ফ্যাসিস্ট মুজিব ও ফ্যাসিস্ট হাসিনা উভয়ের গণশত্রুমূলক কুশাসনের অন্যতম বৈশিষ্ট্য ছিল লিনচিং কালচার। অর্থাৎ নির্বিচার হত্যা—শত্রু ভাবলেই নিধন, বিরোধী নিকেশ করা, লটকে দেওয়া, গুলি-ছুরি ব্যবহার করে নির্মমভাবে খুন করা, খুঁচিয়ে খুঁচিয়ে হত্যা করা, লাঠিপেটা করে হত্যা করা, চাপাতি দিয়ে কুপিয়ে হত্যা করা, টুকরো টুকরো করে হত্যা করা প্রভৃতি। এসবই বাপ-বেটির ফ্যাসিবাদের মূল ক্ষমাহীন কুকর্ম। মুজিব আমলে এভাবেই সিরাজ শিকদারকে হাত-পা বাঁধা অবস্থায় জোড়া লাথি মেরে এবং বুকে গুলি করে হত্যা করার পর ‘পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টাকালে গুলিতে নিহত’—এমন নির্জলা মিথ্যা কাহিনি শোনানো হয়েছিল। পরে ময়নাতদন্তের পর দেখা গিয়েছিল, সরাসরি সামনে থেকে গুলি করে মারা হয়েছে। কিন্তু কেউ সেদিন মুজিবের এই নৃশংসতার বিরুদ্ধে ভয়ে কিছুই বলতে পারেনি।
অথচ মুজিব জাতীয় সংসদে নিজের বক্তৃতায় দম্ভভরে উচ্চারণ করেছিলেন, ‘কোথায় আজ সিরাজ শিকদার?’ এভাবেই আবদুল কাদের সিদ্দিকী ঢাকা স্টেডিয়ামে অসংখ্য মানুষের সামনে বেয়নেট দিয়ে খুঁচিয়ে চারজনকে হত্যা করার পরও এত বড় লিনচিংকে ফ্যাসিস্ট মুজিব নিষ্ক্রিয় থেকে প্রশ্রয় দিয়েছিলেন। তদুপরি ওরিয়ানা ফাল্লাচির সঙ্গে সাক্ষাৎকারে এই প্রকাশ্য লিনচিংকে ফ্যাসিস্ট মুজিব জাস্টিফাই করার অপপ্রয়াস চালিয়েছিলেন। ফাল্লাচি যখন শেখ মুজিবকে এ ব্যাপারে ‘বর্বর অন্যায় সংঘটিত হয়েছে এবং কোনো বিচার হয়নি’ বলে বারংবার উল্লেখ করে প্রশ্ন করছিলেন, তখন মুজিব তার ওপর মারাত্মকভাবে ক্ষেপে গিয়ে অশালীন আচরণ করেন। মুজিব একপর্যায়ে গালাগাল ও হুমকি দিতে থাকেন। ফাল্লাচি মুজিবকে বারংবার বলতে থাকেন, তিনি মিথ্যাচার করছেন এবং তাকে অপমান করার অধিকার ফাল্লাচি তাকে দেননি। তখন মুজিব রাগে উন্মত্ত হয়ে ওঠেন।
এহেন পরিস্থিতিতে ফাল্লাচি দ্রুত মুজিবের সামনে থেকে পালিয়ে যান এবং একটি রিকশা নিয়ে তৎকালীন হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে নিজের রুমে গিয়ে ব্যাগ নিয়ে বের হন এয়ারপোর্টের উদ্দেশে। কিন্তু ততক্ষণে ফ্যাসিস্ট মুজিবের গুণ্ডাবাহিনী ফাল্লাচিকে ধরতে ছুটে গেছে। এ অবস্থায় ফাল্লাচি কয়েকজন গুরুত্বপূর্ণ বিদেশি ও বাংলাদেশির সাহায্যে ও এসকর্টে তৎকালীন তেজগাঁও বিমানবন্দরে পৌঁছে প্লেনে উঠে বাংলাদেশ ত্যাগ করেন। এ ঘটনার বর্ণনা ওরিয়ানা ফাল্লাচি তার ‘ইন্টারভিউ উইথ হিস্টোরি’ বইয়ে উল্লেখ করেছেন। এই ঘৃণ্য ঘটনা ফ্যাসিস্ট মুজিবের আওয়ামী লিনচিংয়ের এক নিকৃষ্ট ফেরাউনি শাসনের সুনির্দিষ্ট সাক্ষ্য।
