আমার দেশ জনপ্রিয় বাংলা নিউজ পেপার

যদি হই সীমান্তে একা, তবু...

ড. হাসানুজ্জামান চৌধুরী

যদি হই সীমান্তে একা, তবু...

ফ্রান্জ ফ্যানোর কথা দিয়ে শুরু করি। তিনি বলেছিলেন, ‘যতবার স্বাধীনতা বিপন্ন হবে, আমরা সংশ্লিষ্ট হবোই। আমরা সাদা, কালো, হলুদ যা-ই হই না কেন। আর যতবার স্বাধীনতা রুদ্ধ হবে, আমি নিজেকে ততবার জড়িয়ে ফেলব।’ চব্বিশের বর্ষা বিপ্লবের পর এখনই, এই ৯ মাসের মধ্যেই আমাদের স্বাধীনতার সূত্র তথা বাংলাদেশ রাষ্ট্রের আমানতদারি জন-মালিকানার দাবি উবে যাচ্ছে। তাই স্বাধীনতার প্রশ্নে বে-ইনসাফি ও বেঈমানির বিরুদ্ধে আমাদের রুখে দাঁড়াতে হবে।

বিদ্যমান রাষ্ট্র ব্যবস্থার, সাংবিধানিক কাঠামোর ও শাসনব্যবস্থার চলতি অবস্থাকে খোলনলচে বদলে ফেলে নতুন রাষ্ট্রব্যবস্থা, সাংবিধানিক কাঠামো ও শাসন বন্দোবস্ত আনয়ন লক্ষ্যে সমষ্টি উদ্যোগে নয়া সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট ও নতুন চার্টার নির্মাণের মাধ্যমেই শুধু নিশ্চিত করা যেতে পারে। আমাদের বাংলাদেশে হাজার বছরের জীবনকালের শ্রেষ্ঠ সামাজিক অভিজ্ঞতা তথা একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের পরও এহেন কাঙ্ক্ষিত বদল আনা যায়নি রাজনৈতিক দল, নেতৃত্বের অযোগ্যতা ও ব্যর্থতা এবং কায়েমি স্বার্থবাদীদের বাধার কারণে। ২০২৪-এর ৩৬ জুলাই বা ৫ আগস্টের নজিরবিহীন বর্ষা বিপ্লবের মধ্য দিয়ে ওই অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষাই নতুন করে উচ্চারিত হয়েছে।

বিজ্ঞাপন

১৯৭১ আমাদের আত্মপরিচয় ও অহংকার। ২০২৪ তারই পুনঃসংগঠন ও পুনঃজাগৃতি। আমরা এ দেশের কোটি কোটি তাওহিদী জনতা লা-শরিক আল্লাহর প্রতি পূর্ণাঙ্গ ঈমান রেখে আদার ডিরেক্টেড বা অন্য পরিচালিত না হয়ে সেলফ ডিরেক্টেড বা স্বপরিচালিত হতে চাই। ওটাই আমাদের স্বাধীনতা ও নতুন বন্দোবস্তের গোড়ার মানে। আমাদের ছাত্র-জনতার অভূতপূর্ব গণঅভ্যুত্থান এবং ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও আওয়ামী-বাকশালী এস্টাবলিশমেন্টের বিরুদ্ধে নতুন এক বৈপ্লবিক আকাঙ্ক্ষা নবরূপে ব্যক্ত হয়েছে। রাষ্ট্র-সংবিধান-শাসন বন্দোবস্ত বদলে ফেলার গগনবিদারী গণ-আওয়াজের ও দাবির মধ্য দিয়ে। এটাকে হতাশার গহ্বরে যেতে দেওয়া যাবে না কোনোক্রমেই।

এতদিনের গণতন্ত্র সার্কাসের খেলোয়াড়দের নতুন করে মৌরসি পাট্টা গড়ে তোলার আগেই নতুন বন্দোবস্তের শর্তাদি নির্মাণ করতে হবে। অর্থাৎ একটা আপসাইড ডাউন বা পুরো ওলটপালট ঘটাতে হবে এক দিনের নির্বাচন নাটকের মাধ্যমে বৈতরণী পার হওয়ার আগেই। এবার গত ৫৪ বছরের প্রতারণা আর চলতে দেওয়া যাবে না, যার পাঁয়তারা নতুন করে নানা ছলায় শুরু হয়ে গেছে।

তাই সবার আগে জনগণের দাবি, ১৯৭১ আর ২০২৪-এর উচ্চারিত অথচ অপূর্ণ আকাঙ্ক্ষার বাস্তবায়ন ঘটাতে হবে। এ ক্ষেত্রে যা যা করা দরকার, তা নিম্নরূপ হতে পারে : (১) রাষ্ট্রের আমানতদারি জনমালিকানা নিশ্চিতকরণ। (২) আওয়ামী-বাকশালী দল, সংগঠন, লেজুড় অঙ্গসংগঠনগুলো এবং অন্য চিহ্নিত গণশত্রু ১৪ দলসহ যারাই ফ্যাসিবাদের সহযোগী দোসর ছিল, তাদের নিষিদ্ধকরণ, উৎখাতকরণ, সব নির্বাচনবিষয়ক নিবন্ধন বাতিলকরণ। (৩) ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগকে কোনো রাজনৈতিক দলেই ঠাঁই না দেওয়া—ভিন্ন নামে, ভিন্ন পরিচয়েও নয়। উৎকোচ নিয়ে তাদের আশ্রয় না দেওয়া, পার না করা, পুনর্বাসন না করা এবং এমন সব কাজকেই শাস্তিযোগ্য অপরাধ বলে ঘোষণা এবং তা বাস্তবায়ন করা। যারা এ ঘৃণ্য গণশত্রুতার ও দেশবিরোধিতার কাজ করেছেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করা ও ব্যবস্থা নেওয়া। (৪) মাফিয়া রানি ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনাসহ সব খুন ও গুমের নির্দেশদাতা, লুটেরা ও পাচারকারীদের এবং হিন্দুস্তানি আধিপত্যবাদের দালালদের বিচারকার্য সম্পাদন ও সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা। (৫) লুট ও পাচার করা অর্থসম্পদ ফেরত আনা এবং রাষ্ট্রীয় কোষাগারে জমা করা। (৬) খুনি-লুটেরাদের যাবতীয় দখলকৃত ও আত্মসাৎকৃত সম্পদ জব্দ এবং তাদের ব্যাংক অ্যাকাউন্ট সিল করা। (৭) বিডিআর হত্যা, হেফাজত হত্যাসহ ২০২৪-এর গণহত্যার দৃশ্যমান দৃষ্টান্তমূলক বিচার নিশ্চিত করা। (৮) ২০২৪-এর জুলাই বিপ্লবের সুস্পষ্ট, সুসমন্বিত এবং জনআকাঙ্ক্ষার উচ্চারণভিত্তিক নতুন রাষ্ট্র ও শাসন বন্দোবস্ত বাস্তবায়নার্থে মনসুন রিভোলিউশন বা জুলাই বিপ্লবের চার্টার অব সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট ঘোষণা করা। ব্যক্তিপূজা, পরিবারতন্ত্র, নেতা স্তূতি, দলদাসত্ব, দলীয়করণ, মূর্তি ও ভাস্কর্যের বেনো সয়লাব চূড়ান্তভাবে নিষিদ্ধ করা। সর্বক্ষেত্রে মানুষের মর্যাদা ও বৈষম্যহীনতা প্রতিষ্ঠা করা। অ্যাচিভমেন্টকেই ভিত্তি করা, অ্যাসক্রিপশনকে নয়। সর্বত্র মেরিটোক্রেসিকে সামনে আনা। (৯) আমলাতন্ত্র, সামরিক বাহিনী, পুলিশ, র‌্যাব, আনসার, ডিজিএফআই, এনএসআই, এসবি, ডিবি, নির্বাচন কমিশন, গণমাধ্যম, স্থানীয় প্রশাসনসহ সব প্রতিষ্ঠানে ও ক্ষেত্রে ফ্যাসিবাদের দোসরদের উৎখাত করা; গণঅভ্যুত্থানের শত্রুদের ভূমিকা নিরীক্ষা করে তাদের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা; আর উল্লিখিত সব প্রতিষ্ঠানের ব্যাপক সংস্কার ও পরিবর্তন আনয়ন করা। এ ছাড়া সামরিক বাহিনীকে সিভিল কর্তৃপক্ষের অধীনস্থকরণ এবং তাদের রাজনৈতিক সংশ্লেষ ও দলদাসত্ব নিষিদ্ধ করা।

তাদের কর্তৃক প্রাতিষ্ঠানিকভাবে বাণিজ্যিক ও ঠিকাদারি কাজ বন্ধ করা। জাতীয় স্বার্থে বৃহত্তর উন্নয়ন প্রকল্পে ও কর্মকাণ্ডে নিজেদের পেশাগত দায়িত্ব হিসেবে তারা অংশগ্রহণ করবে এবং কর্মে সংযুক্ত হবে সরকারের নির্দেশে। আমলাতন্ত্রকে নিরপেক্ষ অবস্থানে পেশাদারি মনোভাব ও নৈতিকতা নিয়ে কাজ করতে হবে। পুলিশ জনগণের প্রভু নয়, কেবলই সেবক হবে। র‌্যাব থেকে সামরিক বাহিনীর সদস্যদের সরাতে হবে। মিলিটারি কন্ট্রোল বা পুলিশ স্টেট কোনোটিই জনগণ চায় না। (১০) বাংলাদেশকে পরিপূর্ণভাবে আমানতদারি জনমালিকানাধীন এবং সুস্পষ্ট সম্মতিভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র হিসেবে গঠন করতে হবে। (১১) বাজার ব্যবস্থাপনা, অর্থনীতিতে ম্যাক্রো ও মাইক্রো লেভেলে মৌলিক কাঠামোগত, পলিসিগত ও কৌশলগত সংস্কার সাধন করতে হবে।

(১২) বৈদেশিক নীতির মৌলিক পরিবর্তন; হিন্দুস্তানের হিন্দুত্ববাদী আধিপত্য মোকাবিলা করা এবং এক ঝুড়িতে সব ডিম রাখার নীতি-কৌশল বদলাতে হবে। বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থবিষয়ক সব ক্ষেত্রে ১৯৭১ এবং ২০২৪-এর প্রকৃত আকাঙ্ক্ষার বাস্তব স্বীকৃতি দান; হিন্দুত্ববাদী আধিপত্যের সঙ্গে সব অসম চুক্তি ও সমঝোতা বাতিলকরণ; পানির ন্যায্য হিস্যা দাবি, বর্ডার কিলিং বন্ধ করা, ফেনী নদীর ওপর ব্রিজ ভেঙে দেওয়া এবং হিন্দুস্তানকে এককভাবে বিশাল জমিসহ এক্সপোর্ট প্রসেসিং জোন প্রদান করার সিদ্ধান্ত বাতিল করা; বাইলেটারালিজমের পরিবর্তে মাল্টিলেটারালিজম; পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক ও ভূকৌশলগত গভীর সম্পর্ক এবং লুক ইস্ট পলিসি গ্রহণ করতে হবে। (১৩) ফরেন এক্সচেঞ্জ রেমিট্যান্স বাড়ানোর ব্যবস্থা করা এবং রেমিট্যান্স যোদ্ধাদের সর্বাত্মক সাহায্য করা; গার্মেন্টস শিল্পের জন্য নতুন ও টেকসই বাজার সন্ধান করা।

এ ছাড়া মুসলিম দেশগুলোর সঙ্গে মুসলিম উম্মাহভিত্তিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বাড়াতে হবে। (১৪) নির্বাচনকালীন ও সুষ্ঠুভাবে ক্ষমতা হস্তান্তর নিশ্চিতকরণার্থে টার্মস অব রেফারেন্স দিয়ে শুধু সুনির্দিষ্ট সময় ও কর্মসূচি নির্ধারণকরত স্থায়ীভাবে তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। (১৫) সাংবিধানিক কাঠামোর ক্ষেত্রে আবশ্যকীয় পরিবর্তন এনে জনসম্মতির বাস্তবায়ন ঘটানো এবং গণসম্মতিভিত্তিক স্বাধীন জাতীয় ঐকমত্যনির্ভর সরকার ও শাসন প্রক্রিয়া চালু করতে হবে। (১৬) রাজনৈতিক দলগুলো নির্ধারিত আইনি কাঠামোয় এবং নিজস্ব উদ্যোগে দল অভ্যন্তরে গণতন্ত্র, নির্বাচন ও ভোট, সমালোচনা-পরামর্শ ও সংশোধনের কালচার গ্রহণ করবে।

তারা গ্রাসরুট ও বটম-আপ পলিসি গ্রহণ করবে। (১৭) বিগত ১৬ বছরের নির্যাতিতদের পাশে দাঁড়ানো; প্রকৃত সংখ্যা ও পরিচিতি নির্ধারণ-পূর্বক ২০২৪-এর বর্ষা বিপ্লবের নিহতদের স্বজনদের পাশে দাঁড়ানো ও আহতদের পুনর্বাসন জরুরি ভিত্তিতে ও স্থায়ীভাবে করতে হবে। (১৮) ১৯৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের এবং ২০২৪-এর বর্ষা বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা, উচ্চারণ ও দাবি অনুযায়ী এক বৈষম্যহীন সমাজ, রাষ্ট্র, অর্থনীতি ও জনজীবন গঠনের জন্য ভার্টিক্যাল ও হরাইজন্টাল ডিসপ্যারিটি এবং আনইভেননেস দূর করতে হবে।

(১৯) আমরা চাই সারাদেশে যেন বৈষম্যহীন অর্থনৈতিক ও সামাজিক সমমান নিশ্চিত হয়। আমরা চাই, ইনক্রিজিং জিনি কো-এফিশেন্ট দূর করতে হবে। আমরা চাই ইস্টারলিন প্যারাডক্স নিয়েই শুধু দীর্ঘকাল যেন সন্তুষ্ট থাকতে না হয়। আমরা চাই ইক্যুয়ালিটি, ইক্যুইটি, ফেয়ার ডিস্ট্রিবিউশন ও অ্যালোকেশন।

(২০) ৯২.৫ শতাংশ মানুষের দ্বীনের সর্বোচ্চ স্বীকৃতিসহ অন্য ধর্মাবলম্বীদের ন্যায্য অধিকার বাস্তবায়ন। কোরআনের সুস্পষ্ট বিপক্ষে গিয়ে ঊণজনের ফারায়েজবিরোধী দাবি; ‘শরীর যার ইচ্ছা তার’ কিংবা ইনক্লুসিভনেস নাম দিয়ে এলজিবিটিকিউর স্বীকৃতি দেওয়া, সেক্সওয়ার্কার ও শ্রমজীবী নাম দেওয়ার মাধ্যমে পতিতাবৃত্তি ছড়িয়ে দেওয়া বন্ধকরণ। (২১) রাষ্ট্র ও সাংবিধানিক সংস্কারের ঘোষণা, ব্যবস্থা গ্রহণসহ জাতীয় সাধারণ নির্বাচন আয়োজনের বন্দোবস্ত সুস্পষ্ট তারিখ নির্ধারণকরত জনসমক্ষে জানিয়ে দেওয়া বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনস্বীকার্য করণীয়।

আমরা তো পারব না ফ্যাসিবাদের দোসর দিয়ে দোসরকে মোকাবিলা করতে। আমরা দুর্বৃত্ত দিয়ে দুর্বৃত্তকে শায়েস্তা করতে পারব না। আমরা তো দুর্নীতি দিয়ে আরো বড় দুর্নীতিকে সামাল দিতে পারব না। আমরা অপরাধ দিয়ে আরো বড় অপরাধকে বন্ধ করতে পারব না। ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার দোসরদের, আওয়ামী খুনি-লুটেরা-দখলদারদের কারা সেফ এক্সিট দিয়েছে ঘুষ খেয়ে ও বিনিময় নিয়ে, তা তদন্ত করে বের করতে হবে। সেজন্যই চাই নতুন বন্দোবস্ত; খোলনলচে বদল, জুলাই বিপ্লবের চার্টার এবং এক নতুনধর্মী সোশ্যাল কন্ট্রাক্ট। আইন, নিয়ম-বিধান আর ইনসাফের প্রশ্ন তো লেবানিজ দার্শনিক কাহলিল জিবরানের মতো আমাদেরও তুলতে হবে।

যদি দাসত্ব থেকে বের হতে হয়, যদি রাষ্ট্রের আমানতদারি জনমালিকানা যথার্থভাবে ফিরে পেতে হয়, স্বাধীন মানুষের সভ্য মর্যাদাপূর্ণ জনজীবন নির্মাণ করতে হয়, তাহলে আমাদের সর্বক্ষণ সচেতন, সক্রিয় থাকতে হবে। পজিটিভ ইম্পালসকে সরিয়ে দিয়ে ক্রিয়েটিভ ইম্পালসকে প্রতিষ্ঠা দিতে হবে। আমরা নতুন রাষ্ট্র বন্দোবস্তের মাধ্যমে ডেমোনাইজেশন ও মনোপোলআইজেশনকে উৎখাত করব। আর যে কোনো মূল্যে নিশ্চিত করব এবং বন্ধ করব গণমানুষের জন্য ডিজঅনার ও ডিহিউম্যানাইজেশন। এভাবেই কেবল আসতে পারে আমাদের স্বাধীনতার এক বাস্তব সোনালি ভবিষ্যৎ। বৈষম্যহীন স্বাধীন বাংলাদেশ এ পথেই সম্ভব হতে পারে।

নেভিনসন আমাদের যেন হুঁশিয়ার করে দিয়েছেন এই বলে যে ‘স্বাধীনতা এমন একটি বিষয়, যা আমাদের নিজেদের জন্য পুনঃপুনঃ বিজয়ের মাধ্যমে আনতে হয়, অর্জন করতে হয়। এটা করতে হবে প্রতিদিন ঠিক ভালোবাসার মতো। কিন্তু আমরা স্বাধীনতা হারাচ্ছি, ঠিক যেমন আমরা ভালোবাসা হারাই। একটি বিজয়ের পর আমরা ভাবতে থাকি যে, এখন বিশ্রাম নেওয়ার সময় এবং আমরা স্বাধীনতা ভোগ করব আর কোনো লড়াই ছাড়াই... স্বাধীনতার যুদ্ধ কখনো শেষ হয় না; আর যুদ্ধক্ষেত্র কখনোই শান্ত হয়ে যায় না।’ (হেনরি উড নেভিনসন, ‘এসেজ ইন ফ্রিডম’, লন্ডন : ডার্কওয়ার্থ, ১৯০৯, পৃষ্ঠা-১৬)

অধ্যাপক (অব.), রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন