বিশ্বকাপের আগে প্রস্তুতি ম্যাচে প্রত্যাশা পূরণ করতে পারেনি ইউরোপের দুই পরাশক্তি স্পেন ও ইংল্যান্ড। একদিকে মিশরের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করেছে স্পেন, অন্যদিকে জাপানের কাছে ১-০ গোলে হেরে গেছে ইংল্যান্ড।
বার্সেলোনায় অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচে শুরু থেকেই ছন্দ খুঁজে পেতে ব্যর্থ হয় স্পেন। প্রথমার্ধে তাদের পারফরম্যান্স একেবারেই মনমতো ছিল না। বরং ২৯তম মিনিটে এগিয়ে যাওয়ার দারুণ সুযোগ পেয়েছিল মিশর। তবে ওমার মার্মুশের দূরপাল্লার শট পোস্টে লেগে ফিরে আসায় রক্ষা পায় স্প্যানিশরা।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে ভালো সুযোগ পেয়েও ব্যর্থ হন ফেররান তোরেস। পরে পেদ্রি ও ফের্মিন লোপেসরা একাধিক সুযোগ তৈরি করলেও গোলের দেখা মেলেনি। ৮৪তম মিনিটে হামদি ফাথি দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়লে ১০ জনের দলে পরিণত হয় মিশর। কিন্তু সংখ্যাগরিষ্ঠতার সুবিধাও কাজে লাগাতে পারেনি ২০১০ সালের বিশ্বচ্যাম্পিয়নরা। ফলে ম্যাচটি শেষ হয় গোলশূন্য ড্রয়ে, যা তাদের র্যাঙ্কিংয়ের শীর্ষস্থান হারানোর শঙ্কা তৈরি করেছে।
অন্যদিকে, লন্ডনের ওয়েম্বলি স্টেডিয়ামে হতাশ করেছে ইংল্যান্ড। চার দিনের ব্যবধানে দ্বিতীয় প্রস্তুতি ম্যাচেও জয়হীন থাকে তারা। জাপানের কাছে ১-০ গোলে হেরে বসে স্বাগতিকরা। ম্যাচের আগে অনুশীলনে চোট পেয়ে ছিটকে যান দলের প্রধান স্ট্রাইকার হ্যারি কেইন, যার অভাব পুরো ম্যাচেই অনুভূত হয়। কোচ টমাস টুখেল ‘ফলস নাইন’ হিসেবে ফিল ফোডেনকে খেলালেও কার্যকর কিছু করতে পারেননি তিনি। ২৩তম মিনিটে কোল পামারের ভুলে বল হারানোর পর দ্রুত পাল্টা আক্রমণে যায় জাপান। ডি-বক্সে সতীর্থের পাস পেয়ে নিখুঁত শটে গোল করেন কাওরু মিতোমা—যা ছিল ম্যাচে জাপানের প্রথম শটই।
দ্বিতীয়ার্ধে আরও একটি গোল খাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল ইংল্যান্ডের সামনে। তবে রিতসু দোয়ান–এর শট ঠেকিয়ে দেন গোলরক্ষক জর্ডান পিকফোর্ড। ম্যাচের ৫৯তম মিনিটে একসঙ্গে চারটি পরিবর্তন আনেন টুখেল, কিন্তু তাতেও ফল বদলায়নি। শেষদিকে একাধিক আক্রমণ করলেও খুব বেশি সময় জাপানের রক্ষণকে চাপে ফেলতে পারেনি ইংল্যান্ড। ম্যাচ শেষে নিজেদের সমর্থকদের দুয়োও শুনতে হয় দলটিকে।
এই জয়ের মাধ্যমে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে প্রথমবারের মতো জয় তুলে নিল জাপান। আর টমাস টুখেলের অধীনে ১২ ম্যাচে দ্বিতীয় হারের তিক্ত অভিজ্ঞতা হলো ইংল্যান্ডের। বিশ্বকাপের আগে এমন ফল অবশ্যই চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়াল তাদের জন্য।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

