চলতি আমন মৌসুমে নওগাঁয় জমিতে ধানের চারা রোপণের কাজ চলছে পুরো জেলার মাঠে মাঠে। জমিতে পানি দেওয়া, হাল চাষ আর বীজ রোপণের কাজে ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা।
স্থানীয় কৃষি বিভাগ থেকে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে জেলায় মোট ১ লাখ ৯৬ হাজার ১২৫ হেক্টর জমিতে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে কৃষি বিভাগ। এর মধ্যে হাইব্রিড জাতের ৭৮৫ হেক্টর, উন্নত ফলনশীল জাতের ১ লাখ ৭৭ হাজার ১০০ হেক্টর এবং স্থানীয় জাতের ১৮ হাজার ২৪০ হেক্টর রয়েছে। জেলার ১১টি উপজেলার মধ্যে সদর উপজেলায় মোট ১০ হাজার ৫৮০ হেক্টর, রানীনগর উপজেলায় ১৯ হাজার ৭০ হেক্টর, আত্রাই উপজেলায় ৬ হাজার ৮৭০ হেক্টর, বদলগাছী উপজেলায় ১৪ হাজার ৭৬৫ হেক্টর, মহাদেবপুর উপজেলায় ২৮ হাজার ৫২০ হেক্টর, পত্নীতলায় ২৩ হাজার ৭৬০ হেক্টর, ধামইরহাট উপজেলায় ২১ হাজার ৫২০ হেক্টর, সাপাহার উপজেলায় ৯ হাজার ৯৭০ হেক্টর, পোরশা উপজেলায় ১৩ হাজার ৫৫৫ হেক্টর, মান্দা উপজেলায় ১৬ হাজার ৪৭৫ হেক্টর এবং নিয়ামতপুর উপজেলায় ৩১ হাজার ৪০ হেক্টর জমিতে আমন আবাদের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে । তবে আমনের আবাদ করলেও ধানের প্রকৃত মূল্য পাবে কি না তা নিয়ে আতঙ্ক রয়েছেন কৃষকরা। এবার সব উপকরণের মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায়, ধান উৎপাদন খরচও গতবারের চেয়ে বেশি হবে বলে জানায় কৃষকরা।
নওগাঁ সদর উপজেলার পাহাড়পুর গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ জানান, আমন মৌসুমে ধানের আবাদ করা তাদের একটি বড় স্বপ্ন। তিনি এবার আট বিঘা জমিতে ধান রোপণের কাজ শুরু করেছেন। বীজ, সার, কীটনাশকসহ সবকিছুর দাম বেশি। তার পর রয়েছে পানি সেচ। সময়মতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায়, ডিজেল দিয়ে খরচও বেড়ে যাচ্ছে। ন্যায্যমূল্য পাওয়া যাবে কি না, তা নিয়ে রয়েছেন দুশ্চিন্তায়। নিয়ামতপুরের বাদমালঞ্চি গ্রামের কৃষক মেহেদী হাসান মানিক জানান, মাথার ঘাম পায়ে ফেলে ধান উৎপাদন করি, কিন্তু বিক্রি করতে গেলে দাম পাই না। পাঁচ বিঘা জমিতে এবার আমন ধান আবাদ করছি, সার, বীজ কীটনাশকসহ সবকিছুর দাম আকাশ ছোঁয়া, ধান উৎপাদন না করলে খাব কি, পরিবার চলবে কীভাবে। আমরা চাই পরিশ্রম ও খরচের ন্যায্যমূল্য। আত্রাই উপজেলার সাহাগোলা গ্রামের কৃষক আব্দুর রশিদ বলেন, এবার ২৫ বিঘা জমিতে আমন ধানের আবাদ করছি। কীটনাশক, ভিটামিন সারসহ সব উপকরণের দাম গতবারের চেয়ে কেজি প্রতি ৫০-১০০ টাকা বেশি। শ্রমিকের মজুরিও বেশি। এ কারণে উৎপাদন খরচও বেশি পড়বে। এছাড়া ঠিকমতো বিদ্যুৎ না পাওয়ায়, সেচের জন্য বাড়তি খরচ হবে। ন্যায্যমূল্য না পেলে ক্ষতির মুখে পড়তে হবে।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মনজুর হোসেন বলেন, চলতি আমন মৌসুমে আবহাওয়া আমন ধান চাষের অনুকূলে রয়েছে। পর্যাপ্ত বৃষ্টিপাত হওয়ার ফলে জমিতে পানির কোনো সমস্যা যেমন হয়নি, তেমনি ধানে পোকা মাকড়ের কোনো আক্রমণ দেখা যাচ্ছে না। তিনি জানান, গত ১৫ আগস্ট পর্যন্ত জেলায় মোট ১ লাখ ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে আমন ধান রোপণ সম্পন্ন হয়েছে। বৃষ্টিতে জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যার প্রাদুর্ভাব দেখা না দিলে আমন ধান চাষের লক্ষ্যমাত্রা অতিক্রম করবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

