ফুটবল অবশেষে আত্মসমালোচনার গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তে পৌঁছেছে। যেখানে অন্তত উপলব্ধি হয়েছে যে, এ খেলার আত্মা এখনো রক্ষা করার মতো মূল্যবান। ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর জন্য গত সপ্তাহটি ছিল দুঃস্বপ্নের। বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক অধিকার বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে ছেড়ে দেওয়ার তার যে উচ্চাভিলাষী পরিকল্পনা ছিল, তা মূলত তার নিজের ক্ষমতা-প্রভাবকেই শক্তিশালী করত। ফলে যারা দীর্ঘদিন ধরে ইনফান্তিনোর অর্থকেন্দ্রিক নীতির বিরোধিতা করে আসছিলেন, তাদের কাছে সপ্তাহটি ছিল এক ধরনের নৈতিক বিজয়।
এবার আঘাত এসেছে ইনফান্তিনোর নিজের ঘরের ভেতর থেকেই। হাটে হাঁড়ি ভেঙেছেন তার দীর্ঘদিনের উপদেষ্টা কার্লোস কর্ডেইরো ও ফিফার প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা কেভিন ল্যামো। দীর্ঘদিন পর ফুটবল এমন কিছু সৎ প্রভাবশালী কর্মকর্তাকে দেখতে পেল। পরিবর্তিত এ অবস্থান সত্যিই বিস্ময়কর। বিষয়টি নিয়ে উয়েফার মতো সংস্থাগুলোও কঠোর ভাষায় আক্রমণ করেছে। ইনফান্তিনোর ঔদ্ধত্যের বিরুদ্ধে ফুটবলবিশ্বের জমে থাকা ক্ষোভগুলোও সামনে চলে এসেছে। সাধারণত কোনো ইস্যুতে ফুটবল বিশ্বকে একই কাতারে দেখা যায় না। আকর্ষণ, দূরদৃষ্টি ও সহমর্মিতার অভাব থাকা এক আত্মম্ভরী সুইস প্রশাসকের আচরণ এবার ১৪৩ দেশকে একই অবস্থানে এনে দাঁড় করিয়েছে।
ফুটবল প্রশাসকদের দূরদৃষ্টির অভাব নিয়ে প্রায়ই সমালোচনা হয়। তাই যেখানে প্রাপ্য, সেখানে কৃতিত্ব দেওয়াও জরুরি। ইংল্যান্ড ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনও (এফএ) একইভাবে বৃহত্তর স্বার্থের প্রতি তাদের অঙ্গীকারের পরিচয় দিয়েছে। সবচেয়ে মজার বিষয় হলো, এফএর চেয়ারম্যান ডেবি হিউইট ইনফান্তিনোর হাতে ব্যক্তিগতকৃত একটি ইংল্যান্ডের জার্সি তুলে দিলেও এখন ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধেই কঠোর অবস্থান নিয়েছেন।
তবুও একটি প্রশ্ন থেকেই যায়Ñহঠাৎ এই অবস্থান পরিবর্তন কেন! ইনফান্তিনোর একের পর এক বিতর্কিত সিদ্ধান্তে এতদিন সম্মতি দেওয়ার পর ফুটবল বিশ্ব কেন এবার তার এই বাড়াবাড়িকে আর মেনে নিতে পারছে না? এর অন্যতম বড় কারণ হলো ‘ট্রাম্প ফ্যাক্টর’। ট্রাম্পের সঙ্গে তার ঘনিষ্ঠতা তাকে আরো ক্ষমতালোভী, আত্মকেন্দ্রিক ও তোষামোদপ্রবণ করে তুলেছে। তাদের ব্যক্তিগত ঘনিষ্ঠতা যত বেড়েছে, ইনফান্তিনোর আচরণও তত বেশি ট্রাম্প-সুলভ হয়ে উঠেছে।
কত দ্রুত একজন মানুষ নিজের শক্ত অবস্থান ধ্বংস করে ফেলতে পারেÑইনফান্তিনো তারই এক বিস্ময়কর উদাহরণ। তবে ফুটবল যদি মনে করে এখানেই সব শেষ, তাহলে সেটি হবে আত্মপ্রবঞ্চনা। ইনফান্তিনো ক্ষমতার জৌলুসে এতটাই মোহাবিষ্ট যে, কোণঠাসা প্রাণীর মতো তিনি শেষ পর্যন্ত নিজের অবস্থান ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাবেন।
তবে এ ঘটনার একটি ইতিবাচক দিকও রয়েছে। বহুদিন পর ফুটবল একটি মৌলিক নীতির প্রশ্নে একসঙ্গে অবস্থান নিয়েছে। এ যেন অর্থলোভী দানবকে থামাতে ফুটবলের নৈতিক জাগরণ।
অলিভার ব্রাউন
চিফ স্পোর্টস রাইটার, দ্য টেলিগ্রাফ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