এভাবেই মুজিব শাসনামলে প্রায় প্রতিদিন ঢাকায় ও সারা দেশে পাঁচ খুন, সাত খুন, চার খুন ও জোড়া খুন অসংখ্যবার ঘটেছে। এগুলো ঘটিয়েছে মুজিববাদী গুণ্ডারা, ছাত্রলীগের খুনিরা, লালবাহিনীর বদমাশরা ও রক্ষীবাহিনীর জল্লাদরা। সে সময় সারাদেশে বিরোধী অনেক ব্যক্তি ও পরিবার ধ্বংস হয়ে গেছে মুজিব ও আওয়ামী লীগের ক্রোধানলে পড়ে। বহু মহিলা গ্রামেগঞ্জে ধর্ষণের শিকার হয়েছেন। বহু মহিলা বিধবা হয়েছেন। কেউ হারিয়েছেন ভাই, কেউ হারিয়েছেন পিতা, কেউ হারিয়েছেন অন্য স্বজন, কেউবা হারিয়েছেন পুরো পরিবার। আর সবকিছুর পেছনেই ছিল মুজিবের আওয়ামী ফ্যাসিবাদের নিষ্ঠুর লিনচিং।
বাংলাদেশজুড়ে চলেছে এই লিনচিং। আর মুজিব আমলে ৪০ হাজার মানুষ খুন হওয়ার কথা তো সবাই জানেন। এই নিবন্ধের লেখক ১৯৭২ সালে ঢাকার আজিমপুর অগ্রণী স্কুলের দেয়ালের সামনে গাড়ি থেকে ধাক্কা মেরে ফেলে দেওয়া সেই অসহায় মানুষটিকে দেখেছেন, যাকে দ্রুত স্কুলের দেয়ালঘেঁষে দাঁড় করিয়ে তার ওপর চলল ব্রাশ ফায়ার। মুহূর্তের মধ্যে লোকটি লাশ হয়ে মাটিতে পড়ে গেল। গাড়িতে করে আসা মুজিববাদী গুণ্ডারা নির্বিকার চিত্তে আবার গাড়িতে করে চলে গেল। লিনচিংয়ের শিকার লোকটির লাশ পড়ে থাকল সেখানেই।
আরেকটি লোমহর্ষক ঘটনাও লেখক দেখেছেন ফ্যাসিস্ট মুজিব আমলে। এটি ঘটে যখন লেখক আজিমপুর তৎকালীন নিউ বিল্ডিং এলাকা থেকে তার বাবার রিটায়ারমেন্টের পরিপ্রেক্ষিতে আজিমপুর চায়না বিল্ডিংয়ের সংলগ্ন সড়কে তিনতলা বাসায় থাকতেন। রাত ৮টায় এক ব্যক্তিকে তাড়িয়ে নিয়ে ঘাতকরা অস্ত্র ও চাপাতি দিয়ে আক্রমণ করে। লোকটি একসময় পড়ে গিয়ে ধরা পড়লেন। তাকে অস্ত্র দিয়ে আঘাত করার সময় এই লেখক তার বাসার বারান্দা থেকে বিষয়টি দেখে চিৎকার করে ওঠেন—‘এই যে ভাই, কী করেন, কী করেন?’ অস্ত্রধারীরা ওপর দিকে মুখ তুলে তাকে দেখতে পেয়ে অত্যন্ত কর্কশ কণ্ঠে নির্দেশ দিল, ‘গো ইনসাইড দ্য রুম।’ লেখক ভেতর দিকে আড়ালে সরে এলেন। আক্রমণকারীরা লোকটিকে ধরে নিয়ে অদূরে রাস্তার ওপরেই হত্যা করে চলে গেল। একটু পরে পুলিশ এসে লাশটি নিয়ে গেল।
এই তো ছিল ফ্যাসিস্ট মুজিবের শাসন, আইন-শৃঙ্খলা ও জনগণের জীবনের নিরাপত্তার নমুনা। লিনচিং ছিল তখনকার নিত্যদিনের ব্যাপার। তখন খুবই চালু উচ্চারণ ছিল ‘ব্রাশ ফায়ার’। শেখ মুজিব নিজেই শত্রু খুনের নির্দেশ দিতেন। লিনচিং করে হত্যার হুকুম দিতেন আওয়ামী লীগ, ছাত্রলীগ, যুবলীগ, শ্রমিক লীগ, লালবাহিনী ও রক্ষীবাহিনীর খুনি কসাইদের। মুজিবের সময়ই তার ছেলে শেখ কামাল অবৈধ অস্ত্র ব্যবহার, গৃহবধূ ধর্ষণ, ব্যাংক লুট, চাঁদাবাজি ও বিরোধীদের খতমের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। ভারতীয় জেনারেল উবানের তৈরি মুজিবের রক্ষীবাহিনী শরীয়তপুরের বামপন্থি নেতা শান্তি সেনের স্ত্রীকে ধর্ষণসহ হাজারো মুসলিম নারীকে ধর্ষণ ও হত্যা করেছিল বীভৎস কায়দায়। বেয়নেট চার্জ, বুটের লাথি, যৌনাঙ্গ কর্তন, নাকে গরম পানি দেওয়া, ডিম থেরাপি, শরীরের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ টুকরো টুকরো করে কেটে হত্যা করা প্রভৃতি রক্ষীবাহিনীর প্রতিদিনের কাজ হয়ে দাঁড়িয়েছিল।
১৯৭২ সালের ১২ নভেম্বর জাসদ নেতা সিদ্দিক মাস্টারকে হত্যা করেছিল রক্ষীবাহিনী। মুজিব আমলে বিরোধীদের লিনচিংয়ের অন্যতম সূত্র ছিল—‘জাতির জনকের বিরুদ্ধে কুৎসাকারীকে বাংলা থেকে নিশ্চিহ্ন করা হবে (গণকণ্ঠ; ৬ জানুয়ারি, ১৯৭৩)। রক্ষীবাহিনীর অত্যাচার, নিপীড়ন ও হত্যাকাণ্ড সে সময় এত বেশি হচ্ছিল যে, আতাউর রহমান খান মন্তব্য করেছিলেন, ‘আমরা কেয়ামতের কাছাকাছি এসে পৌঁছেছি।’ (গণকণ্ঠ; ২০ ফেব্রুয়ারি, ১৯৭৪)। গোপালগঞ্জে মুজাফফর ন্যাপের সাধারণ নির্বাচনের প্রার্থীসহ দলের পাঁচ কর্মীকে পিটিয়ে হত্যা করে মুজিবের গুণ্ডাবাহিনী ও রক্ষীবাহিনী (গণকণ্ঠ; ১১ মার্চ, ১৯৭৩)।
রক্ষীবাহিনী হাজার হাজার নারীকে ধর্ষণ করেছে, উলঙ্গ করে হাঁটিয়েছে, মায়ের সামনে শিশু হত্যা করেছে এবং হত্যার শিকার শিশুর রক্তপানে বাধ্য করেছে মাকে। বিভিন্ন স্থানে লাইন করে দাঁড় করিয়ে ব্রাশ ফায়ারে হত্যা করেছে অসংখ্য মানুষকে। শরীয়তপুরের বিনোদপুর গ্রামের সিরাজ সরদার ও আরো চারজনকে হত্যা করে একযোগে। নৌকার মাঝির বর্ণনা অনুযায়ী, সিরাজ সরদারকে নদীতে নিয়ে তারা প্রথমে তার হাতের কব্জি, তারপর পা ও অন্যান্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাটে। এরপর শরীরের মাংস কেটে টুকরো টুকরো করে নদীতে ফেলে দেয়। যশোর রোডের সাতমাইল এলাকায় আরো দুজনসহ হাকিমকে তারা নারকীয় অত্যাচারে হত্যা করে। এভাবে ওয়াজেদ আলী ও কামরুজ্জামানকে ঢাকায় এনে হত্যা করে লাশ গুম করে।
ফ্যাসিস্ট মুজিবের রক্ষীবাহিনীর মানুষ হত্যার লোমহর্ষক একটি ঘটনা এখানে উল্লেখ করা যায়। এই কসাই বাহিনী রাজিবপুরের হাসেমকে হত্যার দিন তাকে মধুপুর বাজারের আশেপাশে গ্রামের প্রতিটি বাড়িতে ঘোরায়। প্রতিটি বাড়ির সামনে এনে হাসেমকে বলতে বাধ্য করে, ‘আমাকে মধুপুর স্কুলের মাঠে আজ বিকাল ৫টায় গুলি করে মারা হবে। আপনারা সবাই আসবেন।’ নিজের মৃত্যুর কথা বলতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন হতভাগ্য হাসেম। তথাপি তিনি রক্ষীবাহিনীর বেয়নেটের খোঁচা সহ্য করতে না পেরে তাদের শেখানো বুলি তোতা পাখির মতো আউড়ে যায়। প্রত্যক্ষদর্শীর বর্ণনামতে, ওই দিন বিকাল ৫টায় মধুপুর স্কুলের মাঠে হাসেমকে প্রকাশ্যে গুলি করে হত্যা করে মুজিবের কসাই রক্ষীবাহিনী (‘আওয়ামী দুঃশাসন একটি প্রামাণ্য দলিল’, ঢাকা, জুলাই ২০০১, পৃষ্ঠা ২০৯)।
এমন লিনচিং মুজিবের মতো তার মেয়ে ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার সময়ও এত বেশি ঘটেছে যে সেটার ইয়ত্তা নেই। ১৯৯৬ থেকে শুরু করে ২০০১ সালের জুন পর্যন্ত শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনামলে মোট অপরাধ হয়েছে ৫ লাখ ৬৯ হাজার ৩৭১টি। এর মধ্যে খুন হয়েছে ২০ হাজার, নারী নির্যাতন ১৮ হাজার ৭৮০, শিশু নির্যাতন ১ হাজার ৭৯৩, ধর্ষণ ৬ হাজার ৪১৪, ডাকাতি ৮ হাজার, খুনের মামলা ১৫ হাজার, রাজনৈতিক কারণে খুন ৩২ হাজার, নিরাপত্তা হেফাজতে পুলিশি নির্যাতনে মৃত্যু ৩৫৯ এবং সাংবাদিক খুন হয়েছে ৯ জন। ভয়াবহ ও সাংঘাতিক নির্যাতন হয়েছে ২ লাখ ৫৫ হাজার (সূত্র: পুলিশ সদর দপ্তর, আইন সালিশ কেন্দ্র, অধিকার, মানবাধিকার বাস্তবায়ন সংস্থা, বিআরসিটি, যুগান্তর, মানবজমিন, ইনকিলাব ও জনকণ্ঠ)।
অনেক আশা নিয়ে ঔপনিবেশিক ব্রিটিশ আমল ও হিন্দু ব্রুট মেজরিটির রাজত্ব অতিক্রম করে লাহোর প্রস্তাবের ভিত্তিতে পূর্ব বাংলার মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ মানুষ নিজেদের জন্য তাদের তাওহিদি দ্বীনভিত্তিক জীবন চেয়েছিল ১৯৪৭ সালে। কিন্তু তারা পেয়েছিল এক ইন্টারনাল কলোনিয়ালিজম বা অভ্যন্তরীণ ঔপনিবেশিক ব্যবস্থা। তাই ভোট দিয়ে আনা পাকিস্তানকে তারা অস্ত্র দিয়ে শেষ করেছিল ১৯৭১ সালে; তারপর ১৯৯০ আর সবশেষে ২০২৪ সালে। মানুষের স্বপ্ন আজও বাস্তবায়িত হয়নি। কোথায় মুক্তিযুদ্ধের প্রকৃত স্বপ্নের রূপায়ণ? কোথায় ১৯৯০ সালের প্রতিশ্রুতি? কোথায় ২০২৪ সালের ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানের সম্মিলিত উচ্চারণ? কেন বারবার গণশত্রুদের কাছে আমরা পরাজিত হব? কেন মুজিব কিংবা হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের জাঁতাকলে পিষ্ট হব? কেন ভারতীয় হিন্দুত্ববাদী আধিপত্যকে মেনে নেব? কেন দাস হিসেবে জীবন কাটাব?
তাই দাঁড়াতেই হবে সম্মিলিতভাবে প্রতিরোধ ও সর্বাত্মক প্রচেষ্টা নিয়ে। যেন পাল্টে ফেলতে পারি পুরোনো রাষ্ট্র ব্যবস্থা, সমাজ কাঠামো, শ্রেণি-সম্পর্ক, উৎপাদন ব্যবস্থাপনা, মালিকানা ভিত্তি, সাংবিধানিক ও আইনি কাঠামো এবং শাসন-শর্তকে। আমরা চাই বৈষম্যহীন, সমতাভিত্তিক ও স্বনির্ভর এক নতুন রাষ্ট্র, সংবিধান ও শাসন বন্দোবস্ত, যেখানে এলিটবৃত্ত, অলিগার্ক কংগ্লোমারেশন এবং জনবিচ্ছিন্ন রাজনীতি ও দলকে তীব্র ধাক্কায় সরিয়ে দিয়ে আমরা জনগণ এক নতুন সমাজ চুক্তিতে পৌঁছাতে পারব। যেখানে ১৯৭৪ সালের মতো উচ্চারণ করতে হবে না—‘কুকুর যদি রাজ্য পায়/জুতা পায়ে হাঁটা দায়।’ যেখানে বলতে হবে না—‘ভাত দে হারামজাদা/নইলে মানচিত্র খাবো।’ যেখানে বলতে হবে না—‘ধরা যাবে না/ ছোঁয়া যাবে না/ কওয়া যাবে না কথা/ রক্ত দিয়ে পেলাম শালার এমন স্বাধীনতা।’ কখনো যেন আমরা ভুলে না যাই, ফ্যাসিবাদের আসল সূত্র মুজিবের মধ্যে, মুজিবি কুশাসনে, মুজিবি রক্ত হিম করা স্বৈরাচারে ও মুজিববাদের গুণ্ডামির মধ্যে নিহিত। তাকে লুকিয়ে এবং ইতিহাস বিকৃত করে কেবল হাসিনার ফ্যাসিবাদই বাস্তবতা নয়।
আসলেই আমাদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব, রাষ্ট্রীয় মর্যাদা ও জনসমাজের ইচ্ছাকে পদদলিত করেছিলেন ফ্যাসিস্ট মুজিব। আর ভারতীয় হিন্দু আধিপত্যবাদের গোলামিতে নিয়ে গিয়েছিল শুরুতেই এই মুজিব। আমরা যেন নিজেদের ওপর বয়ে যাওয়া মুজিববাদী তাণ্ডবকে কখনো বিস্মৃত না হই, ক্ষমা না করি। তাহলেই বুঝতে পারব ফ্যাসিস্ট খুনি হাসিনাকে। ওয়ামা তাওফিকি ইল্লা বিল্লাহ।
লেখক : প্রফেসর (অব.), রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

