ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের সিনিয়র ফেলো ও রাষ্ট্রবিজ্ঞানের অধ্যাপক ডমিনিক টিয়ার্নি বলেছেন, ইরানের পরিস্থিতি সুনির্দিষ্ট ও সুপরিকল্পিতভাবে যুদ্ধ পরিচালনায় যুক্তরাষ্ট্রের অক্ষমতার আরেকটি উদাহরণ। সম্প্রতি এনপিআরের ‘উইকএন্ড এডিশন স্যাটারডে’ অনুষ্ঠানে ইরান ঘিরে চলমান যুদ্ধের অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ নিয়ে মতামত তুলে ধরেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ইরান যুদ্ধ এমন এক দীর্ঘ ইতিহাসের অংশ, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বহু দশক ধরে যুদ্ধে সাফল্যের জন্য সংগ্রাম করে আসছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র খুব কম যুদ্ধেই প্রকৃত বিজয় পেয়েছে; বরং কোরিয়া, ভিয়েতনাম, ইরাক, আফগানিস্তান এবং এখন সম্ভাব্য ইরান যুদ্ধ—সব ক্ষেত্রেই দেশটি অচলাবস্থা, পরাজয় ও দীর্ঘমেয়াদি সংকটে জড়িয়েছে।’
টিয়ারনির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ইরানের পারমাণবিক সক্ষমতা ধ্বংস করা এবং দেশটিতে গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে সরকার পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরির ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির সামরিক নেতৃত্ব নিজেদের সক্ষমতাকে ‘অতিমূল্যায়ন’ করেছে। তার মতে, শাসনব্যবস্থার পরিবর্তনের প্রচেষ্টা উল্টো ফল দিয়েছে এবং ইরানের বর্তমান সরকারের অবস্থান আরো শক্তিশালী হয়েছে।
২০১৮ সালে দ্য আটলান্টিকে প্রকাশিত এক লেখায় টিয়ারনি যে বিষয়টি তুলে ধরেছিলেন, তার সঙ্গে বর্তমান পরিস্থিতির মিল রয়েছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার মতে, যুক্তরাষ্ট্রের নীতির একটি দীর্ঘমেয়াদি ধারা রয়েছে, যেখানে ওয়াশিংটন না চাইলেও ইরানের অবস্থান শক্তিশালী হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
টিয়ারনি বলেন, ‘মূল বিষয় হলো, যুদ্ধ শুরুর সময়ের তুলনায় বর্তমানে ইরান সরকার সম্ভবত আরো শক্ত অবস্থানে রয়েছে। নিহত সর্বোচ্চ নেতার সাম্প্রতিক জানাজায় দেশজুড়ে ব্যাপক সমর্থনের চিত্র দেখা গেছে। শেষ ন্ত এমন যুক্তরাষ্ট্র এমন একটি অবস্থানে পৌঁছেছে, যেখানে মূল লক্ষ্যগুলো অর্জিত হয়নি। ইরান শক্তিশালী হয়েছে, আর যুক্তরাষ্ট্র এখন এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছে।’
সংঘাতের ভবিষ্যৎ এবং এর সম্ভাব্য সমাপ্তি প্রসঙ্গে টিয়ারনি বলেন, আলোচনার প্রক্রিয়া দীর্ঘ হতে পারে। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের অতীত যুদ্ধগুলোর অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, কূটনৈতিক সমাধানে পৌঁছানো সাধারণত সহজ বা দ্রুত হয় না।
তিনি বলেন, ‘ভিয়েতনাম যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজতে পাঁচ বছর সময় লেগেছিল। এমনকি ভিয়েতনামে আলোচনার টেবিলের আকার কেমন হবে, তা ঠিক করতেই তিন মাস ব্যয় করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। একইভাবে আফগানিস্তান থেকেও বেরিয়ে আসতে কয়েক বছর লেগেছে। তাই এটি দ্রুত শেষ হওয়ার মতো কোনো প্রক্রিয়া নয়। যুক্তরাষ্ট্র এখনো এই ঘটনার মাঝপথে আছে এবং এই সংকট থেকে বেরিয়ে আসার একটি কঠিন প্রক্রিয়ার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।’
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


