মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় বৃহস্পতিবার রাজধানী ঢাকাসহ সারাদেশেই দিনভর বৃষ্টি হয়েছে। তুলনামূলকভাবে বেশি বৃষ্টি হয়েছে উপকূলীয় এলাকায় ও রাজশাহী বিভাগে। দিনভর অবিরাম বৃষ্টিতে জনজীবন থমকে যায়। আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, আগামী ৩ আগস্ট পর্যন্ত উপকূলীয় এলাকায় বৃষ্টিপাতের এ ধারা অব্যাহত থাকবে। অন্যদিকে ২ আগস্ট থেকে ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।
আবহাওয়াবিদ একেএম নাজমুল হক স্বাক্ষরিত ভারী বৃষ্টিপাতের পূর্বাভাসে বলা হয়, সক্রিয় দক্ষিণ-পশ্চিম মৌসুমি বায়ুর প্রভাবে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অনেক জায়গায় ভারী থেকে অতি ভারী বর্ষণ হতে পারে। অতি ভারী বর্ষণের কারণে চট্টগ্রাম, রাঙ্গামাটি, খাগড়াছড়ি, বান্দরবন ও কক্সবাজার জেলাসমূহের পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধ্বসের সম্ভাবনা রয়েছে। সেই সাথে ভারী বর্ষণ জনিত কারণে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম মহানগরীর কোথাও কোথাও অস্থায়ীভাবে জলাবদ্ধতা তৈরি হতে পারে।
বৃহস্পতিবার রাত ৮টার দিকে আবহাওয়াবিদ তরিফুল নেওয়াজ কবির আমার দেশকে বলেন, আগের দিনের তুলনায় শুক্রবার দেশের অন্যান্য এলাকায় বৃষ্টি কমতে পারে। তবে শনিবার থেকে ঢাকাসহ উত্তরাঞ্চলে বৃষ্টির পরিমাণ বাড়তে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টা নাগাদ, এর আগের ২৪ ঘণ্টায় সংস্থাটির ৫১টি সেন্টার এলাকায় তাপমাত্রা ও বৃষ্টিপাতের পরিমাণ রেকর্ড ও পর্যবেক্ষণে দেখা যায়, সারাদেশেই কমবেশি বৃষ্টি হলেও আগের দিনের তুলনায় চট্টগ্রাম, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা ও রাজশাহী বিভাগে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। এরমধ্যে সর্বোচ্চ কক্সবাজারের কুতুবদিয়ায় ১০১ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। এছাড়া চট্টগ্রামে ৮৪, নরসিংদীতে ৮২, যশোরে ৭৬, চট্টগ্রামের আমবাগানে ৭৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়। এদিন রাজধানীতে ৩০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।
রাজধানী ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় বুধবার রাতভর বৃষ্টির পর বৃহস্পতিবার সকাল থেকেও ঢাকায় দিনভর ঝিরি ঝিরি বৃষ্টি হয়। সারাদিন অবিরাম বৃষ্টিতে থমকে যায় নগরবাসীর স্বাভাবিক জীবনযাত্রা। বিশেষ করে বিপাকে পড়েন খেটে খাওয়া দিনমজুর, রিকশাচালক ও ফুটপাতের দোকানিরা।
দুপুরে দিকে গুলিস্তান, ইসলামপুর, নয়াবাজার, চকবাজার, সদরঘাট, পল্টন এলাকায় ফুটপাতের ছোট ছোট দোকানগুলোতে পানি জমে বিপাকে পড়েন দোকানিরা। দোকানিরা বাধ্য হয়ে পণ্য ও মালামাল বৃষ্টি থেকে রক্ষার জন্য ছাতা বা প্লাস্টিকের পলিথিন দিয়ে ঢেকে রাখতে দেখা যায়।
প্রসঙ্গত, ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তা ভারি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হলে সেটিকে বলা হয়ে থাকে অতিভারি বৃষ্টিপাত।
অন্যদিকে তাপমাত্রা ৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত থাকলে তাকে মৃদু তাপপ্রবাহ বলা হয়। তাপমাত্রা ৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তা মাঝারি তাপপ্রবাহ। তাপমাত্রা ৪০ থেকে ৪১ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস হলে তীব্র তাপপ্রবাহ ধরা হয়। তাপমাত্রা ৪২-এর বেশি হলে তা অতি তীব্র তাপপ্রবাহ বলে গণ্য হয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

