বিভিন্ন সময়ে একাধিক বিতর্কে জড়িয়েছেন সালমান খান। কখনও হরিণ হত্যার অভিযোগ, কখনও মাতাল অবস্থায় গাড়ি চালানো আবার কখনও বিভিন্ন তারকার সঙ্গে তর্কে জড়ানো। এছাড়াও সহ-অভিনেত্রীরাও সালমানের বিরুদ্ধে একাধিক বার অভিযোগ এনেছেন একসময়। আর এবার জানা গেল সালমান নাকি এক সময়ের ভারতের আইনে নিষিদ্ধ থাকা—মাথার তালুতে সুচ ফুটিয়ে ফুটিয়ে এক চিকি়ৎসা নিয়েছেন। তবে তিনি কী কারণে এই চিকিৎসা নিয়েছিলেন তার কারণ এবার প্রকাশ্যে এসেছে।
সালমানকে শেষ ন্যাড়া মাথায় দেখা গিয়েছিল ২০০৩ সালে মুক্তি পাওয়া ছবি ‘তেরে নাম’-এ। নায়িকা নির্ঝরার প্রেমে পাগল হয়ে কী ভাবে নিজেকে তিলে তিলে শেষ করে দেয় রাধে, সেই গল্পই দেখানো হয় সেই ছবিতে। ছবিতে এক মানসিক রোগীর চরিত্রকে জীবন্ত করে তোলেন সালমান। যদিও বলিউড পাড়ার গুঞ্জন ছিল, অভিনেতার নাকি ২০০০ সাল থেকে চুল পড়ার সমস্যা দেখা দেয়। তারকাদের কনফিডেনশিয়াল অ্যাসিস্ট্যান্ট রেশমা শেট্টী দাবি করেন, একটা সময় সালমানের নাকি সব চুল প়ড়ে যায়।
এই প্রসঙ্গেই শিল্পপতি শৈলেন্দ্র সিংহ জানান, সালমানই প্রথম যিনি ভারতে প্লেটলেট রিচ প্লাজ়মা থেরাপির চিকিৎসা করাচ্ছেন।
শৈলেন্দ্র সম্প্রতি এক পডকাস্টে জানান, তিনি অভিনেতার সঙ্গে দেখা করতে তার বাড়িতে যান। সেখানে গিয়ে প্রায় চমকে যান। শৈলেন্দ্রের কথায়, ‘আমি দেখলাম সালমান বসে বসে বিরিয়ানি খেয়ে চলেছেন। এ দিকে এক অদ্ভুত দেখতে ছেলে এসে সালমানের মাথার তালুতে একের পর এক সুচ ফুটিয়ে চলেছে। আমি সেই সময় সালমানকে দেখে চমকে যাই। ভাবছিলাম, এ কী হল সালমানের মতো নায়কের সঙ্গে? তখন সালমান শৈলেন্দ্রকে জানান, তিনি তারকা হওয়ার মূল্য দিচ্ছেন।
শৈলেন্দ্র সিংহ জানান, ওই সময় ওই ধরনের চিকিৎসা ভারতে নিষিদ্ধ ছিল। তাই তিনি ওই চিকিৎসাকে ‘বেআইনি’ বলে জানিয়েছেন।
এটা কী ধরনের থেরাপি? সেই সম্পর্কে শৈলেন্দ্র বলেন, ‘এটায় শরীর থেকে রক্ত নিয়ে বাইরে ল্যাবে সেটাকে শক্তিশালী করা হয়। এই থেরাপিতে শরীরের টিস্যু ঠিক করার কাজ হয়। এই পদ্ধতিতে, অল্প পরিমাণে রক্ত সংগ্রহ করে সেন্ট্রিফিউজে প্রক্রিয়াজাত করে প্লেটলেট আলাদা ও ঘনীভূত করা হয়। তার পরে নির্দিষ্ট স্থানে ইনঞ্জেকশন দেওয়া হয়। চুল পুনরুদ্ধারের জন্য, প্লেটলেট-রিচ প্লাজ়মা মাথার ত্বকে ইনজেক্ট করা হয়, যেখানে প্লেটলেট থেকে নিঃসৃত উৎসেচক চুলের গোড়াকে উদ্দীপিত করে, চুলের ঘনত্ব বাড়ায় এবং পুনরায় চুল গজাতে সাহায্য করে বলে মনে করা হয়।’
সূত্র: আনন্দবাজার পত্রিকা।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


