নিজেদের মাঠে হেরে প্রতিপক্ষের কাজটা সহজ করে রেখেছিল রিয়াল মাদ্রিদ। স্প্যানিশ লিগে পরিষ্কার ৬ পয়েন্টে এগিয়ে যাওয়ার সুযোগ ছিল বার্সেলোনার সামনে। কিন্তু চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীরা সুবর্ণ সুযোগটা কাজে লাগাতে পারেনি। ঘরের মাঠে খেলা বলে কথা! কোথায় দাপুটে জয়ে এগিয়ে যাবে। তা না, উল্টো হোঁচট খেয়ে বসেছে রিয়াল বেটিসের মতো ক্লাবের কাছে। গত শনিবার রাতে এস্তাদিও অলিম্পিক লুইস কোম্পানিসে কাতালানরা আটকে গেছে ১-১ গোলে। তার আগে সান্তিয়াগো বার্নাব্যুতে স্বাগতিক রিয়াল মাদ্রিদ ২-১ গোলে ধরাশায়ী হয়েছে ভ্যালেন্সিয়ার কাছে।
তারপরও দুই স্প্যানিশ জায়ান্টের পয়েন্টের পার্থক্য মাত্র ৪ পয়েন্টের। এটা সম্ভব হয়েছে বার্সা ড্র করায়। নইলে ব্যবধান বেড়ে যেত ছয় পয়েন্টে। লা লিগায় দুদলের ম্যাচ বাকি আর আটটি। কয়েক ম্যাচের মধ্যে এই ব্যবধান কমে আসতে পারে। তার মানে স্প্যানিশ লিগের শিরোপা নিষ্পত্তি হতে পারে লিগে বাকি থাকা এল ক্ল্যাসিকোতে। মহারণের এ ম্যাচ নিজেদের মাঠে বলে আশায় বুক বেঁধে আছে বার্সা। তবে ট্রফির জয়ের সম্ভাবনা জিইয়ে রাখতে প্রস্তুত রিয়ালও।
সুযোগ ছিল রিয়ালের সামনেও। চিরশত্রু বার্সার সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান কমিয়ে আনার। তবে ভ্যালেন্সিয়ার কাছে হার মেনে হতাশা সঙ্গী করেই মাঠ ছেড়েছে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নরা। কার্লো আনচেলত্তির শিবিরে স্বস্তির পরশ এনে দিয়েছে বেটিস। ম্যাচের ৭ মিনিটে বার্সাকে লিড এনে দেন গাভি। তবে সমতায় ফিরতে বেশি সময় নেয়নি অতিথি বেটিস। ১০ মিনিট বাদেই বলে মাথা ছুঁয়ে সমতা নিয়ে আসেন নাথান। গোলরক্ষক আদ্রিয়ানের বীরত্বে সেই সমতা ধরে রেখেই ১ পয়েন্ট কেড়ে নেয় সফরকারীরা। তাতে বার্সা খোয়ায় ২ পয়েন্ট।
লড়াই জুড়ে আক্রমণ, বল দখল আর গোলের সুযোগ তৈরিতে প্রতাপ বিস্তার করেছে বার্সাই। কিন্তু তারপরও জয়ের দেখা পায়নি তারা। এ নিয়ে অবশ্য আক্ষেপ নেই কোচ হানসি ফ্লিকের, ‘এক ম্যাচ কম খেলে এক পয়েন্টে এগিয়ে আছি (এই মুহূর্তে সমানসংখ্যক ম্যাচে ৪ পয়েন্ট এগিয়ে)। এটা ভালোই। প্রথমার্ধে বেশ কয়েকটি ভুল করেছি, আবার সুযোগও তৈরি করেছি। তবে দ্বিতীয়ার্ধে আমরা ভালো খেলেছি। ফলটা ভালো করার চেষ্টা করেছি তখন।’
রিয়ালের জার্সিতে স্প্যানিশ লিগে খেললেন ২০০তম ম্যাচ। কিন্তু দুর্ভাগ্য। মাইলফলকের ম্যাচ রাঙাতে পারলেন না ভিনিসিয়াস জুনিয়র। উল্টো ভুলে যেতে চাইবেন ম্যাচটি। কেননা দলের হারের ম্যাচে ‘খলনায়ক’ যে তিনি নিজেই। লড়াইয়ের ১৩ মিনিটে মিস করে বসেন পেনাল্টি। নইলে জয়টা না পেলেও অন্তত ড্রয়ের স্বস্তি নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারত রিয়াল। ভিনিসিয়াসকে ভ্যালেন্সিয়া গোলরক্ষক গিওর্গি মামারদাশভিলি হতাশ করার দুই মিনিটের মধ্যে ম্যাচের নীরবতা ভেঙে ফেলে ভ্যালেন্সিয়া। দিয়েগো লোপেজের নেওয়া কর্নার কিক থেকে উড়ে আসা বল হেডে রিয়ালের জাল কাঁপান মুকতার দিয়াখাবি।
রিয়াল স্কোর লেভেল করে বিরতির পর। লুকা মদরিচের কর্নার কিক ধরে জুড বেলিংহাম পাস দেন ভিনিসিয়াসকে। ব্রাজিলিয়ান তারকা এ প্লেমেকার পেনাল্টি মিসের ক্ষতিটা পুষিয়ে দেন জালে বল পাঠিয়ে। ইনজুরি টাইমের ৫ মিনিটে রাফা মিরের উড়ন্ত আড়াআড়ি শটে হেড করে ভ্যালেন্সিয়াকে জয় উপহার দেন উগো দুরো।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

