লন্ডনে ইসরাইলি আবাসন মেলা, তদন্তের নির্দেশ মেয়রের

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

লন্ডনে ইসরাইলি আবাসন মেলা, তদন্তের নির্দেশ মেয়রের
লন্ডনের মেয়র সাদিক খান। ছবি: এএফপি

অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড পশ্চিম তীরে গড়ে ওঠা অবৈধ ইসরাইলি বসতির জমি ও সম্পত্তি বিক্রির প্রচারণামূলক একটি আবাসন মেলার বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন লন্ডনের মেয়র সাদিক খান।

‘দ্য গ্রেট ইসরাইলি রিয়েল এস্টেট ইভেন্ট’ নামের এই বিতর্কিত আয়োজনটির বিষয়ে তদন্ত করতে তিনি মেট্রোপলিটন পুলিশকে নির্দেশ দিয়েছেন। পাশাপাশি এই ইস্যুতে পররাষ্ট্র ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও আলোচনা করেছেন তিনি।

বিজ্ঞাপন

লন্ডন অ্যাসেম্বলিতে গ্রিন পার্টির নেতা জ্যাক পোলানস্কির এক প্রশ্নের জবাবে মেয়র সাদিক খান এই তথ্য জানান। আগামী রোববার লন্ডনে এই রিয়েল এস্টেট মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে, তবে এর সঠিক অবস্থান গোপন রাখা হয়েছে।

লন্ডন অ্যাসেম্বলিতে সাদিক খান বলেন, ‘পশ্চিম তীরে ইসরাইলি বসতি স্থাপন আন্তর্জাতিক আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ এবং কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়। এটি ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদের সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। লন্ডনে বা বিশ্বের যেকোনো স্থানে এই বসতির সম্পত্তি বিক্রির যেকোনো প্রচেষ্টার আমি তীব্র নিন্দা জানাই।’

তিনি আরো জানান, মেলায় কোনো ধরনের অপরাধমূলক বা বেআইনি সম্পত্তি বিক্রির চেষ্টা করা হলে মেট্রোপলিটন পুলিশ তা খতিয়ে দেখবে এবং তদন্ত করবে।

এদিকে ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার অব জাস্টিস ফর প্যালেস্টাইনিয়ানস (আইসিজেপি), ইউরোপিয়ান লিগ্যাল সাপোর্ট সেন্টার এবং পাবলিক ইন্টারেস্ট ল সেন্টার যৌথভাবে মেলাটি বন্ধ করার জন্য লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশকে একটি চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে এই আয়োজনের সঙ্গে জড়িত আর্থিক লেনদেন ‘অপরাধমূলক সম্পত্তি’র আওতায় পড়ে কি-না, তা খতিয়ে দেখতে এবং ‘সিরিয়াস ক্রাইম প্রিভেনশন অর্ডার’-এর অধীনে মেলাটি বন্ধ করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইসরাইলি বসতি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন এবং দীর্ঘমেয়াদি শান্তির জন্য একটি বড় হুমকি। গত ৯ জুন ব্যবসায়িক ঝুঁকি সংক্রান্ত নির্দেশনায় ব্রিটিশ নাগরিক ও ব্যবসায়ীদের অবৈধ ইসরাইলি বসতিতে যেকোনো ধরনের অর্থনৈতিক ও আর্থিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা না করার জন্য স্পষ্টভাবে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও যুক্তরাজ্যে এই আয়োজন বন্ধে সরকারের জরুরি পদক্ষেপ দাবি করেছে।

গণমাধ্যমের অনুসন্ধানে দেখা গেছে, এই মেলার অন্যতম স্পন্সর ‘ইমানুয়েল গ্রুপ’-এর প্রধান নির্বাহী ইমানুয়েল ভাটারি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অংশগ্রহণকারী যে তালিকা প্রকাশ করেছেন, তাতে ‘হারে জাহাভ’, ‘দ্য মেশুলাম লেভিনস্টাইন গ্রুপ’ এবং ‘তিভুচ শেলি’র মতো প্রতিষ্ঠানের নাম রয়েছে।

এই প্রতিষ্ঠানগুলো অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেমের অবৈধ বসতিতে আবাসন ও বাণিজ্যিক প্রকল্প নির্মাণের সঙ্গে সরাসরি জড়িত। এমনকি এই মেলার ওয়েবসাইটে ইসরাইলের যে মানচিত্র প্রদর্শন করা হয়েছে, তাতে অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকেও অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।

অবশ্য মেলার আয়োজকেরা অবৈধ বসতির জমি বিক্রির অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তারা দাবি করেছেন, প্রদর্শনীতে অংশ নেওয়া সব প্রতিষ্ঠান কেবল ‘গ্রিন লাইন’ বা ইসরাইলের মূল সীমানার ভেতরের সম্পত্তি নিয়ে তথ্য প্রদান করবে। এই অভিযোগগুলোকে তারা ‘ইসরাইল-বিরোধী ও সন্ত্রাসী সমর্থকদের অপপ্রচার’ বলে অভিহিত করেছেন।

তবে গত মাসে নিউইয়র্কে অনুষ্ঠিত এই একই মেলায় পশ্চিম তীরের ‘কফার এলদাদ’ এবং ‘কার্নি শমরন’-এর মতো অবৈধ বসতির জমি বিক্রির বিজ্ঞাপন দেওয়ার প্রমাণ পেয়েছিল সংবাদমাধ্যম ‘দি ইন্টারসেপ্ট’। ওই সময় নিউইয়র্কের মেয়র জোহরান মামদানিও ওই প্রদর্শনীর তীব্র বিরোধিতা করেছিলেন।

সূত্র: মিডল ইস্ট আই

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...