আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের দাবিতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ হাসানের কফিন নিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন।
শুক্রবার বাদ জুমায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) রাজু ভাস্কর্যের সামনে প্রথম জানাজার পর এ মিছিল বের করে সংগঠনটি। মিছিলটি ভিসি চত্বরের দিকে প্রদক্ষিণ শেষে পরিবারের কাছে লাশটি বুঝিয়ে দেওয়া হয়।
এ সময় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী ও শহীদ হাসানের পরিবারের সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
শহীদ হাসানের বাবা মো. মনির হোসেন বলেন, আমার ছেলে গত ৫ আগস্ট হারিয়ে যায়। পরে তাকে হাসপাতাল, ক্লিনিক, কবরস্থান, আঞ্জুমানে মুফিদুল ইসলামসহ সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করি আমরা। কিন্তু কোথাও পাইনি। পাঁচ মাস পর ১২ ফেব্রুয়ারি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল (ঢামেক) মর্গে যাই। সেখানে কাপড় দেখে ছেলেকে শনাক্ত করি।
শেখ হাসিনার বিচার দাবি করে তিনি বলেন, আমি চাই আমার মতো কোনো বাবা যেন সন্তান না হারায়। আমি সরকারের কাছে ছেলে হত্যার বিচার চাই।
আগামীকাল শনিবার সকাল ১০টায় ভোলা সদরে নিজ এলাকায় দ্বিতীয় জানাজা শেষে ছেলেকে দাফন করা হবে বলেও জানান তিনি।
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক আব্দুল হান্নান মাসুদ বলেন, ছয় মাস পেরিয়ে গেলেও এখনো বিপ্লবীদের রক্ত ঝরছে, অনেকে শহীদ হচ্ছে। আওয়ামী লীগকে চিরতরে নিষিদ্ধ করতে সরকারকে আমরা আহ্বান জানাচ্ছি। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে প্রয়োজনে আরো দুই হাজার জীবন দেবো। তবু আমরা এ লড়াই চালিয়ে যাবো।
গত ৫ আগস্ট বিকেলে যাত্রাবাড়ী এলাকায় হাসানকে গুলি করে হত্যা করা হয়। তিনি গুলিস্তানের কাপ্তানবাজারে একটি দোকানে কাজ করতেন। তার লাশ অন্যদের সঙ্গে ঢামেক হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছিল। পরে ১২ ফেব্রুয়ারি তার লাশ শনাক্ত করা হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

