বিশ্বমঞ্চে মার্টিনেজের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

বিশ্বমঞ্চে মার্টিনেজের রাজকীয় প্রত্যাবর্তন

ফুটবল মাঠের গল্পগুলো মাঝে মধ্যে সিনেমার চিত্রনাট্যকেও হার মানায়। যেখানে থাকে চরম ব্যর্থতা, খাদের কিনারে চলে যাওয়া, আর সেখান থেকে ফিনিক্স পাখির মতো ধ্বংসস্তূপ ফুঁড়ে জেগে ওঠার রোমাঞ্চ। আর্জেন্টিনার স্ট্রাইকার লাউতারো মার্টিনেজের গল্পটাও ঠিক তেমনই এক রূপকথা। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপের যে খলনায়ক গ্যালারির দুয়োধ্বনি শুনেছিলেন, ২০২৬ বিশ্বকাপের মঞ্চে তিনিই এখন আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার অন্যতম মহানায়ক।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে সেমিফাইনালের শ্বাসরুদ্ধকর ম্যাচটি যখন শেষের দিকে, ঠিক তখনই বদলি হিসেবে মাঠে নামেন লাউতারো। আর মাঠে নেমেই চিরচেনা লিওনেল মেসির বাড়ানো নিখুঁত ক্রস থেকে দুর্দান্ত এক হেডে বল প্রতিপক্ষের জালে জড়ান তিনি। এই এক গোলেই নিশ্চিত হয় আর্জেন্টিনার ফাইনালের টিকিট। ম্যাচ শেষে যখন সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হলেন, তখন তার চোখে জল। আবেগ সামলাতে পারছিলেন না এই তারকা। ম্যাচ-পরবর্তী প্রতিক্রিয়ায় তিনি ফিরে যান তার শৈশবে, বাবার হাত থেকে পাওয়া প্রথম বুটজোড়ার স্মৃতিতে। রেসিং ক্লাবে খেলার জন্য বাড়ি ছাড়ার পর আজও যে মা তার বিছানা গুছিয়ে রাখেন, সেই চিরন্তন ভালোবাসার কথা মনে করে আপ্লুত হন লাউতারো। জানান, দুই সন্তানের বাবা হওয়ার পর মাঠের বাইরের জীবন তাকে কতটা পূর্ণতা দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন

অথচ চার বছর আগের চিত্রটা ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন। ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে আর্জেন্টিনার প্রথম একাদশের প্রধান ভরসা ছিলেন তিনি। কিন্তু সৌদি আরবের কাছে হারের পর ফর্মহীনতা আর চোটের কারণে জায়গা হারান হুলিয়ান আলভারেজের কাছে। পুরো টুর্নামেন্টে গোড়ালির তীব্র চোট নিয়ে খেললেও কখনো অজুহাত দেননি, কিন্তু বিশ্বকাপ জয়ের পরও দলের জন্য কিছু করতে না পারার এক বিশাল আক্ষেপ তাকে তাড়িয়ে বেড়াচ্ছিল।

সেই আক্ষেপ থেকেই শুরু হয় ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াই। ২০২৪ কোপা আমেরিকায় ৫ গোল করে গোল্ডেন বুট জেতার সঙ্গে ফাইনালের জয়সূচক গোলটি আসে তার পা থেকেই। তবে বিশ্বকাপের অপূর্ণতা তো আর কোপা দিয়ে ঘোচে না! ২০২৬ বিশ্বকাপেও শুরুর দিকে একাদশে নিয়মিত সুযোগ পাচ্ছিলেন না। কিন্তু খাঁটি সোনা যেমন আগুনে পুড়লে আরো উজ্জ্বল হয়, লাউতারোও ঠিক তাই করলেন। কোয়ার্টার ফাইনালে সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের গোল করে দলকে বাঁচিয়েছিলেন, আর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডকে স্তব্ধ করে দিয়ে লিখলেন নিজের শ্রেষ্ঠত্বের নতুন মহাকাব্য।

সামনে এখন আরেকটি ফাইনাল। ইন্টার মিলানের এই সফলতম স্ট্রাইকার ভালো করেই জানেন, ফাইনালে হয়তো শুরুর একাদশে সুযোগ নাও মিলতে পারে। কিন্তু ইতিহাস গড়তে যে মাত্র একটি মুহূর্তই যথেষ্ট, তা তিনি প্রমাণ করে দিয়েছেন। নিউ জার্সির ফাইনালের মঞ্চে মার্টিনেজ এখন দাঁড়িয়ে আছেন তার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় বৃত্তটি পূরণ করার অপেক্ষায়।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন