বাংলাদেশে সাধারণত জুলাই মাসেই সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়। এই মাসে গড় বৃষ্টিপাতের পরিমাণ প্রায় ৫২৩ মিলিমিটার। তবে চলতি বছরের জুলাইয়ে এখন পর্যন্ত সেই পরিমাণ বৃষ্টি হয়নি, বরং গড়ের তুলনায় তা কমই রয়েছে। এর আগের মাস জুনেও স্বাভাবিকের তুলনায় ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ কম বৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে মে মাসে সাধারণত গড় বৃষ্টিপাত ২৯৮ মিলিমিটার হয়ে থাকে। কিন্তু এবার মে মাসে বৃষ্টি হয়েছে প্রায় ৪৮৬ মিলিমিটার, যা স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বেশি।
আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির বলেন, এবার জুলাই মাসে শুধু দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বৃষ্টি হচ্ছে। ফলে জুলাই মাসে সারা দেশে গড়ে যে পরিমাণ বৃষ্টি হওয়ার কথা তা এখনো স্বাভাবিকের চেয়ে কমই হয়েছে। কেননা, আমরা দেখতে পাচ্ছি দেশের রংপুর, রাজশাহী ও ময়মনসিংহ অঞ্চলে স্বাভাবিকের চেয়ে কম বৃষ্টি হচ্ছে। বৃষ্টিপ্রবণ এলাকা সিলেটেও পরিমাণে কম বৃষ্টি। সেহেতু এবার জুলাই মাসে স্বাভাবিকের চেয়ে কম হতে পারে।
তবে চলতি মাসে ২৫ তারিখ নাগাদ গড় বৃষ্টিপাত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাস শেষে এটা বলা যাবে।
এবার জুন মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ বৃষ্টি কম হয়েছে। সবচেয়ে কম বৃষ্টি হয়েছে সিলেট বিভাগে। সিলেট সাধারণত বৃষ্টি প্রবণ এলাকা, এখানে সবচেয়ে বেশি হয়। কিন্তু গত মাসে এই বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় ৪৯ শতাংশ বৃষ্টি কম হয়েছে। আর ঢাকা বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টি কম হয়েছে ৩৩ শতাংশ।
আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক বলেন, গত কয়েকদিন ধরে দেশের বেশ কয়েকটি জেলার ওপর দিয়ে মৃদু তাপপ্রবাহ বয়ে যা্ওয়ার পর বৃহস্পতিবার সকালের দিকেই সাগরে একটি লঘুচাপ তৈরি হয়েছে। এর প্রভাবে শুক্রবার থেকে উপকূলীয় এলাকায় বেশি বৃষ্টি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। টানা বৃষ্টি ২৮ জুলাই পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে।
এদিকে বাংলাদেশ ওয়েদার অবজারভেশন টিম (বিডব্লিউওটি) জানিয়েছে, উত্তর-মধ্য বঙ্গোপসাগরে একটি লঘুচাপ সৃষ্টি হয়েছে। লঘুচাপটি ঘনীভূত হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হতে পারে।
সংস্থাটি জানায়, ধেঁয়ে আসছে দেশের দিকে প্রবল মৌসুমি বৃষ্টি বলয় ধারা। এরই মধ্যে বৃষ্টি বলয় ধারা দেশের মধ্য ও দক্ষিণ পূর্বাঞ্চলে সক্রিয় হতে শুরু করেছে। এটি আগামী ২৪-৩৬ ঘণ্টার মধ্যে দেশের ৬০-৭০ শতাংশ এলাকায় প্রথম ধাপে সক্রিয় হতে পারে। এরপর ২৬ জুলাই দক্ষিণাঞ্চল ব্যতীত বাকি এলাকায় বৃষ্টি অনেকটা কম থাকতে পারে। এরপর ২৬ জুলাই রাত থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘন্টায় বৃষ্টি বলয় ধারা পর্যায়ক্রমে দেশব্যাপী সক্রিয় হয়ে উঠতে পারে।
এটি একটি পূর্ণাঙ্গ বৃষ্টি বলয়, মানে এই বৃষ্টি বলয়ে দেশের সকল এলাকায় যথেষ্ট বৃষ্টির সম্ভাবনা আছে। এবং এই বৃষ্টি বলয়টি দেশের ১০০ শতাংশ এলাকায় কমবেশি বৃষ্টি হতে পারে। এটি চলতি বছরের ৯তম বৃষ্টি বলয় ও ৫ম মৌসূমী বৃষ্টি বলয়, যা আজ ২৪ শে জুলাই চট্টগ্রাম বিভাগ হয়ে দেশের প্রবেশ করেছে ও ২ রা অগাস্ট রংপুর হয়ে দেশ ত্যাগ করতে পারে।
প্রসঙ্গত, ২৪ ঘণ্টায় ১ থেকে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তা হালকা, ১১ থেকে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে মাঝারি, ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে মাঝারি ধরনের ভারি, ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তা ভারি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হলে সেটিকে বলা হয়ে থাকে অতিভারি বৃষ্টিপাত।
অন্যদিকে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মাঝারি তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ ধরা হয়। তাপমাত্রা ৪২-এর বেশি হলে তা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলে গণ্য হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

