আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস, বিকাল থেকে কমবে বৃষ্টি

আবহাওয়া অধিদপ্তরের পূর্বাভাস, বিকাল থেকে কমবে বৃষ্টি

রংপুর বিভাগ ছাড়া বুধবারও সারা দেশে বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে। তবে মঙ্গলবারের চেয়ে আজ কমতে পারে। বিকাল নাগাদ লঘুচাপটি পশ্চিম দিকে সরে গেলে সারা দেশেই বৃষ্টির প্রবণতা কমতে পারে। এরপর আগামী রোববার থেকে পুনরায় বৃষ্টি বেড়ে যাওয়ার পূর্বাভাস রয়েছে।

বুধবার বেলা ১১টার দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের আবহাওয়াবিদ শাহানাজ সুলতানা এ তথ্য জানান।

বিজ্ঞাপন

তিনি জানান, সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ছয়টা নাগাদ রাজধানী ঢাকায় গত ২৪ ঘণ্টায় ৭৭ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। আর ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশের মধ্যে ফেনীতে সবচেয়ে বেশি ৩৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে।

আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, বঙ্গোপসাগরে লঘুচাপ ও মৌসুমি বায়ু—এই দুই এর প্রভাবে দুই দিন ধরে দেশের বিভিন্ন স্থানে বৃষ্টি হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম, অর্থাৎ উপকূলীয় তিন বিভাগে। এর মধ্যে ফেনীতে মঙ্গলবার সকাল ৬টা থেকে বুধবার সকাল ৬টা পর্যন্ত ৩৯৯ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে বলে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানিয়েছে।

বৃষ্টির কারণে পদ্মা, যমুনা ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি গত ২৪ ঘণ্টায় বেড়ে গেছে। আজ আরও বাড়তে পারে। মৌসুমের রেকর্ড টানা বৃষ্টিতে ফেনীর মুহুরি নদীর পানি বিপদসীমার ১৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। টানা বৃষ্টিপাত ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে নদীর পানি হঠাৎ বেড়ে গেলে ফুলগাজী ও পরশুরাম উপজেলার পাঁচটি পয়েন্টে নদী রক্ষা বাঁধে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দেয়।

বিশেষ করে ফুলগাজীর জঙ্গলঘোনা এলাকায় দুটি পয়েন্ট, গদানগর, দেড়পাড়া ও সাহেবনগর এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। এতে আশপাশের বসতঘর, কৃষিজমি ও কাঁচা রাস্তা প্লাবিত হয়ে পড়েছে। অনেক পরিবার রাতের আঁধারে ঘর ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়।

সারা রাত টানা বৃষ্টির কারণে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে ভোগান্তিতে পড়েছেন নগরবাসী।

এর আগে আবহাওয়া অধিদপ্তর জানায়, মঙ্গলবার সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ফেনীতে ৪৪৪ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড হয়। এটি চলতি বর্ষা মৌসুমে এক দিনে সর্বোচ্চ বৃষ্টির রেকর্ড। এছাড়া এদিন পটুয়ালীতে ২৪৮, লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে ২২৫, চট্টগ্রামের সন্দ্বীপে ১৬৬, ভোলায় ১৫৪, নোয়াখালীর হাতিয়ায় ১৪৪ ও কক্সবাজারের টেকনাফে ১৩৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড করা হয়।

দেশে এখন যে বৃষ্টিপাত হচ্ছে, তা থেকে বন্যা হতে পারে কিনা এ বিষয়ে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র ও আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, সেরকম কোনও সম্ভাবনা আপাতত নেই।

মঙ্গলবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের নির্বাহী প্রকৌশলী সরদার উদয় রায়হান বলেন, দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বৃষ্টিপাত হলেও প্রধান নদীগুলোর পানি বিপদসীমার নিচে দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তাই আগামী তিন দিনে বন্যার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

তবে আগামী ২৪ ঘণ্টায়ও ভারী থেকে অতিভারী বৃষ্টিপাত হবে। তাই, এই সময়ে চট্টগ্রামের প্রধান নদ-নদীর পানি বাড়তে পারে জানিয়ে তিনি বলেন, ব্রহ্মপুত্র, যমুনা, গঙ্গা, পদ্মা, সুরমা, কুশিয়ারা...কোনোটির পানি বিপদসীমা অতিক্রম করেনি।

