সাম্প্রতিক সময়ে মিজেলস (হাম) টিকা ও শিশুস্বাস্থ্য নিয়ে বাংলাদেশসহ বিশ্বজুড়ে নতুন
করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আর তাই বাস্তব পরিস্থিতি ও করণীয় তুলে ধরা হলো—
বর্তমান পরিস্থিতি (বাংলাদেশ ২০২৫-২৬)
* সাম্প্রতিক রিপোর্ট অনুযায়ী দেশে আবার বেড়েছে হামের প্রাদুর্ভাব এবং ঘটছে শিশুমৃত্যুও
* ২০২৫ সালে প্রায় ৪৪% শিশু টিকার বাইরে ছিল—এটাই বড় কারণ
* হার্ড ইমিউনিটি পেতে প্রয়োজন কমপক্ষে ৯৫% শিশুর দুই ডোজ টিকা
অর্থাৎ, টিকা কাভারেজ কমে যাওয়ায় ‘ইমিউনিটি গ্যাপ’ তৈরি হয়েছে, ফলে ভাইরাস দ্রুত ছড়াচ্ছে।
মিজেলস টিকার কার্যকারিতা
* ১ ডোজ টিকা ≈ ৯৩% সুরক্ষা
* ২ ডোজ টিকা ≈৯৭% সুরক্ষা
* যারা টিকা নিয়েছে, তাদের ক্ষেত্রে রোগ হলেও সাধারণত হালকা হয়।
কেন টিকা নেওয়ার পরও কিছু শিশু আক্রান্ত হচ্ছে
১. অসম্পূর্ণ টিকা (এক ডোজ)
২. কম বয়সে সংক্রমণ (৬–৯ মাসে ঝুঁকি)
৩. ইমিউনিটি কম (অপুষ্টি, দুর্বল স্বাস্থ্য)
৪. কোল্ড চেইন সমস্যা (গ্রামীণ এলাকায়)
৫. টিকা না নেওয়া জনগোষ্ঠী বেশি
শিশুদের জন্য ঝুঁকি
মিজেলস শুধু জ্বর-র্যাশ নয়, এটি মারাত্মক হতে পারে—
* নিউমোনিয়া (সবচেয়ে বেশি মৃত্যু)
* ডায়রিয়া ও অপুষ্টি
* চোখের ক্ষতি, অন্ধত্ব
* বিরল ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের জটিলতা (SSPE)
বর্তমানে করণীয় (বাংলাদেশের প্রেক্ষাপটে)
সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ সরকার হাম রোগের বিস্তার লাভ করায় বাচ্চাদের শিডিউল টিকার বাইরে ছয় মাস বয়স থেকে পাঁচ বছর বয়স পর্যন্ত একটি করে অতিরিক্ত হামের টিকা দেওয়ার পরামর্শ এবং ইপিআই কেন্দ্রের মাধ্যমে হামের টিকা দেওয়া শুরু করেছে, যা অতিরিক্ত টিকা হিসেবে বিবেচিত হবে।
কিন্তু ইপিআই নির্ধারিত টিকা যথানিয়মে দিতে হবে।
* ৯ মাস বয়সে ১ম ডোজ
* ১৫ মাসে ২য় ডোজ (MMR)
* প্রাদুর্ভাবপূর্ণ এলাকায় ছয় মাস থেকেই বিশেষ ক্যাম্পেইন টিকা দেওয়া হচ্ছে
* শিশুর পুষ্টি নিশ্চিত করুন
* ভিটামিন A সাপোর্ট দিন (ডাক্তারের পরামর্শে)
* জ্বর/র্যাশ হলে দ্রুত চিকিৎসা নিন
গুরুত্বপূর্ণ বার্তা
* মিজেলস ‘সাধারণ রোগ’ নয়, এটি অত্যন্ত সংক্রামক
* টিকা ছাড়া আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি প্রায় ৯০–৯৫%
* টিকাই একমাত্র কার্যকর প্রতিরোধ
সংক্ষেপে
বর্তমান সমস্যা = টিকা কাভারেজ কম
সমাধান = ২ ডোজ টিকা + সচেতনতা
লক্ষ্য = ৯৫% কাভারেজ
“হাম আবার ফিরে আসছে; কারণ একটাই—টিকা না নেওয়া।
একটি টিকা আপনার শিশুকে শুধু জ্বর থেকে নয়, মৃত্যুর ঝুঁকি থেকেও বাঁচাতে পারে।
সময়মতো দুই ডোজ মিজেলস টিকা দিন—নিজের শিশুকে ও সমাজকে নিরাপদ রাখুন।”
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, পালমনোলজি বিভাগ, বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

