কণ্ঠস্বরও ব্যক্তিচিত্রের (পাবলিসিটি) অধিকারের মতো আইনি সুরক্ষা পেতে পারে বলে রায় দিয়েছেন জাপানের একটি আদালত। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দিয়ে কণ্ঠস্বর নকলের ঘটনায় দেশটিতে এ ধরনের এটিই প্রথম আদালতের রায় বলে স্থানীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে। খবর আনাদোলুর।
বুধবার টোকিও জেলা আদালত জনপ্রিয় কণ্ঠশিল্পী কেনজিরো সুদার করা এক মামলায় এ রায় দেন। তিনি জাপানি অ্যানিমে ‘জুজুতসু কাইসেন’-এর জনপ্রিয় চরিত্র কেন্তো নানামির কণ্ঠ দেওয়ার জন্য পরিচিত।
মামলায় সুদা অভিযোগ করেন, তার কণ্ঠের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ একটি এআই-নির্মিত কণ্ঠ ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ করা হয়েছে। তবে তার দাবি অনুযায়ী ওই ভিডিওগুলো সরিয়ে নিতে টিকটকের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে দেওয়া আবেদন আদালত খারিজ করেছেন।
জাপানে বর্তমানে কণ্ঠস্বরের অধিকার নিয়ে **স্পষ্ট কোনো আইন** নেই। তবে দেশটির বিচার মন্ত্রণালয় সম্প্রতি কিছু নির্দেশনা দিয়েছে। এতে বলা হয়েছে, বাস্তব কোনো ব্যক্তির কণ্ঠের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ কণ্ঠ ব্যবহার করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশ এবং সেখান থেকে আয় করা হলে তা অধিকার লঙ্ঘনের আওতায় পড়তে পারে।
মামলার তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের জুলাই থেকে ২০২৫ সালের সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তি নগরকথা, অলৌকিক বিষয় ও বিভিন্ন তথ্যভিত্তিক ১৮৮টি ভিডিও প্রকাশ করেন। এসব ভিডিওতে সুদার কণ্ঠের সঙ্গে সাদৃশ্যপূর্ণ একটি কণ্ঠ ব্যবহার করা হয়েছিল। চলতি বছরের জুনে ওই অ্যাকাউন্টটি মুছে ফেলা হয়।
একটি বিশ্লেষণে সুদার কণ্ঠের সঙ্গে এআই-নির্মিত কণ্ঠের **উল্লেখযোগ্য মিল** পাওয়া যায়। মামলায় সুদার পক্ষের দাবি ছিল, এতে দর্শকদের বিভ্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
তবে টিকটকের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান আদালতে যুক্তি দেয়, ভিডিওগুলোর বর্ণনায় ব্যবহৃত কণ্ঠটি একটি ‘সাধারণ পুরুষ কণ্ঠ’ এবং সেটিকে সুদার কণ্ঠ বলে ভুল করার সুযোগ নেই। অন্যদিকে ভিডিও প্রকাশকারী ব্যক্তি দাবি করেন, এআইটি তার এক বন্ধুর কণ্ঠ ব্যবহার করে প্রশিক্ষিত করা হয়েছিল।
এমএমআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


-98dc78-720x405.webp)