মোহাম্মদ আল-ফাতিহর আজাপ বাহিনী

মোহাম্মদ আল-ফাতিহর আজাপ বাহিনী

১৪৫৩ সালের বসন্ত। আনাতোলিয়ার পরিবেশে যুদ্ধের পূর্বাভাস। এডির্ন থেকে কনস্টান্টিনোপলের দিকে এগিয়ে চলেছে অটোমান সাম্রাজ্যের ইতিহাসের সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী সামরিক অভিযান। ধূলিধূসরিত পথজুড়ে হাজারো সৈন্য, অশ্বারোহী, বলদের টানা বিশাল ব্রোঞ্জের কামান আর রসদবাহী দীর্ঘ কাফেলা। রজার ক্রোলির বর্ণনায় সেই অভিযাত্রা যেন এক চলমান মহাকাব্য—লাল পাগড়ি ও সাদা টুপির ঢেউ, সূর্যের আলোতে ঝিলিক দিয়ে ওঠা ধনুক, বল্লম, ঢাল ও আগ্নেয়াস্ত্র।

এই অভিযানের লক্ষ্য কনস্টান্টিনোপল—এক হাজার বছরেরও বেশি সময় ধরে ইউরোপ ও এশিয়ার সংযোগস্থলে দাঁড়িয়ে থাকা বাইজান্টাইন সাম্রাজ্যের রাজধানী। ইতিহাস সাধারণত কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের কৃতিত্ব দেয় সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদ, তার বিশাল কামান ও অভিজাত জানিসারি বাহিনীকে। কিন্তু প্রাচীরের নিচে প্রথম রক্ত ঝরানো, মৃত্যুকে আলিঙ্গন করে এগিয়ে যাওয়া মানুষগুলোর কথা খুব কমই বলা হয়।

বিজ্ঞাপন

তারা ছিল আজাপ—অবিবাহিত, দরিদ্র কৃষক পরিবারের সাধারণ তরুণ; পেশাদার সৈনিক বা সাম্রাজ্যের অভিজাত কেউ নয়। যুদ্ধের ডাক এলে লাঙল ছেড়ে অস্ত্র তুলে নিত, যুদ্ধ শেষে জীবিতরা ফিরে যেত চাষের মাঠে। কিন্তু কনস্টান্টিনোপলের প্রাচীরে তাদের কাজ ছিল শত্রুর প্রথম আঘাত সহ্য করা, প্রতিপক্ষকে ক্লান্ত করা এবং প্রয়োজনে জীবন দিয়ে জানিসারিদের বিজয়ের পথ খুলে দেওয়া।

কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের ইতিহাসে আজাপদের নাম প্রায় বিস্মৃত। অথচ অটোমান সামরিক কৌশল ও মধ্যযুগীয় যুদ্ধনীতি বুঝতে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ। তাদের গল্প বিজয়ের আড়ালে চাপা পড়ে থাকা সাধারণ মানুষের ইতিহাসও।

আজাপ বাহিনীর ইতিহাস

আজাপ নামটি এসেছে তাদের সামাজিক পরিচয় থেকে। আরবি ‘আযব’ (عزب) শব্দের অর্থ—অবিবাহিত বা কুমার। অটোমান তুর্কিতে তা রূপ নেয় আজাপ নামে। ইতিহাসবিদ হ্যালিল ইনালজিকের মতে, বাহিনীটিতে প্রধানত অবিবাহিত তরুণদের নিয়োগ দেওয়া হতো বলেই এই নামের প্রচলন ঘটে। ১৩ শতকের শেষদিকে আনাতোলিয়ায় সেলজুক সালতানাতের পতনের পর একের পর এক ছোট তুর্কি বেইলিক বা আমিরাত গড়ে ওঠে। এসব সীমান্তরাষ্ট্রের অধিকাংশেরই স্থায়ী সেনাবাহিনী ছিল না। যুদ্ধের প্রয়োজনেই তারা কৃষক, জেলে ও সীমান্তবাসী তরুণদের নিয়ে হালকা পদাতিক বাহিনী গঠন করত। সেই বাহিনীগুলোরই একটি ছিল আজাপ, যার প্রাচীনতম উল্লেখ পাওয়া যায় আইদিন আমিরাতের নথিতে। সেখানে তারা কখনো পদাতিক, কখনো নৌযোদ্ধা হিসেবে যুদ্ধ করেছে।

