সিরাজগঞ্জে সর্বোচ্চ ১৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টি রেকর্ড

নিম্নচাপ সরলেও তিন বিভাগে বৃষ্টি থাকবে: আবহাওয়া অফিস

নিম্নচাপ সরলেও তিন বিভাগে বৃষ্টি থাকবে: আবহাওয়া অফিস

স্থল নিম্নচাপের প্রভাব আর মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় সোমবার থেকে সারাদেশেই কমবেশি বৃষ্টি হচ্ছে। তবে মঙ্গলবার স্থল নিম্নচাপটি সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে দুর্বল হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণাঞ্চল ও ঝাড়খন্ডের দিকে সরে গেলেও খুলনা, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগে বেশি বৃষ্টি হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

মঙ্গলবার আবহাওয়া অধিদপ্তরের ৫১টি পর‌্যবেক্ষণাগার সেন্টারের মধ্যে ছয়টি ছাড়া সবকয়টি এলাকায় বৃষ্টিপাত হওয়ার তথ্য পাওয়া হয়েছে। এরমধ্যে রাজশাহী, খুলনা ও ঢাকা বিভাগে বেশি বৃষ্টি হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ১৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে সিরাজগঞ্জের তাড়াশে। এছাড়া বগুড়ায় ১০২, রাজশাহী ৯১, মাদারীপুরে ৭৮, যশোরে ৭৮, কুষ্টিয়ার কুমারখালীতে ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়।

অন্যদিকে ভোলা, পটুয়াখালীর খেপুপাড়া, বান্দরবন, চট্টগ্রাম, চট্টগ্রামের আমবাগান ও সীতাকুণ্ড পর‌্যবেক্ষণাগার সেন্টার এলাকায় কোনো বৃষ্টিপাত হয়নি।

বুধবার থেকে বৃষ্টিপাতের প্রবণতা কিছুটা কমলেও মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় সারাদেশে কমবেশি বৃষ্টি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর।

আবহাওয়াবিদ তরিকুল নেওয়াজ কবির আমার দেশকে বলেন, স্থল নিম্নচাপটি এরই মধ্যে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে দুর্বল হয়ে ভারতের পশ্চিমবঙ্গের দক্ষিণাঞ্চল ও ঝাড়খন্ডের দিকে সরে গিয়ে অবস্থান করছে। এর প্রভাব অব্যাহত থাকায় দেশের মঙ্গলবার খুলনা, রাজশাহী ও ঢাকা বিভাগে বেশি বৃষ্টি হচ্ছে। আজ বুধবার খুলনা, রাজশাহী ও রংপুর বিভাগে বৃষ্টি অব্যাহত থাকতে থাকলেও অন্যান্য এলাকায় শুষ্ক আবহাওয়া থাকতে পারে।

তিনি আরো বলেন, স্থল নিম্নচাপটি এরই মধ্যে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়ে দুর্বল হয়ে আসায় বুধবার থেকে বৃষ্টি কমে আসতে পারে। তবে বর্ষাকাল হওয়ায় বৃষ্টি তো কমবেশি অব্যাহত থাকবেই।

মঙ্গলবার আবহাওয়া দপ্তরের এক সতর্কবার্তায় বলা হয়, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণপশ্চিম উপকূল এলাকায় অবস্থিত স্থল নিম্নচাপটি দুর্বল হয়ে সুস্পষ্ট লঘুচাপ আকারে ঝাড়খন্ড ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবস্থান করছে।

এর প্রভাবে উত্তর বঙ্গোপসাগরে বায়ুচাপের তারতম্যের আধিক্য বিরাজ করছে। উত্তর বঙ্গোপসাগর, বাংলাদেশের উপকূলীয় এলাকা ও সমুদ্র বন্দরসমূহের উপর দিয়ে দমকা কিংবা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এতে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর পুনঃ তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে। এছাড়া উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি থেকে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।

দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে রাজশাহী, পাবনা, বগুড়া, টাঙ্গাইল, ঢাকা, ফরিদপুর, কুষ্টিয়া, যশোর, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালী, কুমিল্লা, নোয়াখালী, চট্টগ্রাম এবং সিলেট অঞ্চলসমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ কিংবা দক্ষিণ-পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে বৃষ্টি কিংবা বজ্রবৃষ্টিসহ অস্থায়ীভাবে দমকা বা ঝড়ো হাওয়া বয়ে যেতে পারে।

এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে এক নম্বর পুনঃ এক নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।

এর আগে সোমবার বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া লঘুচাপটি একইদিন দুপুর ১২টার দিকে সুস্পষ্ট লঘুচাপে পরিণত হয়, পরে বিকাল ৩টার নিম্নচাপে পরিণত হয়। এর সঙ্গে মৌসুমি বায়ু সক্রিয় থাকায় সেই সময় থেকে সারাদেশেই বৃষ্টি ঝরাচ্ছে।

এদিকে মঙ্গলবার রাজধানী ঢাকায় সকালে সামান্য বৃষ্টি হলেও দুপুরের দিকে মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হয়ে বিকাল পর্যন্ত অব্যাহত ছিল। তবে সন্ধ্যার দিকে বৃষ্টি থামলেও আকাশ কালোমেঘে ঢাকা ছিল। আবহাওয়াবিদ কবির বলেন, তিনবিভাগে অতিবৃষ্টির প্রভাবে রাজধানীতেও গতকাল বৃষ্টি হয়েছে। তবে বুধবার থেকে কমতে পারে।

মঙ্গলবার দুপুর একটার পর থেকে পরবর্তী ৬ঘণ্টার আবহাওয়ার পূর্বাভাসে ঢাকা ও আশপাশের এলাকায় হালকা থেকে মাঝারি বৃষ্টি কিংবা বজ্রসহ বৃষ্টির সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে।

প্রসঙ্গত, ২৪ ঘণ্টায় ১ থেকে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তা হালকা, ১১ থেকে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে মাঝারি, ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে মাঝারি ধরনের ভারি, ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তা ভারি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হলে সেটিকে বলা হয়ে থাকে অতিভারি বৃষ্টিপাত।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন