রিফারবিশড ফোন কেনা কি নিরাপদ

আরিফ বিন নজরুল

রিফারবিশড ফোন কেনা কি নিরাপদ

স্মার্টফোনের বাজারে এখন নতুন একটি শব্দ খুব দ্রুত জনপ্রিয় হচ্ছে—‘রিফারবিশড ফোন’। অনেকেই কম দামে ভালো ব্র্যান্ডের ফোন পাওয়ার আশায় এ ধরনের ডিভাইসের দিকে ঝুঁকছেন। বাইরে থেকে দেখতে প্রায় নতুনের মতো, দামও তুলনামূলকভাবে কম; কিন্তু প্রশ্ন হলো—রিফারবিশড ফোন আসলে কতটা নিরাপদ? কম দামে কেনা এই ফোন কি দীর্ঘ মেয়াদে সুবিধা দেয়, নাকি পরে ঝামেলার কারণ হয়ে দাঁড়ায়?

রিফারবিশড ফোন আর ব্যবহৃত (Used) ফোন এক বিষয় নয়। ব্যবহৃত ফোন সাধারণত আগের মালিক সরাসরি বিক্রি করেন, যেখানে ফোনের ভেতরের অবস্থা কেমন তা নিশ্চিত হওয়া কঠিন। অন্যদিকে রিফারবিশড ফোন সাধারণত কোম্পানি বা অনুমোদিত বিক্রেতা পরীক্ষা, মেরামত ও পরিষ্কার করে আবার বাজারে আনে। কোনো ত্রুটি থাকলে সেটি ঠিক করা হয়। অনেক ক্ষেত্রে সফটওয়্যারও নতুন করে ইনস্টল করা হয়। ফলে এটি ব্যবহৃত ফোনের তুলনায় কিছুটা বেশি নির্ভরযোগ্য হয়ে ওঠে। সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো দাম। অনেক সময় বাজারমূল্যের তুলনায় ২০ থেকে ৪০ শতাংশ কম দামে ভালো মানের ফোন পাওয়া যায়। যারা সীমিত বাজেটে প্রিমিয়াম ব্র্যান্ডের ফোন ব্যবহার করতে চান, তাদের জন্য এটি আকর্ষণীয় বিকল্প; বিশেষ করে শিক্ষার্থী। নতুন কনটেন্ট নির্মাতা বা সাধারণ ব্যবহারকারীদের কাছে রিফারবিশড ফোন অনেক সময় বাস্তবসম্মত সমাধান হয়ে ওঠে।

বিজ্ঞাপন

তবে ঝুঁকিও কম নয়। সব রিফারবিশড ফোন একই মানের হয় না। কিছু ফোনে শুধু বাহ্যিক পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা করা হয়; কিন্তু ব্যাটারি বা হার্ডওয়্যারের প্রকৃত অবস্থা আগের মতোই থেকে যায়। ফলে কয়েক মাস পর ব্যাটারি দ্রুত শেষ হওয়া, অতিরিক্ত গরম হওয়া বা ডিসপ্লে সমস্যার মতো ঝামেলা দেখা দিতে পারে। অনেক ক্ষেত্রে নিম্নমানের রিপ্লেসমেন্ট পার্টস ব্যবহার করা হয়, যা দীর্ঘ মেয়াদে পারফরম্যান্স কমিয়ে দেয়। নিরাপত্তার বিষয়টিও গুরুত্বপূর্ণ। অজানা উৎস থেকে কেনা ফোনে পুরোনো ব্যবহারকারীর ডেটা পুরোপুরি মুছে না যাওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে। আবার সফটওয়্যার পরিবর্তন করা বা আনঅফিশিয়াল রম ইনস্টল করা থাকলে নিরাপত্তা দুর্বল হয়ে যেতে পারে। তাই ফোন কেনার আগে ফ্যাক্টরি রিসেট, সফটওয়্যার আপডেট ও IMEI যাচাই করা জরুরি।

রিফারবিশড ফোন কেনার সময় সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো বিক্রেতার বিশ্বাসযোগ্যতা। অনুমোদিত বিক্রেতা বা বিশ্বস্ত দোকান থেকে কেনা হলে ঝুঁকি অনেক কমে যায়। ওয়ারেন্টি আছে কি না, ব্যাটারির অবস্থা কেমন, ফোন আগে কী ধরনের সমস্যার কারণে ফেরত গিয়েছিল—এসব তথ্য জেনে নেওয়া উচিত। শুধু কম দাম দেখে সিদ্ধান্ত নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ নয়। বর্তমানে পরিবেশগত দিক থেকেও রিফারবিশড ফোনের গুরুত্ব বাড়ছে। নতুন ফোন উৎপাদনে যে পরিমাণ ইলেকট্রনিক বর্জ্য ও পরিবেশগত চাপ তৈরি হয়, রিফারবিশড ডিভাইস ব্যবহার করলে তা কিছুটা কমানো সম্ভব। তাই এটি শুধু অর্থ সাশ্রয় নয়। বরং প্রযুক্তির পুনর্ব্যবহারের একটি অংশও। সব মিলিয়ে বলা যায়, রিফারবিশড ফোন নিরাপদ হতে পারে, যদি সেটি সঠিক উৎস থেকে এবং যাচাই করে কেনা হয়। এটি যেমন কম খরচে ভালো ডিভাইস ব্যবহারের সুযোগ দেয়, তেমনি অসচেতন সিদ্ধান্ত ভবিষ্যতে বাড়তি খরচ ও ঝুঁকির কারণও হতে পারে। তাই স্মার্ট সিদ্ধান্তই এখানে সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...