১২ মাস ধরেই বেতন পাচ্ছেন না বিভিন্ন সরকারি হাসপাতালের অল্টারনেটিভ মেডিকেল কেয়ার প্রকল্পের চিকিৎসকরা। প্রকল্প অনুমোদন না হওয়ায় ২০২৪ সালের জুন থেকে ২০২৫ সালের জুন পর্যন্ত বেতন পাচ্ছেন না তারা।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ২০২২ সাল পর্যন্ত পাঁচ বছরের জন্য প্রকল্পে তাদের নিয়োগ দেওয়া হয়। প্রকল্পের মেয়াদ শেষ হলে তা আরও দুই বছর অর্থাৎ ২০২৪ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়। এরইমধ্যে স্বাস্থ্য অধিদফতর তাদের চাকরি রাজস্ব খাতে স্থানান্তরের সুপারিশ করে তা বাস্তবায়নের জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে চিঠি দেওয়া হয়।
এছাড়া চিকিৎসকদের সাপোর্ট স্টাফ কম্পাউন্ডার (২০২২ সালের নিয়োগ ব্যতীত) ও হারবাল অ্যাসিস্ট্যান্টের পদগুলো রাজস্বে স্থানান্তরিত হলেও সেবার মূল চালিকাশক্তি চিকিৎসকদের পদগুলো (১৯৯৯ সালের নিয়োগ ব্যতীত) রাজস্বে স্থানান্তরিত হচ্ছে না। যা দূষ্টিকটু, মানহানীকর এবং চরম বৈষম্যের শামিল বলে মনে করছেন ইউনানী, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসকরা।
রংপুরের তারাগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার (ইউনানী) ডা. তোফাজ্জল হোসেন বলেন, পরিবার নিয়ে বেতন ছাড়া চলতে খুব সমস্যা হচ্ছে। ব্যাংক থেকে ঋণ নিয়েছিলাম সেই ঋণের কিস্তিও পরিশোধ করতে পাচ্ছি না। সবকিছু মিলিয়ে খুব অনিশ্চয়তার মধ্যে আছি আমরা। একবার শুনলাম এপ্রিলের শেষে বেতন হতে পারে। এখন জুন শেষ। বেতন কবে হবে নির্দিষ্ট করে কেউ বলতে পারছে না কিছু।
সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালের প্রভাষক ডা. মো. ইব্রাহীম বলেন, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের শেষ সময়ে আমার এই প্রজেক্টের চাকরিটা হয়। ২০২১ সালে চাকরিতে যোগদান করে এখন প্রায় ১ বছর থেকে বেতন নাই। অন্য চাকরিতে যাওয়ারও সুযোগ নাই। আমাদের রাজস্বে আত্তীকরণ করলে এতো সংশয়, সংকটে আজ থাকতে হতো না।
হোমিওপ্যাথিক অফিসার্স এসোসিয়েশনের সা. সম্পাদক ও জলঢাকা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স এর মেডিকেল অফিসার(হোমিওপ্যাথিক) ডা. মোস্তাফিজুর রহমান সোহাগ বলেন, হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা দেশের একটি জনপ্রিয় চিকিৎসা। এই চিকিৎসাকে অবহেলা করার কোন সুযোগ নেই। আমাদের দ্রুত রাজস্বে স্থানান্তর ও বকেয়া বেতন প্রদান করে করে চলমান সংকট ও বৈষম্য নিরসন করতে হবে তা না হলে আমরা দাবি আদায় করতে রাজপথে আন্দোলন করব ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অল্টারনেটিভ মেডিকেল কেয়ার প্রকল্পের ডিপিএম ডা. মির্জা লুৎফর রহমান লিটন বলেন, অল্টারনেটিভ মেডিকেল কেয়ার প্রকল্প শুধু একটি প্রকল্পই নয় বরং সরকারি ইউনানী ও আয়ুর্বেদিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, সরকারি হোমিওপ্যাথিক মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, জেলা ও উপজেলায় কর্মরত ৩৫১ জন চিকিৎসক ও দেশের ২৮% চিকিৎসা সেবা গ্রহনকারী গনমানুষের স্বাস্থ্য সেবার একটি প্লাটর্ফম। দেশে ইউনানী, আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে এই প্রকল্প ছাড়া আর তেমন কোন সরকারি উদ্যোগ নেই। তাই স্বাস্থ্য সেবার জনপ্রিয় এই প্রকল্পের সকল জনবলকে বিশেষ কারিগরি পদ বিবেচনায় রাজস্বখাতে স্থানান্তর করে দেশে ইউনানী ,আয়ুর্বেদিক ও হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসা ব্যবস্থার উন্নয়নে স্থায়ী সমাধান করতে হবে। তিনি আরও বলেন, আমরা একটি বৈষম্যহীন দেশ গড়ার নতুন যে স্বপ্ন দেখছি সেখানে যদি আমাদের সাথে এমন বৈষম্য করা হয় তাহলে জুলাই গণঅভ্যুত্থান কলঙ্কিত হবে।
বেতন কবে নাগাদ হবে জানেন না খোদ স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অল্টারনেটিভ মেডিকেল কেয়ার প্রকল্পের লাইন ডিরেক্টর ডা. মো. আবু জাহের। তিনি বলেন, অল্টারনেটিভ মেডিকেল কেয়ার প্রকল্পসহ স্বাস্থ্যের বিভিন্ন অপারেশন প্ল্যানের ২৫ হাজার কর্মী বেতন পাচ্ছেন না। কবে হবে সেটা বলাও মুশকিল।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত মহাপরিচালক (প্রশাসন) ডা. মো. রিজওয়ানুর রহমান বলেন, আমাদের অপারেশনাল প্ল্যানের যেসব অত্যাবশ্যকীয় কাজ ছিল, তার জন্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে ডিপিপি অনুমোদন হওয়ার কথা। ডিপিপি অনুমোদন হলে তখন এসব বিষয়ে সুনির্দিষ্ট করে বলা যাবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

