ভারি বৃষ্টিতে বাগানের যত্ন

হৃদয় আহমেদ

ভারি বৃষ্টিতে বাগানের যত্ন

বর্ষার টানা বৃষ্টি বাগানের গাছপালা যেমন সতেজ করে তোলে, তেমনি অতিবৃষ্টি ডেকে আনতে পারে নানা ধরনের সমস্যা। তাই এ সময় একটু বাড়তি যত্ন আর সঠিক পরিচর্যাই আপনার শখের বাগান সুস্থ, সতেজ ও সবল রাখতে পারে। বর্ষা যখন মুষলধারে বৃষ্টি কিংবা অতিবৃষ্টিতে রূপ নেয়, তখন যত্নে গড়ে তোলা ছাদবাগানটির একটু বাড়তি যত্নের প্রয়োজন হয়। বর্ষার পানি পেয়ে প্রকৃতি যেমন নতুন রূপ নেয়, তেমনি অতিরিক্ত পানি, স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়া আর মেঘের আড়ালে হারানো সূর্যের আলোর অভাবে এ সময় গাছের রোগবালাই, পোকামাকড়ের আক্রমণ ও ছত্রাকের সংক্রমণের মাত্রাটাও কিছুটা বাড়ে।

বর্ষায় ছাদবাগানের সঠিক পরিচর্যা ও নতুন চারা রোপণের বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ কিছু পরামর্শ নিম্নে দেওয়া হলো।

বিজ্ঞাপন

চারা রোপণের মোক্ষম সময়

বর্ষাকালে নিয়মিত বৃষ্টির ফলে মাটিতে পর্যাপ্ত রস থাকে। তাই উদ্যানতত্ত্ববিদের মতে, বর্ষা মৌসুমই চারা রোপণের উপযুক্ত সময়। তাই আপনার বাড়িতে, ছাদবাগানে কিংবা বারান্দায় নতুন চারা রোপণের এখনই সেরা সময়। নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য গাছটিকে অন্তত চার-পাঁচ দিন ছায়ার মধ্যে রাখুন।

পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা

মুষলধারে বা ভারী বৃষ্টির ফলে টবে বা ড্রামে পানি জমে যেতে পারে। তবে কোনোভাবেই পানি জমতে দেওয়া যাবে না, নিখুঁত ড্রেনেজ বা পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা রাখতে হবে। মাটিতে ভেজা ভাব থাকলে গাছে নতুন করে পানি দেওয়ার প্রয়োজন নেই। অতিরিক্ত পানিতে গাছের শিকড় পচে যেতে পারে বা এতে গাছ মারাও যেতে পারে। ফলে এ বিষয়ে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে।

বর্ষাকাল ডালপালা ছাঁটাইয়েরও উপযুক্ত সময়। এই সময়ে ডাল ছাঁটাইয়ের ফলে গাছের যে ক্ষতি বা ক্ষত হয়, গাছ তা খুব দ্রুত পূরণ করে নিতে পারে।

ভারী-বৃষ্টিতে-বাগানের-যত্ন-2

গাছ কেনা ও রোপণের বিশেষ সতর্কতা

বৃক্ষমেলা থেকে সুন্দর একটি গাছ কিনে এনেই সরাসরি ছাদে বা কড়া রোদে বপন করা যাবে না। নতুন পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার জন্য গাছটিকে অন্তত চার-পাঁচ দিন ছায়ার মধ্যে রাখতে হবে। এরপর যে টবে রোপণ করবেন, সেই টবের নিচে এক প্রস্থ লেয়ারের ইটের খোয়া বা বালু দিয়ে পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা নিশ্চিত করে তবেই চারা রোপণ করতে হবে। ভারী বৃষ্টির দিনে নতুন গাছ রোপণ না করে আকাশ পরিষ্কার হয়ে এলে তবেই রোপণ করা ভালো।

রোগাক্রান্ত ডালপালা ছাঁটাই

বাগান থেকে মরা গাছ অপসারণ

পচা বা রোগাক্রান্ত পাতা ও ডালপালা দ্রুত বিদায় করতে হবে। বর্ষাকালের একটি বড় সুবিধা হলো, এই সময়ে ডাল ছাঁটাইয়ের ফলে গাছের যে ক্ষতি বা ক্ষত হয়, গাছ তা খুব দ্রুত পূরণ করে নিতে পারে। তবে ডাল কাটার অংশটিতে ছত্রাকের সংক্রমণ ঠেকাতে সামান্য হলুদগুঁড়া বা ছত্রাকনাশক ছিটিয়ে দেওয়া ভালো।

পোকামাকড় ও ছত্রাক দমন

স্যাঁতসেঁতে আবহাওয়ায় রোগ-পোকার আক্রমণ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। তাই নিয়মিত বাগান পর্যবেক্ষণ করে দ্রুত ব্যবস্থা নিতে হবে। উদ্যানতত্ত্ববিদের পরামর্শ অনুসারে, বর্ষাকালে ছাদবাগানের পোকামাকড়ের আক্রমণের হাত থেকে রক্ষা করতে বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করতে হবে এবং নিয়মিত মাকড়নাশক ও ছত্রাকনাশক প্রয়োগ করতে হবে।

সার প্রয়োগের সঠিক নিয়ম

গাছের বৃদ্ধি ও পুষ্টির জন্য প্রয়োজনমতো জৈব বা সুষম সার ব্যবহার করতে হবে। তবে সার দেওয়ার সঠিক সময়টাও জানা জরুরি। যেকোনো ফলগাছসহ অন্যান্য অধিকাংশ গাছে সার প্রয়োগের উপযুক্ত সময় হলো বর্ষার আগে একবার এবং বর্ষার পরে আরেকবার। তাই গাছের সারা বছরের চাহিদার অনুপাতে যেই পরিমাণ সার প্রয়োজন হয়, সেই সারকে সমান দুই ভাগে ভাগ করে এক ভাগ বর্ষার শুরুতে এবং বাকি অর্ধেক ভাগ বর্ষার পরে প্রয়োগ করতে হবে।

ডেঙ্গু প্রতিরোধে বিশেষ সতর্কতা

ছাদবাগানকে সুন্দর রাখার পাশাপাশি একটি বড় দায়িত্বও রয়েছে। ছাদের বা টবের কোথাও যেন পানি জমে না থাকে, এ বিষয়ে শতভাগ সতর্ক থাকতে হবে। টবের নিচের ট্রে বা ভাঙা পাত্রে জমে থাকা স্বচ্ছ পানি এডিস মশার প্রজননক্ষেত্রে পরিণত হয়। তাই নিয়মিত ছাদ পরিষ্কার রাখলে বাগান যেমন সুরক্ষিত থাকে, তেমনি ডেঙ্গু প্রতিরোধেও তা যথেষ্ট ভূমিকা রাখে।

একটুখানি বাড়তি যত্ন আর সঠিক পরিচর্যা পেলেই বারান্দা বা ছাদবাগানটি এই বর্ষায় হয়ে উঠবে আরো সতেজ-সবুজ আর ফুল-ফলের সম্ভারে ভরপুর।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন