গাজায় চলছে চিকিৎসা সরঞ্জামের তীব্র সংকট। যুদ্ধবিরতি চললেও অবরুদ্ধ এই ভূখণ্ডে ত্রাণ সহায়তা প্রবেশে বাধা দিচ্ছে ইসরাইল। ফলে গাজার অবশিষ্ট হাসপাতালেও ব্যাহত হচ্ছে চিকিৎসাসেবা। গাজার খান ইউনুসের একটি হাসপাতালের বিছানায় দিন গুনছেন বারা আবু জায়েদ নামে এক ফিলিস্তিনি নারী। জায়েদ সুস্থ হওয়ার আশায় দিন গুনছেন না; বরং তার ভয় তিনি আর কখনো হয়তো সুস্থই হবেন না। কারণ, সুস্থ হওয়ার মতো কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবাই পাচ্ছেন না তিনি।
ইসরাইলের বোমা হামলায় তিন সন্তানের জননী জায়েদ ২০২৪ সালের মাঝামাঝি সময়ে দক্ষিণ গাজার রাফায় তার নিজ বাড়ি থেকে পালিয়ে খান ইউনুসের তাঁবুতে আশ্রয় নিয়েছিলেন। সেখানেও ড্রোন হামলা শুরু করে ইসরাইল। তখনই নিহত হয় তার দুই সন্তান। আহত হয় ১৩ বছর বয়সি মেয়ে ওবাইদা আর তিনি।
মিডল ইস্ট আইকে তিনি বলেন, তাদের হাসপাতালে আনলেও আহতদের চাপ, প্রাথমিক ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব এবং স্বাস্থ্যব্যবস্থায় ধসÑসব মিলিয়ে তাদের সুচিকিৎসা তো দূরের কথা, কোনো চিকিৎসাই হয়নি।
হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বারা জায়েদ ও তার মেয়ের জরুরি অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন। আর এজন্য তাদের বিদেশে নেওয়া জরুরি। কিন্তু গাজার শেষ লাইফলাইন মিসরের সঙ্গে রাফাহ ক্রসিং একেবারে সিল করে দিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এ নিয়ে অনুরোধ করার পরও কোনো সুরাহা হয়নি। ফলে অসুস্থ অবস্থাতেই মৃত্যু হয় ওবাইদার।
গাজার হাজার হাজার আহতের মধ্যে একজন আবু জায়েদ। অক্টোবরে ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হওয়ার পর থেকেই আশায় ছিলেন তাদের চিকিৎসার জন্য বিদেশে পাঠানো হবে। কিন্তু রাফাহ ক্রসিং খুলে না দেওয়ায় পুরোপুরি হতাশ হয়েছেন তিনি। এক মাসেরও বেশি সময় ধরে অপেক্ষার পরও এর কোনো সুরাহ হয়নি। ইসরাইল ক্রসিং খুলে দিতে পুরোপুরি অস্বীকার করেছে, যা রীতিমত যুদ্ধবিরতি চুক্তির লঙ্ঘন।
খান ইউনুসের নাসের হাসপাতালে শয্যাশায়ী জায়েদের শারীরিক ও মানসিক অবস্থা দিন দিন খারাপ হচ্ছে। আবেগঘন কণ্ঠে আবু জায়েদ বলেন, তিনি এখন প্রতিদিন মৃত্যুর স্বাদ পাচ্ছেন। কারণ, তার সুস্থতার জন্য বেশ কয়েকটি অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। আর এ জন্য তাকে বিদেশে পাঠানো দরকার। বিদেশে চিকিৎসায় পাঠানো রোগীদের তালিকায় তার নামও রয়েছে। কিন্তু তার শঙ্কা, অপেক্ষা করার মতো হয়তো পর্যাপ্ত সময়ও তিনি পাবেন না।
বর্তমানে মাত্র কয়েকটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র আংশিকভাবে কার্যকর রয়েছেÑযারা ন্যূনতম চিকিৎসাসেবা দিয়ে যাচ্ছে। যুদ্ধের প্রথম দিকে আহতদের মধ্যে সাত হাজার ৬০০ জনেরও বেশি রাফা ক্রসিং দিয়ে মিসরে চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। কিন্তু ২০২৪ সালে রাফায় হামলার পর থেকে ক্রসিংটি সিল করে দেওয়া হয়। ফলে বহির্বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে গাজা।
এদিকে যুদ্ধবিরতির মধ্যেই গাজার পরিস্থিতি স্থিতিশীল রাখতে এবং স্থানীয় বেসামরিক নিরাপত্তা বাহিনীকে আরো শক্তিশালী করতে সেখানে কিছু নিরস্ত্র পুলিশ অফিসার পাঠিয়েছে জার্মান সরকার। জার্মান প্রেস এজেন্সিকে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়েছেন, মধ্যপ্রাচ্যে স্থায়ী শান্তির জন্য একটি কার্যকর পুলিশ বাহিনী অপরিহার্য। এজন্য তিনি চারজন পুলিশ অফিসারের সমন্বয়ে একটি দলকে গত দুই সপ্তাহ আগে সেখানে পাঠিয়েছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