অটোমান সাম্রাজ্যের উত্থানের সঙ্গে সঙ্গে এই বাহিনীর গুরুত্বও বাড়তে থাকে। সুলতান ওরহান এবং পরে প্রথম মুরাদ যখন অটোমান সামরিক কাঠামোকে নতুনভাবে সাজাতে শুরু করেন, তখন পুরোনো অনিয়মিত কৃষক পদাতিক ‘ইয়ায়া’ বাহিনীর পরিবর্তে ধীরে ধীরে আরো সংগঠিত আজাপ বাহিনীকে গুরুত্ব দেওয়া হয়। কারণ, তারা ছিল দ্রুতগামী, কম ব্যয়বহুল এবং কঠিন পরিস্থিতিতে লড়াইয়ে অভ্যস্ত।

চাষের মাঠ থেকে যুদ্ধের ময়দান

অটোমান সাম্রাজ্যের শক্তির অন্যতম ভিত্তি ছিল তাদের কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক সৈন্য সংগ্রহব্যবস্থা। আজাপ বাহিনী সেই ব্যবস্থারই গুরুত্বপূর্ণ অংশ। তারা রাষ্ট্রের স্থায়ী সৈনিক ছিল না, আবার যুদ্ধের বাজারে ভাড়া করা যোদ্ধাও নয়। সাম্রাজ্যের সাধারণ প্রজাদের মধ্য থেকেই প্রয়োজনের সময় তাদের বেছে নেওয়া হতো।

আজাপ নিয়োগের পুরো প্রক্রিয়াটি ছিল আইনি কাঠামোর অধীন। পরবর্তী সময়ে সুলতান সুলাইমানের কানুননামায় এ বিষয়ে সুস্পষ্ট বিধানও যুক্ত হয়। সাম্রাজ্যের প্রতিটি সানজাক বা জেলায় নিয়োগ তদারক করতেন স্থানীয় কাজি। প্রচলিত নিয়ম অনুযায়ী, প্রতি ২০ থেকে ৩০টি করদাতা কৃষক পরিবার মিলে একজন সুস্থ, সবল ও অবিবাহিত তরুণকে যুদ্ধের জন্য মনোনীত করত। শুধু মানুষ পাঠিয়েই তাদের দায়িত্ব শেষ হতো না, ওই তরুণের পোশাক, অস্ত্র, রসদ এবং অভিযানের ব্যয়ও বহন করতে হতো।

আজাপদের সামাজিক পরিচয়ও ছিল স্বতন্ত্র। তারা জানিসারিদের থেকে সম্পূর্ণ ভিন্ন। তারা ছিল স্বাধীন মুসলিম কৃষক পরিবারের সন্তান। তারা যুদ্ধের জন্য রাষ্ট্রের ডাকে সাড়া দিত, কিন্তু তাদের পরিচয় ছিল মূলত সাধারণ প্রজা হিসেবেই। তাদের জন্য কোনো বিশাল সামরিক একাডেমি ছিল না, ছিল না বছরের পর বছর ব্যারাকজীবনও। গ্রামীণ জীবনের কঠোর পরিশ্রম, শিকার, ধনুর্বিদ্যার চর্চা এবং দৈনন্দিন শারীরিক শ্রমই ছিল তাদের প্রাথমিক প্রস্তুতি।

যুদ্ধের আহ্বান এলে তারা অস্ত্র হাতে নিত আর অভিযান শেষ হলে যারা বেঁচে ফিরত, তারা আবার ফিরে যেত নিজেদের মাঠে, খামারে কিংবা গ্রামে। যুদ্ধ ছিল তাদের কর্তব্যের অস্থায়ী অধ্যায়।

প্রথম সারির সৈনিক

আজাপদের হাতে তুলে দেওয়া হতো না কোনো নির্দিষ্ট রাজকীয় অস্ত্র। তারা নিজেদের সামর্থ্য অনুযায়ী অস্ত্র সংগ্রহ করে নিত। কারো হাতে থাকত ধনুক, কারো কোমরে বাঁকা তলোয়ার, কারো কাঁধে বল্লম কিংবা দ্বিমুখী যুদ্ধকুঠার। অশ্বারোহী বাহিনীর বিরুদ্ধে তারা ব্যবহার করত দীর্ঘ বর্শা ও কাস্তে-আকৃতির অস্ত্র। পঞ্চদশ শতকের শেষভাগে ইউরোপে আগ্নেয়াস্ত্রের প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে আজাপদের একাংশ ম্যাচলক বন্দুকও ব্যবহার শুরু করে। কিন্তু তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল গতি।

ভারী লোহার বর্ম তাদের জন্য ছিল বিলাসিতা। মই কাঁধে নিয়ে দ্রুত প্রাচীরের দিকে ছুটে যাওয়া কিংবা মুহূর্তের মধ্যে অবস্থান বদল করার জন্য তারা পরত হালকা চামড়ার জ্যাকেট। মাথায় থাকত লাল রঙের উলের ‘বোর্ক’ টুপি। যুদ্ধক্ষেত্রে এই টুপিই অনেক সময় তাদের আলাদা পরিচয় হয়ে উঠত।

অটোমান সামরিক কৌশলে আজাপদের ভূমিকা ছিল সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ। যুদ্ধের মূল আঘাত সামলানোর দায়িত্ব পড়ত তাদের ওপরই। ধ্রুপদি অটোমান যুদ্ধবিন্যাসে তারা অবস্থান নিত কামান ও জানিসারি বাহিনীর ঠিক সামনে।

যুদ্ধ শুরু হলে আজাপরা প্রথমে অবিরাম তীরবৃষ্টির মাধ্যমে শত্রুর অগ্রযাত্রা ধীর করে দিত। এরপর প্রতিপক্ষ যখন তাদের সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ত, তখন পরিকল্পিতভাবে তারা দুই পাশে সরে যেত। ঠিক সেই মুহূর্তেই সামনে উন্মুক্ত হয়ে যেত অটোমান কামানের গোলাবর্ষণ আর তার পেছন থেকে ঝাঁপিয়ে পড়ত জানিসারিরা। শত্রু বুঝে ওঠার আগেই দুই পাশ থেকে আজাপ ও সিপাহিরা ঘিরে ফেলত পুরো যুদ্ধক্ষেত্র।

কনস্টান্টিনোপলের প্রাচীরের নিচে প্রথম রক্ত

১৪৫৩ সালের ৬ এপ্রিল। বহু শতাব্দী ধরে অজেয় বলে বিবেচিত কনস্টান্টিনোপলকে চারদিক থেকে ঘিরে ফেলে সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদের বিশাল বাহিনী। প্রায় ৮০ হাজার নিয়মিত সৈন্যের পাশাপাশি সুলতানের বাহিনীতে ছিল প্রায় ২০ হাজার অনিয়মিত যোদ্ধা, তাদের বড় অংশই ছিল আজাপ পদাতিক। একই সময়ে বাহরিয়ে আজাপরা অ্যাডমিরাল বালতাওগলুর নেতৃত্বে গোল্ডেন হর্ন ও মারমারা সাগরপথ অবরুদ্ধ করে রাখে।

অবরোধের শুরু থেকেই সুলতান জানতেন, থিওডোসিয়ান প্রাচীর ভাঙা শুধু কামানের শক্তিতে সম্ভব নয়। সেই প্রাচীরের সামনে এমন এক মানবপ্রাচীর দরকার, যারা নিজেদের জীবন দিয়ে প্রতিরক্ষাকে ক্লান্ত করে তুলবে। সেই দায়িত্ব পড়ল আজাপদের কাঁধে।