শুধু ফেনীর মুহুরি, চট্টগ্রাম-বান্দরবানের সাঙ্গু সতর্কসীমায় প্রবাহিত হওয়ার সম্ভাবনা আছে। তবে বৃষ্টিপাত ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টায় কমে গেলে গেলে পানিও কমে যাবে।

তার মতে, আমাদের অববাহিকায় বন্যা পরিস্থিতি নেই। আসাম ত্রিপুরা, মেঘালয়, বিহার, উত্তরপ্রদেশে বন্যা নেই। এই কারণে দেশের উপকূলীয় অঞ্চলে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে।

এদিকে, আবহাওয়াবিদ আফরোজা সুলতানাও বলেন, এখন পর্যন্ত বন্যার সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না। কারণ বৃষ্টি আমাদের উত্তর দিকে হচ্ছে না, পশ্চিম দিকে হচ্ছে। তাই, বন্যার প্রবণতা কম।

মঙ্গলবার বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের সর্বশেষ পূর্বাভাসেও জানানো হয়েছে, চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী, সাঙ্গু, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীর পানি বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে, এসব নদীর পানির মাত্রা আগামী এক দিন বৃদ্ধি পেয়ে পরে স্থিতিশীল হতে পারে।

এদিকে মঙ্গলবার বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের অধীন বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র বুলেটিনে জানিয়েছে, সকল প্রধান নদ-নদীসমূহের পানি সমতল বিপদসীমার নীচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।

চট্টগ্রাম বিভাগের ফেনী, মুহরি, হালদা, সাঙ্গু ও মাতামুহুরী নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে, অপরদিকে গোমতী নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে। উক্ত নদীসমূহের পানি সমতল আগামী এক দিন বৃদ্ধি পেতে পারে এবং পরবর্তী দুই দিন স্থিতিশীল থাকতে পারে। আগামী ২৪ ঘণ্টায় মুহুরি নদী ফেনী জেলায় সতর্কসীমায় (বিপদসীমার কাছাকাছি) প্রবাহিত হতে পারে এবং নদী সংলগ্ন নিম্নাঞ্চল সাময়িকভাবে প্লাবিত হতে পারে। এই অববাহিকায় আগামী ২৪ ঘণ্টা ভারী থেকে অভিভারী ও পরবর্তী দুই দিন মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

ব্রহ্মপুত্র-যমুনা নদ-নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে; যা আগামী তিন দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে ও পরবর্তী দুই দিন হ্রাস পেতে পারে; এবং বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

গঙ্গা-পদ্মা নদীসমূহের পানি সমতল বৃদ্ধি পাচ্ছে; যা আগামী ৫ দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে; এই সময়ে নদীসমূহ বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে।

সুরমা নদীর পানি সমতল হ্রাস পাচ্ছে ও কুশিয়ারা নদীর পানি সমতল স্থিতিশীল আছে; এবং বিপদসীমার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। আগামী তিন দিন উক্ত নদীসমূহের পানি সমতল স্থিতিশীল থাকতে পারে। এই অববাহিকায় আগামী তিন দিন মাঝারি থেকে মাঝারি ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

বরিশাল, খুলনা ও চট্টগ্রাম বিভাগের উপকূলীয় নদীসমূহে স্বাভাবিকের চেয়ে বেশি উচ্চতার জোয়ার বিরাজমান আছে; যা আগামী এক দিন পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। উত্তরপশ্চিম বঙ্গোপসাগর তৎসংলগ্ন এলাকায় লঘুচাপ বিরাজমান আছে এবং এই অববাহিকায় আগামী এক দিন ভারী থেকে অতিভারী ও পরবর্তী দুই দিন মাঝারি থেকে মাঝারি-ভারী বৃষ্টিপাতের সম্ভাবনা রয়েছে।

প্রসঙ্গত, আবহাওয়া অধিদপ্তরের বৃষ্টিপাত শ্রেণিবিন্যাস অনুযায়ী, ২৪ ঘণ্টায় ১-১০ মিলিমিটার বৃষ্টিকে হালকা, ১১-২২ মাঝারি, ২৩-৪৩ মাঝারি ধরনের ভারী, ৪৪-৮৮ ভারী এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টিকে অতিভারী বৃষ্টি বলা হয়। এই হিসাবে ঢাকায় গত ২৪ ঘণ্টার ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টি ‘ভারি বৃষ্টি’ হিসেবে চিহ্নিত।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন