ‘শাপলা হত্যার বিচার চাই, করতে হবে করতে হবে’, ‘ল তে লাকি , তুই হাসিনা তুই হাসিনা’, ‘শাহবাগীদের ঠিকানা, এই বাংলায় হবে না’, ‘শাহবাগ সন্ত্রাস করে, ইন্টেরিম কি করে’, ‘শাহবাগের কালো হাত, ভেঙে দাও গুড়িয়ে দাও’, ‘শাহবাগের বিরুদ্ধে আগুন জ্বালো একসাথে’, ইত্যাদি স্লোগান দিতে দেখা যায়।

সমাবেশে সিএসই বিভাগের ৪৯ আবর্তনের শিক্ষার্থী আলি জাকি শাহরিয়ার বলেন, ‘আমরা জানি কীভাবে এই শাহবাগ ফ্যাসিস্টদের দোসর হিসেবে কাজ করেছে। আমরা জানি তারা কীভাবে ফ্যাসিস্টদের ভিত্তিপ্রস্তর হিসেবে কাজ করেছে। আমরা এটাও দেখেছি এরা দেশে কীভাবে বিচারিক হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। আমরা অবাক হই ২৪ এর পরবর্তী সময়ে এসে কীভাবে এই লাকি আক্তার অবাধ বিচরণ করে বেড়াচ্ছে। আমরা সাধারণ শিক্ষার্থীসহ সাধারণ আপামর জনতা এই শাহবাগীদের বিচার চাই। আমরা স্পষ্ট করে বলে দিতে চাই যতদিন না এই শাহবাগীদের মূল উৎপাটন হচ্ছে, শাহবাগীদের শিরশ্ছেদ হচ্ছে ততদিন পর্যন্ত আমাদের লড়াই চলবে।’

নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের ৪৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী শোয়াইব হোসেন বলেন, ‘২০১৩ সালের শাহবাগ ২০২৫ এ এসে প্রতিষ্ঠিত হতে দিব না। বাংলাদেশের বুকে আর একটা জুডিয়াশিয়াল কিলিং হতে দিবো না। আরেকটা শাহবাগ করতে হলে আমাদের লাশের ওপর দিয়ে করতে হবে। কারা জুডিশিয়াল কিলিং এর রাস্তা তৈরি করেছিল, আমরা ভুলি নাই। এই সরকারকে বলতে চাই দ্রুত এদের বিচারের আওতায় নিয়ে আসতে হবে।’

গণিত বিভাগের ৪৯তম আবর্তনের শিক্ষার্থী সাফায়েত মীর বলেন, ‘এই শাহবাগের উত্থান ইসলাম বিদ্বেষ ও ভারতীয় ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে। এ শাহবাগ আমাদের ভাইয়ের রক্তে রঞ্জিত করেছে, রক্তের দাগ এখনো যায় নাই। জুলাই আন্দোলনের পর আমরা ভেবেছিলাম তারা শুধরাবে কিন্তু তারা শুধরাইনি। এদেরকে আমরা রাজপথে মোকাবেলা করব। আমরা রাজপথে আছি, রাজপথেই থাকবো। ২৪ এর জাহাঙ্গীরনগরের আন্দোলনকেও তারা বানচাল করতে চেয়েছিল। জাহাঙ্গীরনগরেও কিছু সুশীল শাহাবাগে যোগ দিচ্ছে। আমরা মারা যাই নাই, শহীদদের সাথে শহীদ হয় নাই, আমরা শহীদদের রেখে যাওয়া স্বপ্নকে ধারণ করে, ২৪ এর চেতনাকে ধারণ করে শাহবাগের বিরুদ্ধে আমাদের লড়াই চলবে।’

সরকার ও রাজনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী জিয়াউদ্দিন আয়ান বলেন, ‘২০১৩ সালে এই লাকি দের হাত ধরে খুনী স্বৈরাচারী হাসিনার ফ্যাসিবাদের উত্থান ঘটেছিল। আমরা ধিক্কার জানিয়ে বলতে চাই, ফ্যাসিবাদের উত্থান যারা ঘটিয়েছিল, সেই গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক লাকি পুনরায় আজ বক্তব্য দিচ্ছে, রাজপথে স্লোগান দিয়ে বেড়াচ্ছে। আমরা এর তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছি। আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, আমরা এই বাংলায় আর কোনো দিন শাহবাগ কায়েম হতে দেবো না। প্রয়োজন হয়, জীবন দেবো, তবু আর কখনো শাপলার ঘটনা ঘটতে দেবো না। অতিদ্রুত এই ফ্যাসিবাদের দোসর লাকি আক্তারকে গ্রেপ্তারের দাবি জানাচ্ছি।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন