হামের প্রকোপ উদ্বেগজনক হারে বাড়তে থাকায় আগামীকাল রোববার থেকে সারা দেশে জরুরি ভিত্তিতে বিশেষ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করতে যাচ্ছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। টিকা কার্যক্রম পরিচালনায় রাজশাহীসহ অধিক ঝুঁকিপূর্ণ জেলাগুলোকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে।
গত ১৯ দিনে দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৫ হাজার ৭৯২ জন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এর মধ্যে ৭৭১ জন হামে আক্রান্ত, যার মধ্যে ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া সন্দেহজনক হাম রোগে মৃত্যুর সংখ্যা ৯৪। গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে যায় ৯৪৭ জন, তাদের মধ্যে ৪২ জনের হাম শনাক্ত হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অতিরিক্ত পরিচালক (প্রশাসন) অধ্যাপক ডা. মো. জাহিদ রায়হান আমার দেশকে জানিয়েছেন, আগামীকাল থেকে রাজশাহীসহ দেশের সব ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের টিকাদান কেন্দ্রগুলোতে হামের টিকা দেওয়া হবে। যেসব এলাকায় সংক্রমণের ঝুঁকি কম, সেখানে রেশনিং পদ্ধতিতে টিকা দেওয়া হবে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জরুরি এই ভ্যাকসিনেশন কর্মসূচি সফলভাবে সম্পন্ন হলে সংক্রামক রোগ হাম নিয়ন্ত্রণে আসবে।
প্রস্তুতি প্রসঙ্গে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের উপপরিচালক (ইপিআই) মোহাম্মদ শাহরিয়ার সাজ্জাদ জানান, প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিন শুক্রবার পাঠানো হয়েছে এবং সিরিঞ্জ ব্যবস্থাপনায় বিকল্প ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ফান্ডিং অর্ধেক পাওয়া গেছে, বাকি অংশ দ্রুত পাওয়ার প্রত্যাশা জানিয়ে তিনি বলেন, টিকাদানের প্রস্তুতি এখন শতভাগ সম্পন্ন।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ নিয়মিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দেওয়া প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ৩ এপ্রিল পর্যন্ত ১৯ দিনে দেশে সন্দেহজনক হামে আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৫ হাজার ৭৯২ । এই সময়ের মধ্যে সন্দেহজনক মৃত্যুর সংখ্যা ৯৪। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে নতুন করে আরো ৯৪৭ জন সন্দেহজনক হাম রোগী শনাক্ত করা হয়েছে এবং নিশ্চিতভাবে আক্রান্ত হয়েছে ৪২ জন। এ নিয়ে দেশে মোট নিশ্চিত আক্রান্ত দাঁড়িয়েছে ৭৭১ জনে এবং নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ৯।
প্রতিবেদনে দেখা যায়, চট্টগ্রাম বিভাগের কক্সবাজার জেলায় হামে মৃত্যুর হার সবচেয়ে বেশি, দুজন। বিভাগভিত্তিক পরিসংখ্যানে ৩৫৮ জন নিশ্চিত রোগী নিয়ে ঢাকা বিভাগ তালিকার শীর্ষে রয়েছে। এছাড়া রাজশাহীতে ১৯৪, চট্টগ্রামে ১০২, খুলনায় ৪১, বরিশালে ৩৮, সিলেটে ১৯, ময়মনসিংহে ১৪ এবং রংপুরে ৫ জন রোগী শনাক্ত হয়েছে ।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে আরো জানা গেছে, গত ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত হামের উপসর্গ নিয়ে সারা দেশে ৩ হাজার ৭৭৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে ২ হাজার ৫২৭ জন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে। তথ্যগত ত্রুটির কারণে ব্রাহ্মণবাড়িয়া, লক্ষ্মীপুর ও চাঁদপুর জেলা থেকে পাঁচজনের মৃত্যুর ঘটনা জাতীয় রিপোর্ট থেকে বাদ দেওয়া হলেও শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় একজনের মৃত্যুর তথ্য নতুনভাবে এ রিপোর্টে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে । ফলে এখন পর্যন্ত হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে ৯ জনের।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

