বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি এএইচএম হামিদুর রহমান আযাদ বলেছেন, ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার ঐক্যবদ্ধ বিপ্লবের মাধ্যমে নতুন দিশা পেয়েছে দেশ ও জাতি। এমন দিশা আমরা ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বর পেয়েছিলাম। সেদিন সিপাহী-জনতা ঐক্যবদ্ধ হয়ে দেশকে আধিপত্যবাদ মুক্ত করেছিল। কিন্তু সে ধারাবাহিকতা রক্ষা হয়নি। বিগত প্রায় সাড়ে ১৫ বছর দেশ ও জাতির ঘাড়ে আওয়ামী স্বৈরাচারের জগদ্দল পাথর চেপে বসেছিল। তবে আগস্ট বিপ্লবের পরও বৈষম্য দূর হয়নি।
শুক্রবার সকালে রাজধানীর কাকরাইলে ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স বাংলাদেশ (আইডিইবি) ভবনের কাউন্সিল হলে এক সভায় তিনি এসব কথা বলেন। মহান শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ঢাকা মহানগরী উত্তরের উদ্যোগে আলোচনা সভা ও দোয়ার আয়োজন করা হয়।
ভাষা আন্দোলনে শহীদ অধ্যাপক গোলাম আযমের অবদানের কথা উল্লেখ করে আযাদ বলেন, অধ্যাপক গোলাম আযম ছিলেন ভাষা আন্দোলনের সম্মুখসারির নেতা। তিনি রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবিতে ডাকসুর নির্বাচিত জিএস হিসেবে লিয়াকত আলী খানের কাছে স্মারকলিপিও পেশ করেছিলেন। ভাষা আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার কারণে বারবার গ্রেফতার ও কলেজের চাকরি হারিয়েছিলেন। কিন্তু হীনমন্যতার কারণে তাকে মূল্যায়ন করা হয়নি। ডাকসুর জিএসদের নামফলক থেকেও তার নাম মুছে ফেলা হয়েছে। তবে দেশ, জাতি ও ভাষা আন্দোলনে তার অবদান কোনোভাবেই মুছে ফেলা যাবে না।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর অনেকে মুক্তি পেলেও এটিএম আজহারুল ইসলাম এখনও কারাগারে রয়েছেন। অবিলম্বে তাকে মুক্তি দেয়াসহ দলীয় নিবন্ধন ও প্রতীক ফিরে দিতে হবে। অন্যথায় দুর্বার গণআন্দোলনের মাধ্যমে দাবি আদায় করেই ছাড়বে জনগণ।
সভাপতির বক্তব্যে মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, স্বাধীনতা পরবর্তী সময়ে ভাষা আন্দোলনের ইতিহাস বিকৃত করা হয়েছে। ভাষা আন্দোলনের অগ্রসৈনিক হলেন অধ্যাপক গোলাম আযম। অথচ তাকে অবমূল্যায়ন করে ইতিহাসের এক কালো অধ্যায়ের সৃষ্টি করা হয়েছে। তাকে একুশে পদক থেকেও বঞ্চিত করা হয়েছে।
কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমানের সঞ্চালনায় সভায় বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের নায়েবে আমির ইঞ্জিনিয়ার গোলাম মোস্তফা, সহকারী সেক্রেটারি নাজিম উদ্দীন মোল্লা, মাওলানা ইয়াছিন আরাফাত প্রমুখ।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

