বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফার বাণিজ্যিক স্বত্ব বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির বিতর্কিত প্রস্তাব দিয়েছিলেন জিয়ান্নি ইনফান্তিনো। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র সমালোচনার মুখে পড়ে যান ফিফা সভাপতি। পদত্যাগের জোরাল দাবিও উঠে। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে নিজের ভুলভ্রান্তির কথা স্বীকার করে আনুষ্ঠানিকভাবে দুঃখপ্রকাশ করেছেন তিনি। তবে এই বিতর্কের জেরে পদত্যাগ করার কোনো ইচ্ছা নেই বলে স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন ফিফা প্রধান। মরক্কোর জরুরি বৈঠকে সিনিয়র কর্মকর্তাদের সমর্থন নিয়ে ফিফার সভাপতি পদে থেকে যাচ্ছেন ইনফান্তিনো।
সম্প্রতি 'ফিফা ফরওয়ার্ড এন্টারপ্রাইজেস' নামক একটি নতুন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে বিশ্বকাপের বাণিজ্যিক স্বত্বের একটি অংশ বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের কাছে বিক্রির প্রস্তাব উত্থাপন করেছিল ফিফা। ইনফান্তিনো প্রতিটি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনকে ৪ কোটি মার্কিন ডলার (প্রায় ৩ কোটি পাউন্ড) অনুদান দেওয়ার বিনিময়ে এই বেসরকারি বিনিয়োগের পক্ষে সমর্থন চেয়েছিলেন।
তবে এই প্রস্তাবের তীব্র বিরোধিতা করে ইউরোপীয় ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা উয়েফা। উয়েফা ইনফান্তিনোর বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রকাশ করে এই প্রক্রিয়াকে একটি 'অস্বচ্ছ, গোপনীয় ও অনৈতিক পেছনের দরজার চুক্তি' হিসেবে আখ্যায়িত করে।
পরিস্থিতি সামাল দিতে ইনফান্তিনো মরক্কোর রাজধানী রাবাতে ফিফার উচ্চপর্যায়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের নিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসেন। বৈঠকের পর ফিফার মহাসচিব ম্যাথিয়াস গ্রাফস্ট্রোম এবং পরিচালনা কমিটির পক্ষ থেকে যৌথ বিবৃতি দিয়ে ইনফান্তিনোর নেতৃত্বের প্রতি 'পূর্ণ সমর্থন' ব্যক্ত করা হয়।
একইসঙ্গে ইনফান্তিনো এবং গ্রাফস্ট্রোম যৌথভাবে ফিফার সহ-সভাপতি, কাউন্সিল সদস্য এবং বিশ্বের ২১১টি সদস্য অ্যাসোসিয়েশনের উদ্দেশে একটি বিশেষ চিঠি প্রেরণ করেন। চিঠিতে তারা প্রস্তাবনার প্রক্রিয়া পরিচালনায় ভুলের জন্য আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা করেন এবং আশ্বাস দেন যে ভবিষ্যতে এই ধরনের ভুল আর হবে না।
বিতর্কের মাঝেই কয়েকটি আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে দাবি করা হয়— ২০৩০ সালের বিশ্বকাপ ফাইনাল ম্যাচ আয়োজনের স্বত্ব মরক্কোকে দেওয়ার প্রতিশ্রুতির বিনিময়ে ইনফান্তিনো দেশটির রাজনৈতিক সমর্থন আদায় করেছেন। তবে ফিফা এই রিপোর্টকে সম্পূর্ণ 'মিথ্যা ও বিভ্রান্তিকর' বলে উড়িয়ে দিয়েছে।
বিবৃতির শেষ অংশে ফিফা স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে যে, ভুল স্বীকার করা হলেও অহেতুক আক্রমণ সহ্য করা হবে না। সংস্থাটি জানায়, 'ফিফা তার ভাবমূর্তি, সততা এবং স্বচ্ছ প্রক্রিয়ার ওপর যেকোনো ধরনের আক্রমণ আর বরদাস্ত করবে না। প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা রক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হবে।'
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

