সালমান শাহর মৃত্যু

রাজসাক্ষী রিজভীর মন্তব্যে মুখ খুললেন শাবনূর

রাজসাক্ষী রিজভীর মন্তব্যে মুখ খুললেন শাবনূর

বাংলা চলচ্চিত্রের অমর নায়ক সালমান শাহর অকাল মৃত্যু নিয়ে ফের উত্তপ্ত চলচ্চিত্রাঙ্গন। প্রায় তিন দশক পুরনো এই ঘটনায় একসময়ের রাজসাক্ষী রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের সাম্প্রতিক কিছু বিতর্কিত ও পরস্পরবিরোধী মন্তব্যের তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছেন চিত্রনায়িকা শাবনূর। রিজভীর দাবিকে 'অসত্য, বিভ্রান্তিকর ও বানোয়াট' আখ্যা দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্টে নিজের ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন তিনি।

শাবনূর জানান, ১৯৯৭ সালে আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে রিজভী ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যা করার কথা স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছিল।

বিজ্ঞাপন

দীর্ঘ পোস্টে শাবনূর লেখেন, ‘সালমান শাহর মৃত্যুকে পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড বলে যে ব্যক্তি রাজসাক্ষী হয়েছিল, তার নাম রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদ। এই ব্যক্তি অন্য একটি মামলায়, সালমান শাহর ছোট ভাই শাহরান চৌধুরীকে (বিল্টু) অপহরণের চেষ্টার অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়ার পর ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই আদালতে দেওয়া জবানবন্দিতে সালমান শাহ হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে রাজসাক্ষী হয়েছিল। ওই জবানবন্দিতে সে দাবি করে যে, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর ১২ লাখ টাকার বিনিময়ে সালমান শাহকে হত্যার পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে আরও কয়েকজনের সঙ্গে সে জড়িত ছিল। তখন সে প্রায় ৯ মাস কারাগারে বন্দী ছিল। তার নিজের ভাষ্যমতে, কারাগার থেকে জামিনে মুক্ত হওয়ার কিছুদিন পরই সে যুক্তরাজ্যে দেশান্তরিত হয়। পরবর্তীতে সেখানে অবস্থানকালে প্রকাশিত একটি ভিডিও বার্তায় সে আবারও সালমান শাহর হত্যাকাণ্ডে নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে। কিন্তু ২০১৯ সালে পিবিআইয়ের তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশের পর সময় টিভিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে সম্পূর্ণ ভিন্ন বক্তব্য দিয়ে দাবি করে, সে এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয় এবং সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছিল। আশ্চর্যের বিষয়, সালমানের মৃত্যুর দীর্ঘ ২৯ বছর পর অল্প কিছুদিন আগে ‘আরজে নীরব’ ও ‘সময় টিভি’কে দেওয়া দুটি পৃথক সাক্ষাৎকারেও সে আবার একই দাবি করে যে, সালমান শাহর মৃত্যু হত্যা নয়, বরং আত্মহত্যা। শুধু তাই নয়, সে ওই আত্মহত্যার জন্য সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীকে দায়ী করে। পাশাপাশি, প্রথমবারের মতো আমার বিরুদ্ধেও মিথ্যা অভিযোগ তোলে এবং আমাকেও ওই ঘটনার জন্য বারবার দায়ী করে কথা বলে।’

salman-shabnoor

রিজভীর এই অসঙ্গতিপূর্ণ বক্তব্যের তীব্র সমালোচনা করে শাবনূর প্রশ্ন তোলেন, একই ব্যক্তি একেক সময় একেক কথা বললে তার বক্তব্যের বিশ্বাসযোগ্যতা কোথায় থাকে?

‘একই ব্যক্তি যখন সময়ে সময়ে একই ঘটনার বিষয়ে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দেয়, তখন তার সর্বশেষ দাবির বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়েও স্বাভাবিকভাবেই গুরুতর প্রশ্ন ওঠে। গত জুলাইয়ে প্রকাশিত তার দেওয়া দুটি সাক্ষাৎকারে সে বিভিন্ন বিষয়ে আরও অনেক অসঙ্গগতিপূর্ণ, বিভ্রান্তিকর ও অসত্য বক্তব্য দিয়েছে। তার বক্তব্যগুলো পর্যালোচনা করলে সবার কাছেই সেগুলো সাংঘর্ষিক, বানোয়াট ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে মনে হবে। অতি সম্প্রতি ‘আরজে নীরব’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে রিজভী আহমেদ বলেছে, আমার প্রতি তার ভালোবাসার কথা সে কোনোদিন প্রকাশ করতে পারেনি। তবে মনে মনে নাকি আমাকে এতটাই ভালোবাসতো যে আমাকে বিয়ে পর্যন্ত করতে চেয়েছিল, এবং এখনও চায়! কিন্তু আশ্চর্যের বিষয় হলো, প্রায় একই সময়ে ‘সময় টিভি’কে দেওয়া আরেকটি সাক্ষাৎকারে সে আবার দাবি করেছে, আমি নাকি তার এক্স-গার্লফ্রেন্ড ছিলাম। শুধু তাই নয়, সে আরও দাবি করেছে যে ২০১৬ সালে আমার সঙ্গে তার বিয়ে হয়েছিল এবং ২০১৮ সালে আমাদের ডিভোর্স হয়েছে! এখন প্রশ্ন হলো, সে-তো ১৯৯৯ সাল থেকেই প্রায় ২৬-২৭ বছর ধরে যুক্তরাজ্যে বসবাস করছে এবং তার নিজের দাবি অনুযায়ী, ওই সময়ের মধ্যে বাংলাদেশেই আসেনি। অন্যদিকে, আমি ২০১৬ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে কখনোই যুক্তরাজ্যে যাইনি। তাহলে আমার সঙ্গে তার বিয়েটা কোথায় হলো? কীভাবে হলো? এর প্রমাণই-বা কী?’

শাবনূর বলেন, ‘আরও মজার বিষয় হলো, সে যে সময়ের কথা বলছে, তার অনেক আগ থেকেই আমি বিবাহিত ছিলাম। তার সঙ্গে সম্পর্ক তো দূরের কথা, তাকে আমি কখনও দেখেছি বলেও মনে পড়ে না, আমি তাকে চিনিই না। তার এসব কথা শুনে মনে হচ্ছে, আমার সঙ্গে তার বাস্তবে কোনো বিয়ে নয়, হয়তো শুধু ‘স্বপ্নের বাসর’ই হয়েছিল!’

এছাড়া সালমান শাহকে ব্ল্যাকমেইল বা তাঁর পরিবারে কুটনামি করার যে অভিযোগ রিজভী এনেছেন, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও মানহানিকর বলে দাবি করেন শাবনূর। রিজভীকে কখনোই দেখেননি জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সালমান শাহ আমার অত্যন্ত প্রিয় সহশিল্পী এবং বড় ভাইয়ের মতো ছিলেন। তাঁর মৃত্যুর সঙ্গে আমার বিন্দুমাত্র কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

হঠাৎ করে রিজভীর এমন কাল্পনিক বক্তব্য দেওয়ার পেছনে অন্য কোনো উদ্দেশ্য থাকতে পারে বলে ধারণা করছেন এই চিত্রনায়িকা। তিনি উল্লেখ করেন, মামলাটি নতুন মোড় নেওয়ায় অভিযুক্তদের প্ররোচনায় বা আর্থিক প্রলোভনে পড়ে আসল অপরাধীদের আড়াল করতেই হয়তো রিজভী এসব বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে।

সবশেষে ঘটনার সঠিক তদন্ত ও বিচারের দাবি জানান শাবনূর। তিনি বলেন, ‘আমি আন্তরিকভাবে চাই, একটি নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ তদন্তের মাধ্যমে সালমান শাহর মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটিত হোক এবং এই ঘটনায় কেউ জড়িত থাকলে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চাই।’

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন