আসন্ন সংসদ নির্বাচনে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের মধ্যে সংঘর্ষ, সহিংসতা, উসকানিমূলক বক্তব্য এবং উত্থাপিত অনিয়মের অভিযোগের ঘটনায় আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক) গভীর উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করছে।
বৃহস্পতিবার সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠা প্রকাশ করেছে আসক।
এসব ঘটনা নির্বাচনকালীন পরিবেশকে প্রশ্নবিদ্ধ করছে এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ভয় ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি করছে, যা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের পরিপন্থী বলে মনে করেন মানবাধিকার সংগঠনটি।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ অনুযায়ী, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের ব্যক্তি ও কর্মীরা সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। গতকাল শেরপুর জেলার ঝিনাইগাতী উপজেলায় জামায়াতের স্থানীয় একজন নেতা নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে, একই ঘটনায় বিএনপিদলীয় একজন নেতা গুরুতর আহত হন। এছাড়াও সংঘর্ষে উভয়পক্ষের ৩০ জন কর্মী-সমর্থক আহত হন। বিগত কয়েকদিনে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর কর্মী-সমর্থকরা প্রতিপক্ষের হামলার শিকার হয়েছেন।
আসক জানিয়েছে, নির্বাচনি প্রচারকালে নারীদের বোরকা বা নেকাব জোরপূর্বক খুলে ফেলার একটি অভিযোগ উঠেছে, যা অত্যন্ত অনাকাঙ্ক্ষিত। নির্বাচনি কার্যক্রমে অংশগ্রহণের কারণে কোনো নাগরিককে এ ধরনের অপমান বা চাপের মুখে পড়তে যাওয়া কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। একই সঙ্গে এসব আচরণ সংবিধানে নিশ্চিত নাগরিকের সমান মর্যাদা, ধর্মীয় স্বাধীনতা এবং মতপ্রকাশের অধিকারের পরিপন্থী।
এছাড়া ভোটারদের প্রভাবিত করতে আর্থিক সুবিধা দেওয়ার চেষ্টা, প্রচারকালে ভয়ভীতি প্রদর্শন, শিষ্টাচারবিরোধী ও অশালীন ভাষার ব্যবহার এবং প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের বিরুদ্ধে বিষোদ্গার করার অভিযোগ গণমাধ্যম সূত্রে পাওয়া যাচ্ছে।
আসক মনে করে, নির্বাচন একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া, যেখানে প্রতিটি নাগরিকের ভয়মুক্ত পরিবেশে নিজ পছন্দ অনুযায়ী ভোট দেওয়ার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের সাংবিধানিক দায়িত্ব। রাজনৈতিক দল, প্রার্থী, নির্বাচন-সংশ্লিষ্ট প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সম্মিলিত দায়িত্ব হলো—এমন একটি পরিবেশ নিশ্চিত করা, যেখানে সহিংসতা, অনিয়ম, বৈষম্য ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের কোনো স্থান থাকবে না।
আসক স্পষ্টভাবে বলতে চায়, নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের সহিংসতা, উসকানি, ভোটারকে অর্থ দিয়ে প্রভাবিত করার চেষ্টা, ধর্মের অপব্যবহার এবং শিষ্টাচারবিরোধী আচরণ সম্পূর্ণরূপে অগ্রহণযোগ্য। একটি গ্রহণযোগ্য, বিশ্বাসযোগ্য ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন আয়োজনের স্বার্থে এসব ঘটনার বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিরপেক্ষ ও কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করা জরুরি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