১৮ এপ্রিল প্রথম বড় আক্রমণের নির্দেশ এলো। প্রায় ১৫ হাজার আজাপ সৈন্য মই কাঁধে নিয়ে প্রাচীরের দিকে এগিয়ে গেল। ওপরে প্রস্তুত ছিল বাইজান্টাইন প্রতিরক্ষাবাহিনী। তাদের হাতে পাথর, ফুটন্ত তেল, তীর ও ‘গ্রিক ফায়ার’। প্রাচীর বেয়ে ওঠার প্রতিটি চেষ্টা পরিণত হচ্ছিল নিশ্চিত মৃত্যুযাত্রায়। তবে এই আক্রমণের উদ্দেশ্য শুধু প্রাচীর জয় করা নয়; বাইজান্টাইনদের অস্ত্র, শক্তি ও মনোবল ক্ষয় করে চূড়ান্ত আক্রমণের পথ তৈরি করাও ছিল আজাপদের দায়িত্ব।

এরপর আসে ২৯ মে, ইতিহাসের বাঁক বদলে দেওয়া সেই দিন। গভীর রাতে শুরু হলো চূড়ান্ত আক্রমণ। প্রথমেই এগিয়ে গেল প্রায় ১০ হাজার আজাপ। মই কাঁধে নিয়ে তারা ছুটে গেল প্রাচীরের দিকে। জিওভান্নি জুস্তিনিয়ানির নেতৃত্বে বাইজান্টাইনরা তীব্র প্রতিরোধ গড়ে তোলে। তীর, পাথর, ফুটন্ত তেল ও গ্রিক ফায়ারের আঘাতে শত শত আজাপ পরিখায় লুটিয়ে পড়ে। কিন্তু একটি আক্রমণ-তরঙ্গ ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গেই তার পেছনে এসে দাঁড়ায় আরেকটি। ঘণ্টার পর ঘণ্টা এই নিরবচ্ছিন্ন আক্রমণে প্রতিরক্ষাবাহিনী শারীরিক ও মানসিকভাবে ক্লান্ত হয়ে পড়ে।

ঠিক তখনই সুলতান মুহাম্মদ তার সতেজ ও প্রশিক্ষিত জানিসারি বাহিনীকে এগিয়ে দেন। জুস্তিনিয়ানি গুরুতর আহত হয়ে সরে গেলে বাইজেন্টাইনদের প্রতিরক্ষায় ফাঁক তৈরি হয়। সেই সুযোগেই অটোমান বাহিনী প্রাচীর ভেদ করে নগরীতে প্রবেশ করে। কনস্টান্টিনোপলের এক হাজার বছরের ইতিহাসের যাত্রা শেষ হয়ে যায়।

সেদিন কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের পতাকা অবশ্য জানিসারিরাই উড়িয়েছিল। কিন্তু সেই পতাকা উড়ানোর পথ তৈরি করেছিল যাদের রক্ত, তাদের অধিকাংশের নাম ইতিহাস থেকে মুছে গেছে। তারা ছিল আজাপ, বিজয়ের জন্য প্রথম জীবন বিলিয়ে দেওয়া নামহীন পদাতিক।

বিজয়ের নায়ক, কিন্তু গৌরবের নয়

অটোমান সেনাবাহিনীর তিনটি প্রধান স্তম্ভ ছিল—আজাপ, জানিসারি এবং সিপাহি। তিন বাহিনীই গুরুত্বপূর্ণ ছিল, কিন্তু তাদের পরিচয়, মর্যাদা ও দায়িত্ব ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।

জানিসারিরা ছিল সালতানাতের অভিজাত ও স্থায়ী সেনা। রাজকোষ থেকে নিয়মিত বেতন পেত, শান্তিকালে রাজধানীর নিরাপত্তা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষা এবং প্রাসাদের বিভিন্ন দায়িত্বও পালন করত। যুদ্ধক্ষেত্রে তারা কেন্দ্রে অবস্থান করত।

সিপাহিরা ছিল অশ্বারোহী সামন্তযোদ্ধা। যুদ্ধের বিনিময়ে তারা পেত ‘তিমার’ নামে পরিচিত জমির অধিকার। সেই জমি থেকে কর আদায় করে নিজেদের ঘোড়া, অস্ত্র ও সামরিক প্রস্তুতির ব্যয় বহন করত। যুদ্ধের সময় তারা সাধারণত বাহিনীর দুই পাশে অবস্থান নিয়ে শত্রুকে ঘিরে ফেলত।

আজাপদের অবস্থান ছিল আলাদা। তারা ছিল করদাতা সাধারণ মানুষের সন্তান। যুদ্ধ এলে অস্ত্র হাতে নিত, যুদ্ধ শেষ হলে ফিরে যেত নিজেদের ঘরে। তাদের নির্ধারিত বেতন ছিল না, ছিল না কোনো সামন্তজমি। তাদের প্রাপ্য ছিল সামান্য ভাতা আর ভাগ্যে থাকলে যুদ্ধলব্ধ গনিমতের অংশ।

ইতিহাস যাদের নাম মনে রাখেনি

কনস্টান্টিনোপল বিজয়ের ইতিহাসে আলো পড়েছে সুলতান দ্বিতীয় মুহাম্মদের দূরদর্শিতা, অরবান নির্মিত বিশাল কামান কিংবা জানিসারিদের শৃঙ্খলার ওপর। কিন্তু সেই আলোয় আড়াল হয়ে গেছে এমন একদল মানুষের গল্প, যাদের রক্ত ছাড়া হয়তো সেই বিজয় এত দ্রুত সম্ভব হতো না। আজাপরা কখনো সাম্রাজ্যের অভিজাত ছিল না। তারা প্রাসাদের রাজনীতি জানত না, ইতিহাস লেখার ক্ষমতাও ছিল না তাদের । তারা ছিল করদাতা সাধারণ মানুষের সন্তান, যারা যুদ্ধের প্রয়োজন ফুরিয়ে গেলে আবার ফিরে যেত মাটির কাছে। হয়তো পরের মৌসুমে আবার লাঙল ধরত, অথবা আর কখনোই ফিরে আসত না।

সময়ের সঙ্গে সঙ্গে অটোমান সামরিক ব্যবস্থাও বদলে যায়। আগ্নেয়াস্ত্রের বিস্তার, জানিসারি বাহিনীর সম্প্রসারণ, সেকবানসহ নতুন পদাতিক বাহিনীর আবির্ভাবে আজাপদের গুরুত্ব ক্রমে কমতে থাকে। একসময় তারা যুদ্ধের অগ্রসারির যোদ্ধা থেকে দুর্গরক্ষী, গোলাবারুদ পরিবহনকারী কিংবা সহায়ক বাহিনীতে পরিণত হয়। সপ্তদশ শতাব্দীতে এসে প্রায় হারিয়েই যায় সেই বাহিনী, যারা একসময় সাম্রাজ্যের সবচেয়ে কঠিন দায়িত্ব পালন করেছিল। তবু সামরিক ইতিহাসে আজাপদের গুরুত্ব অস্বীকার করার উপায় নেই। আধুনিক গবেষকরা তাদের দেখেন মধ্যযুগের সামন্তভিত্তিক যুদ্ধব্যবস্থা থেকে আধুনিক পেশাদার সেনাবাহিনীতে উত্তরণের একটি গুরুত্বপূর্ণ সেতুবন্ধ হিসেবে। অটোমানরা বুঝেছিল, শুধু অভিজাত বাহিনী দিয়ে সাম্রাজ্য টিকে থাকে না; রাষ্ট্রের শক্তি নির্ভর করে সাধারণ মানুষের অংশগ্রহণের ওপরও।

ইতিহাস বিজয়ীদের নাম লিখে রাখে। কিন্তু প্রতিটি বিজয়ের নিচে চাপা পড়ে থাকে অসংখ্য নামহীন মানুষের রক্ত। কনস্টান্টিনোপলের থিওডোসিয়ান প্রাচীরও তার ব্যতিক্রম নয়। সেদিন পতাকা উড়েছিল মেহমেদ ফাতিহর। কিন্তু সেই পতাকার ছায়ায় ঘুমিয়ে আছে এমন হাজারো তরুণ, যাদের পরিচয় ইতিহাস মাত্র একটি শব্দে লিখেছে—আজাপ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন