অনিঃশেষ করুণা ও অপার কৃপাময় পরম প্রভুর নামে। আজ শুক্রবার, পবিত্র জুমার দিন। সাপ্তাহিক প্রার্থনা ও ধর্মবেত্তার দিকনির্দেশনামূলক ভাষণ শোনার জন্য সম্মিলিত হওয়ার দিন। মহিমান্বিত এ উদযাপনের দিনে আমি নালায়েক মারুফ কামাল খান, সংক্ষেপে ‘খান’ আমার এ আখ্যানের সূত্রপাত করলাম। আখ্যান মানে তো কাহিনি। এ কাহিনি আজই ফুরাবে না, আর নটে গাছটিও মোড়াবে না আজই। আজ থেকে প্রতি জুমাবারেই আমি খোদা চাহেন তো পাঠকের দরবারে ফিরে ফিরে আসব যত দিন সাধ্য থাকে।
আমার বর্তমান দৈহিক অবস্থাকে ইংরেজি ভাষায় ‘ক্যানসার সার্ভাইবার’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়ে থাকে। তবে একজন আস্তিক মানুষ হিসেবে আমি অন্তস্তল থেকে গভীরভাবে বিশ্বাস করি, সার্ভাইব করা বা বেঁচে যাওয়া কিংবা সেরে ওঠা মহাপরাক্রমশালী স্রষ্টা আল্লাহ রাব্বুল আলামিনের অপরিসীম কৃপা ও করুণা ছাড়া সম্ভব নয়। কর্কট কালব্যাধি থেকে আমার মুক্তিকে আমি পরম প্রভুর এক অলৌকিক ক্রিয়া বলেই মনে করি। আর কত দিন তার করুণাধারায় নিষিক্ত হয়ে বাঁচব, জানি না। তবে নবজীবনের এ জীবনীশক্তি যে অহেতুক বা উদ্দেশ্যহীনভাবে তিনি আমায় দেননি, তা আমি বিলক্ষণ অনুধাবন ও অনুভব করি। তাই আমার সারা দেহ-মনপ্রাণ আমি সঁপেছি তার ইচ্ছের কাছে। তার বেঁধে দেওয়া পথ ও সীমানার মধ্য থেকেই আমি বাকি সময়টুকু লিখতে আর বলতে চাই। এটুকুই তো আমার সাধ্য। সূচনার এই মাহেন্দ্রক্ষণে আমি হৃদয় নিংড়ে কায়মনোবাক্যে প্রার্থনা করিÑ হে প্রভু, আমার তন্ত্রীতে বেজে উঠুক তোমার সুর। আমি যেন আমার কথা না বলি, না লিখি। আমাকে দিয়ে তুমি বলাও, লেখাও। আমি জ্ঞান চাই না, তোমার ইচ্ছার দাস হয়ে হতে চাই তোমার আওয়াজ, তোমার ভাষা। আমি যেন সত্যকে মিথ্যার সঙ্গে না মেশাই এবং জেনে-বুঝে যেন সত্যকে গোপন না করি। আখ্যানের সূচনালগ্নে সার্বভৌম অধীশ্বরের কাছে আমার যাচ্ঞা এবং গৌরচন্দ্রিকা এটুকুই। ভূমিকার অবসানে শুরু হলো আখ্যানের মূল পর্ব।
তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কা বিশ্বব্যাপী ব্যাপ্ত হয়েছিল ৬০-এর দশকে। এ আশঙ্কা তখন ভাবিত করেছিল তাবৎ দুনিয়ার গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিত্বদের। চীন-বিপ্লবের মহানায়ক মাও সেতুংকেও সে সময় এ নিয়ে মতামত দিতে হয়েছিল। স্বাধীন ভারতের নেতা জওহরলাল নেহরুর সঙ্গে বৈঠকে তিনি এ নিয়ে দীর্ঘ আলাপ করেছিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে দুর্ধর্ষ জাপানি বাহিনীর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য খ্যাত ব্রিটিশ ফিল্ড মার্শাল বার্নার্ড ল মন্টগোমারি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহ ক্ষয়ক্ষতির আশঙ্কার দিকে তার দৃষ্টি আকর্ষণ করলে মাও সেতুং বলেছিলেন, ফিল্ড মার্শাল যে আশঙ্কার কথা বলছেন ক্ষয়ক্ষতি হবে, তার চেয়েও ভয়াবহ। তিনি সেই ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ শেষ করেছিলেন যে বাক্যটিতে সেটি হলো : চীনের মাত্র ১০ কোটি লোক বেঁচে থাকবে।
মার্কিন সাংবাদিক অ্যানা লুইস স্ট্রং-এর নেওয়া যে সাক্ষাৎকারে সাম্রাজ্যবাদ ও প্রতিক্রিয়াশীলদের মাও সেতুং ‘কাগুজে বাঘ’ উপনামে আখ্যায়িত করেছিলেন, ওই বয়ানেই তিনি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধের আশঙ্কার ব্যাপারে মতামত দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ‘আমরা বিপ্লবীরা বিশ্বযুদ্ধ চাই না। তবে আমরা যুদ্ধ দিয়ে যুদ্ধ ঠেকানোর নীতিতে বিশ্বাসী। তাই আমরা বিশ্ববিপ্লবের ধারাকে এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছি। এই বিশ্ববিপ্লবের ধারাকে আমরা বিশ্বশান্তির ধারা বলে মনে করি। তবে সাম্রাজ্যবাদ চায় তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধাতে। ফলে এখন বিশ্বযুদ্ধ ও বিশ্ববিপ্লবের ধারা সমান্তরাল গতিতে এগিয়ে চলেছে। যদি বিশ্ববিপ্লবের ধারা এগিয়ে যায়, তাহলে বিশ্বযুদ্ধের ধারা পিছিয়ে যাবে। আর যদি বিশ্বযুদ্ধের ধারা এগিয়ে যায়, সাম্রাজ্যবাদীরা যদি তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ বাধিয়েই বসে, তাতেও বিপ্লবীদের ভয় পাওয়ার কিছু নেই। প্রথম বিশ্বযুদ্ধ দুনিয়ার প্রথম সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র সোভিয়েত ইউনিয়নের জন্ম দিয়েছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরিণতিতে চীনসহ পৃথিবীর এক-তৃতীয়াংশ সমাজতান্ত্রিক শিবিরে প্রবেশ করেছে। তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে বিপুল প্রাণহানি ও অপরিমেয় ক্ষয়ক্ষতির মধ্য দিয়ে হয়তো সারা দুনিয়াটাই লাল হয়ে যাবে।
মাও সেতুংয়ের কাল হয়েছে বাসি। তখনকার তাত্ত্বিকতা ও বিশ্লেষণও এখন অনেকটাই অকেজো। বৈশ্বিক সমীকরণও বদলে গেছে অনেক। পারমাণবিক নিরস্ত্রীকরণের প্রচারাভিযান ও রক্তচক্ষুকে চোখ ঠেরে অনেক হাতেই পৌঁছে গেছে নিউক্লিয়ার ওয়েপন। পরমাণু অস্ত্রশক্তির এই বিকেন্দ্রীকরণ ধ্বংসাত্মক ক্ষমতার যে ভারসাম্য সৃষ্টি করেছে, তাতে তৃতীয় মহাসমরের আশঙ্কা হয়েছে অনেকটাই প্রশমিত। ফলে এখনকার আলোচনা পয়গম্বর ইব্রাহিমের (তার ওপর শান্তিধারা বর্ষিত হোক) বংশধরদের তিনটি জ্ঞাতি ধর্মের ওপর অবতীর্ণ আসমানি কিতাবের আলোকে মধ্যপ্রাচ্যের ‘বিলাদ আশ-শাম’ (সিরিয়া, জর্দান, লেবানন, ফিলিস্তিন, ইসরাইল) অঞ্চলে আর্মাগেডন বা মালহামার (মহাযুদ্ধ) দিনক্ষণ নিয়ে। ইউক্রেন নামের স্বল্পশক্তির প্রতিবেশী দেশের ওপর অতিকায় আধুনিক রুশ সাম্রাজ্যের অধিপতি ভ্লাদিমির পুতিনের সমরাভিযানের পর তৃতীয় মহাসমর ইউরোপে শুরু হওয়ার আশঙ্কার কথা অনেকে তার স্বরে প্রচার করেন। তবে এখন সে প্রচারণাও মিইয়ে যাচ্ছে।
আন্তর্জাতিক অঙ্গন থেকে এখন চোখ ফেরাই আমাদের নিজেদের গৃহপ্রাঙ্গণে। বিশ্বযুদ্ধ ও বিশ্ববিপ্লবের ধারা পাশাপাশি এগিয়ে চলার ব্যাপারে অনেক আগে প্রয়াত মাও সেতুংয়ের কথার সূত্র ধরে বলি, বাংলাদেশে কিন্তু সমান্তরাল গতিতে এগিয়ে চলেছে বিপ্লব ও প্রতিবিপ্লবের ধারা। এর চেয়ে প্রকট সত্য এখন বাংলাদেশে নেই। আমাদের ছাত্র-তরুণরা জুলাই মাসে বুকের রক্ত ঢেলে যে ছাত্র গণঅভ্যুত্থানের সূচনা করেছিল তা, ফ্যাসিবাদবিরোধী সর্বস্তরের মানুষের অংশগ্রহণে এবং সশস্ত্র বাহিনীর দেশপ্রেমিক অংশের সমর্থনে সফল হয়। শান্তিতে নোবেল বিজয়ী অর্থনীতির শিক্ষক, গরিবের ব্যাংকার ডক্টর মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্বে অধিষ্ঠিত হয়। এরপর প্রায় পাঁচ মাস পেরিয়ে যাচ্ছে। সেই ছাত্র গণঅভ্যুত্থানকে বিপ্লবে উন্নীত করার প্রয়াস কিন্তু এখনো সফল হয়নি। বিপ্লবের পথে অগ্রসর হওয়ার ধারা খুব শিথিল ভঙ্গিতে, মন্থর গতিতে এগিয়ে চলেছে। নানাভাবে বিঘ্নিত সেই বিপ্লবের ধারার পাশাপাশি চলছে ছদ্মবেশী প্রতিবিপ্লবের ধারা। পতিত ও পলাতক ফ্যাসিবাদের দোসর ও অনুচররা ভেতরে এবং বাইরে থেকে এই প্রতিবিপ্লব সংঘটনে বারবার মরিয়া চেষ্টা চালাচ্ছে।
স্বর্গচ্যুত লুসিফার বা শয়তানের দল তাদের হারানো স্বর্গ ফিরে পেতে চায়। সেই উদ্দেশ্য হাসিলে সব ধরনের অপচেষ্টা ও চক্রান্ত তারা চালিয়ে যাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে জন মিল্টনের মহাকাব্য প্যারাডাইস লস্ট থেকে উচ্চারণ করি সেই কালজয়ী বাণী : হায় মানুষ তোমরা কত লজ্জার বস্তু! অভিশপ্ত শয়তানও শয়তানের সঙ্গে এক গভীর ঐক্যে আবদ্ধ হয়। অথচ মানুষ যুক্তিবাদী জীব হয়েও ঐক্যবদ্ধ হতে ব্যর্থ হয় পরস্পরের সঙ্গে। যদিও তারা স্রষ্টার কাছ থেকে অনুগ্রহ ও শান্তি লাভের আশ্বাস পেয়েছে। তবু তারা নিজেদের মধ্যে ঝগড়া, বিবাদ, হিংসা, শত্রুতা ও যুদ্ধবিগ্রহ করে দিন কাটায়। কিন্তু তারা জানে না তাদের নরকের শত্রুরা তাদের অলক্ষ্যে অগোচরে তাদের ধ্বংসের জন্য অপেক্ষা করছে দিনরাত।
এই গাঙ্গেয় ব-দ্বীপের মানুষ ভারী দুর্ভাগা। বারবার এত অপরিমেয় ত্যাগ ও রক্তপাতের নজির বিশ্বের আর কোনো ভূখণ্ডেই নেই। যুধ্যমান ও স্বাধীনতার জন্য লড়াইরত মানুষদের কথা বলছি না। স্বাধীনতা পাওয়া দেশগুলোর মধ্যে মানুষের মুক্তি ও উন্নয়ন ঊষালোক ছড়িয়েছে দক্ষিণ আফ্রিকায়, ভিয়েতনামে এমনকি আফগানিস্তানের গিরিকন্দরেও পৌঁছেছে নতুন ভোরের সূর্যকিরণ। স্বাধীনতা সবাইকেই এনে দিয়েছে নতুন জীবন ও পরিবর্তন। কিন্তু আমাদের এই পোড়ার দেশে? আমরা শোণিত-সমুদ্র পাড়ি দিয়ে স্বাধীনতা অর্জনের লগ্নেই হাতছাড়া হয়ে যায় আমাদের বিজয়। আমরা বন্দি হই অধীনতামূলক মিত্রতার নিগড়ে। এরপর ‘পঁচাত্তরের রক্তক্ষয়ী পটবদল এবং সৈনিক-জনতার মেলবন্ধন ফিরিয়ে আনে রাষ্ট্রীয় সার্বভৌমত্ব। কিন্তু পরিস্থিতি ফের বদলে যায় একাশি-বিরাশিতে গভীর চক্রান্তের ঘেরাটোপে। নব্বুই আমাদের গণতন্ত্র ও মুক্তির সদর রাস্তায় তুলে দিল কিন্তু আন্দোলনের নামে নাশকতা, অন্তর্ঘাত ও সন্ত্রাসের রাজনীতি ফের মাতৃভূমিকে করল বিপথগামী। দুর্নীতির সূচকে শীর্ষস্থানের তিলক আমাদের কলঙ্কিত করল। ২০০১ খ্রিস্টাব্দে দেশবাসী ভোটবিপ্লব ঘটিয়েও দুর্নীতি, জঙ্গিহানা ও লগি-বইঠার তাণ্ডব থেকে নিষ্কৃতি পেল না। সেই রাজনৈতিক সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের পথ বেয়ে হারিয়ে গেল নির্বাচন। উদগ্র ক্ষমতার লালসা নিয়ে এলো ছদ্মবেশী সেনাপতি-রাজ। ওরাও ব্যর্থ হলো সাধারণ মানুষের কাছে অগ্রহণযোগ্যতার কারণে। কিন্তু তাদের নতজানুতায় রাষ্ট্র ফের হারাল তার সার্বভৌমত্ব; শুরু হলো আধিপত্যবাদের ‘ষড়ঘোটক’-এর খুরের দাপট। আর গণতন্ত্রে ফেরার পথও তারা বন্ধ করে নির্বাচনী প্রহসনের মাধ্যমে আধিপত্যবাদের বশংবদের হাতে রাষ্ট্রক্ষমতা তুলে দিয়ে। এরপর জনগণ হারিয়ে ফেলল তাদের সব অধিকার। নির্বাচন শিকেয় উঠল। প্রহসন হয়ে উঠল আনুষ্ঠানিকতা। এরপর প্রায় সাড়ে পনেরো বছর ধরে একটানা চলেছে হত্যাযজ্ঞ, গুম-অপহরণ, মিথ্যা মামলা, জুলুম-পীড়ন, দখল-দলীয়করণ ও সীমাহীন লুটপাটের এক দুর্বিনীত নিষ্ঠুর ফ্যাসিবাদী রেজিমের দুঃশাসন। ওরা আধুনিককালের একটি রাষ্ট্রকে সামন্ততান্ত্রিক পরিত্যক্ত জমিদারিতে অধঃপতিত করে পালিয়ে গেছে ছাত্র-জনতার প্রতিরোধের মুখে। এর মাধ্যমে কি ফ্যাসিবাদের চিরবিদায় ঘটে গেছে? এর মাধ্যমে কি গণমানুষের মুক্তি হাতের নাগালে এসেছে? এর মাধ্যমে কি সফল হয়েছে রাষ্ট্রের বৈপ্লবিক পরিবর্তন? এই পরিবর্তন কি টেকসই হবে? আর কখনো কি আন্দোলন ও রক্তপাতের প্রয়োজন হবে না? এই প্রশ্নগুলোর জবাব নিশ্চিত করে দেওয়ার সময় এখনো আসেনি। কারণ আমরা এই পরিবর্তনকে এখনো বিপ্লবে উন্নীত করতে পারিনি। কারণ এখনো প্রতিবিপ্লব এই পরিবর্তনকে বদলে দিতে তৎপর। কারণ এখনো সেই ক্ষমতালিপ্সু পুরোনো রাজনীতি অস্থির হয়ে উঠেছে দেশের চেয়ে দলের বড়ত্ব প্রমাণের জন্য। কারণ যে রাজনীতি ও দলগুলো হবে রাষ্ট্রের চালিকাশক্তি সেই রাজনীতির ও দলগুলোর শুদ্ধিকরণ, সংস্কার ও আধুনিকায়নের কোনো উদ্যোগ বা অভিপ্রায় নেই। কাজেই আবারও সেই ‘ব্যাক টু স্কোয়ার ওয়ান’-এর আশঙ্কা এখনো দূর হয়নি। এতসব আশঙ্কা ও হতাশার মধ্যেও আমরা তারুণ্যের দিকে চোখ ফেরালে আশার দীপ্তি দেখি। ওদের মিলিত কণ্ঠে শুনতে পাই সেই সামগান :
ভবিষ্যতের লক্ষ আশা
মোদের মাঝে সন্তরে,
ঘুমিয়ে আছে শিশুর পিতা
সব শিশুরই অন্তরে।
আকাশ-আলোর আমরা সুত,
নূতন বাণীর অগ্রদূত,
কতই কি যে করবো মোরা
নাইকো তার অন্ত-রে।
লেখক : সিনিয়র সাংবাদিক ও লেখক
ই-মেইল : mrfshl@gmail.com
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

