দেশের নাট্যাঙ্গন ও চলচ্চিত্রের প্রবীণ এবং গুণী অভিনেত্রী রিনা রহমান আর নেই (ইন্না লিল্লাহি ওয়া ইন্না ইলাইহি রাজিউন)। গতকাল সোমবার, ৩ আগস্ট, রাত আনুমানিক ৯টার দিকে তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। তার প্রয়াণে দেশের সংস্কৃতি ও বিনোদন অঙ্গনে এক গভীর শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
‘অভিনয়শিল্পী সংঘ বাংলাদেশ’-এর পক্ষ থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার মৃত্যুর খবরটি নিশ্চিত করা হয়েছে। জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে নানা ধরনের বার্ধক্যজনিত ও শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন।
১৯৭২ সালে 'এ বাড়ি ও বাড়ি' নাটকের মাধ্যমে মঞ্চ অভিনয়ে পা রেখেছিলেন রিনা রহমান। এরপর আর পেছন ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে। সাড়ে চার দশকেরও বেশি সময় ধরে তিনি টেলিভিশন ও চলচ্চিত্রে তার সাবলীল অভিনয় দিয়ে দর্শকনন্দিত হয়েছেন। শতাধিক একক নাটক, অসংখ্য ধারাবাহিক, টেলিফিল্ম ও চলচ্চিত্রে ভিন্ন মাত্রার চরিত্রে নিজের দক্ষতার স্বাক্ষর রেখেছেন তিনি।
তার অভিনীত সবচেয়ে কালজয়ী কাজের মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশ টেলিভিশনের (বিটিভি) ইতিহাস সৃষ্টিকারী ধারাবাহিক ‘সংশপ্তক’ (১৯৮৭)। এছাড়া জনপ্রিয় ধারাবাহিক ‘মান অভিমান’ এবং চলচ্চিত্র ‘ঠিকানা’ (১৯৯৪) ও ‘ঘানি’ (২০০৬)-তে তার অভিনয় দর্শকদের মনে চিরস্থায়ী জায়গা করে নিয়েছে।
বয়সের ভার কিংবা শারীরিক অসুস্থতা—কোনো কিছুই রিনা রহমানকে অভিনয় থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেনি। মৃত্যুর পূর্ব মুহূর্ত পর্যন্ত তিনি অভিনয়ে সক্রিয় ছিলেন। সম্প্রতি তিনি দীপ্ত টিভিতে প্রচারিত জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘পরম্পরা’-তে অভিনয় করছিলেন। শারীরিকভাবে অসুস্থ থাকা সত্ত্বেও সেটের প্রতি তার দায়িত্ববোধ ও নিবেদিত মানসিকতা তরুণ প্রজন্মের অভিনয়শিল্পীদের জন্য অনুকরণীয় হয়ে থাকবে।
প্রবীণ এই গুণী অভিনেত্রীর মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই শোবিজ অঙ্গনে শোকের আবহ তৈরি হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার সহকর্মী, বিশিষ্ট সংস্কৃতিজন ও ভক্ত-অনুরাগীরা গভীর শোক ও শ্রদ্ধা প্রকাশ করছেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

