দেশে সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয় জুলাই মাসে গড়ে ৫২৩ মিলিমিটার। এর পরই বেশি বৃষ্টি হয় জুন মাসে ৪৫৯ দশমিক ৪ মিলিমিটার। মে মাসে গড় স্বাভাবিক বৃষ্টি হয় ২৯৮ মিলিমিটার। কিন্ত এবারের চিত্র ভিন্ন মে মাসে হয়েছে ৪৮৬ মিলিমিটার। মে মাসে বৃষ্টি বাড়লেও কমেছে জুন মাসে।
জুন মাসে দেশে স্বাভাবিকের চেয়ে ১৯ দশমিক ৩ শতাংশ বৃষ্টি কম হয়েছে। সবচেয়ে কম বৃষ্টি হয়েছে সিলেট বিভাগে। সিলেট সাধারণত বৃষ্টি প্রবণ এলাকা, এখানে সবচেয়ে বেশি হয়। কিন্তু গত মাসে এই বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় ৪৯ শতাংশ বৃষ্টি কম হয়েছে। আর ঢাকা বিভাগে স্বাভাবিকের তুলনায় বৃষ্টি কম হয়েছে ৩৩ শতাংশ।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের জুলাই মাসের দীর্ঘমেয়াদি পূর্বাভাসে বলছে, জুনে কম বৃষ্টি হলেও এবার জুলাই মাসে স্বাভাবিক বৃষ্টি হতে পারে। এ ছাড়া চলতি মাসে এক থেকে তিনটি লঘুচাপ সৃষ্টি হতে পারে। এর মধ্যে একটি মৌসুমি নিম্নচাপে পরিণত হতে পারে।
আবহাওয়া অধিদপ্তরের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, গত জুন মাসের মাঝামাঝি সময়ে সাগরে একটি সুস্পষ্ট লঘুচাপ তৈরি হলে বেশ কয়েক দিন বৃষ্টি হয়। এরপর বৃষ্টি কমে আসে। এতে গত মাসে খুলনা ও বরিশাল ছাড়া অন্য ছয় বিভাগেই কম বৃষ্টি হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, চলতি মাসে দিন ও রাতের তাপমাত্রা স্বাভাবিক চেয়ে কিছুটা বেশি থাকতে পারে। ১০ থেকে ১২ দিন বিজলিসহ বজ্রবৃষ্টি হতে পারে। এছাড়া বিচ্ছিন্নভাবে তিন থেকে পাঁচটি মৃদু (৩৬ থেকে ৩৭ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) থেকে মাঝারি (৩৮ থেকে ৩৯ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস) ধরনের তাপপ্রবাহ বয়ে যেতে পারে।
আবহাওয়াবিদ শাহনাজ সুলতানা বলেন, কম বেশি সারাদেশে বৃষ্টি হচ্ছে। বর্ষাকাল হওয়ায় এ ধারা অব্যাহত থাকবে। তবে ৬ কিংবা ৭ জুলাই থেকে বৃষ্টিপাত বাড়তে পারে।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা ৬টায় আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, মৌসুমী বায়ুর অক্ষের বর্ধিতাংশ রাজস্থান, মধ্য প্রদেশ, উত্তর প্রদেশ, বিহার, গাঙ্গেয় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের দক্ষিণাঞ্চল হয়ে আসাম পর্যন্ত বিস্তৃ ত রয়েছে। এর একটি বর্ধিতাংশ উত্তর বঙ্গোপসাগর পর্যন্ত বিস্তৃত রয়েছে। মৌসুমী বায়ু বাংলাদেশের উপর মোটামুটি সক্রিয় এবং উত্তর বঙ্গোপসাগরে প্রবল অবস্থায় রয়েছে।
এতে খুলনা, বরিশাল ও চট্টগ্রাম বিভাগের অধিকাংশ জায়গায় এবং রংপুর, রাজশাহী, ঢাকা, ময়মনসিংহ ও সিলেট বিভাগের অনেক জায়গায় অস্থায়ীভাবে দমকা হাওয়াসহ হালকা থেকে
মাঝারী ধরনের বৃষ্টি ও বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। সেই সাথে সারাদেশের কোথাও কোথাও মাঝারী ধরনের ভারী থেকে ভারী বর্ষণ হতে পারে। সারাদেশে দিন এবং রাতের তাপমাত্রা সামান্য কমতে পারে।
চার সমুদ্রবন্দরে তিন নম্বর সতর্ক সংকেত জারি
দেশের চার সমুদ্রবন্দরে তিননম্বর সতর্ক সংকেত জারি করা হয়েছে। এতে উত্তর বঙ্গোপসাগরে অবস্থানরত মাছ ধরার নৌকা ও ট্রলারসমূহকে পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত উপকূলের কাছাকাছি এসে সাবধানে চলাচল করতে বলা হয়েছে।
আজ বৃহস্পতিবার আবহাওয়াবিদ হাফিজুর রহমান স্বাক্ষরিত আবহাওয়ার সতর্কবার্তায় বলা হয়, চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, মোংলা ও পায়রা সমুদ্র বন্দরসমূহকে তিন নম্বর পুনঃ তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
অপর সতর্কবার্তায় আজ বৃহস্পতিবার রাত ৩টা থেকে রাত একটা পর্যন্ত দেশের অভ্যন্তরীণ নদীবন্দর সমূহের জন্য আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়, খুলনা, বরিশাল, পটুয়াখালি, নোয়াখালি, কুমিল্লা, চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার অঞ্চল সমূহের উপর দিয়ে দক্ষিণ-পূর্ব/পূর্ব দিক থেকে ঘণ্টায় ৪৫-৬০ কিলোমিটার বেগে অস্থায়ীভাবে দমকা/ঝড়ো হাওয়াসহ বৃষ্টি/বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। এসব এলাকার নদীবন্দর সমূহকে ১ নম্বর (পুনঃ) ১ নম্বর সতর্ক সংকেত দেখাতে বলা হয়েছে।
প্রসঙ্গত, ২৪ ঘণ্টায় ১ থেকে ১০ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তা হালকা, ১১ থেকে ২২ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে মাঝারি, ২৩ থেকে ৪৩ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে মাঝারি ধরনের ভারি, ৪৪ থেকে ৮৮ মিলিমিটার বৃষ্টি হলে তা ভারি এবং ৮৮ মিলিমিটারের বেশি বৃষ্টি রেকর্ড হলে সেটিকে বলা হয়ে থাকে অতিভারি বৃষ্টিপাত।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

