ব্রাজিল ও জাপানের এই ম্যাচে মূল লড়াইটা হবে শুধু খেলোয়াড়দের নয়, দুই কোচের কৌশলেরও।
ব্রাজিল আক্রমণ গড়বে মূলত মাঝ মাঠকে কেন্দ্র করে। ব্রুনো গিমারায়েস ও কাসেমিরো বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখে খেলার গতি ঠিক করবেন। তাদের কাজ হবে মাঝ মাঠ থেকে আক্রমণ সাজানো এবং প্রতিপক্ষের রক্ষণে ফাঁক তৈরি করা। সেই সুযোগ কাজে লাগাতে সামনে থাকবেন লুকাস পাকেতা। তিনি মাঝ মাঠ ও আক্রমণের মাঝের ফাঁকা জায়গাগুলো খুঁজে নিয়ে ছোট ছোট পাসে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ও মাথেউস কুনহাকে রক্ষণের পেছনে পাঠানোর চেষ্টা করবেন।
ব্রাজিলের আরেকটি বড় শক্তি হলো খেলার গতি হঠাৎ বদলে দেওয়া। অনেক সময় তারা ধীরগতিতে বল ঘুরিয়ে প্রতিপক্ষকে নিজেদের দিকে টেনে আনবে। এরপর এক মুহূর্তে দ্রুত পাস আর দৌড়ে আক্রমণের তীব্রতা বাড়িয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করবে।
অন্যদিকে জাপানের পরিকল্পনা হবে ধৈর্য ধরে রক্ষণ সামলানো এবং সুযোগ পেলেই দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যাওয়া। কোচ হাজিমে মরিয়াসু সম্ভবত তিন সেন্টার-ব্যাক নিয়ে রক্ষণ সাজাবেন। মাঝখানে থাকবেন তাকেহিরো তোমিয়াসু, যিনি পুরো রক্ষণভাগকে নেতৃত্ব দেবেন।
জাপান প্রথমে নিজেদের অর্ধে ঘন রক্ষণ গড়ে ব্রাজিলকে ডান-বাম দিকে খেলতে বাধ্য করতে চাইবে। ব্রাজিলের আক্রমণ একদিকে চলে গেলে হঠাৎ বিপরীত দিক দিয়ে দ্রুত চাপ সৃষ্টি করবে তারা। এই কৌশলে ব্রাজিলের আক্রমণের ছন্দ নষ্ট করাই হবে তাদের লক্ষ্য।
পাল্টা আক্রমণে জাপানের সবচেয়ে বড় ভরসা রিতসু দোয়ান ও দাইজেন মায়েদা। ব্রাজিলের ফুল-ব্যাকরা সামনে উঠে এলে যে ফাঁকা জায়গা তৈরি হবে, সেটিই কাজে লাগানোর চেষ্টা করবেন তারা। বিশেষ করে মায়েদা সব সময় ডিফেন্ডারদের পেছনের জায়গায় দৌড় দেবেন, আর দোয়ান বল পেলে দ্রুত আক্রমণের গতি বাড়াবেন।
ব্রাজিল চাইবে বলের দখল রেখে মাঝ মাঠ দিয়ে আক্রমণ গড়তে। আর জাপান অপেক্ষা করবে সঠিক মুহূর্তের জন্য—রক্ষণে শৃঙ্খলা ধরে রেখে এক ঝটকায় পাল্টা আঘাত হানতে। তাই হিউস্টনের এই লড়াইয়ে শুধু তারকাদের পারফরম্যান্স নয়, দুদলের কৌশলগত পরিকল্পনাও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখবে।
চলুন, ম্যাচটা উপভোগ করি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

