৮ হাজার কর্মকর্তাকে বরখাস্তের আদেশে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

৮ হাজার কর্মকর্তাকে বরখাস্তের আদেশে স্বাক্ষর করলেন ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ছবি : সংগৃহীত

মার্কিন প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করার প্রক্রিয়া সহজ করতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। কেন্দ্রীয় জনবল সংস্কারের অংশ হিসেবে গতকাল বুধবার তিনি এই আদেশ দেন, যার ফলে সরকারের সবচেয়ে বেশি বেতন পাওয়া প্রায় ৮ হাজার কর্মকর্তা চাকরিচ্যুতির ঝুঁকিতে পড়লেন।

হোয়াইট হাউস এবং অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট (ওপিএম) কর্তৃক প্রকাশিত এই আদেশের মাধ্যমে মূলত সরকারের নীতিনির্ধারণে ‘প্রভাব বিস্তারকারী’ জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের চাকরিগত সুরক্ষা কেড়ে নেওয়া হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এই কর্মকর্তাদের বার্ষিক আয় প্রায় ২ লাখ ডলার পর্যন্ত।

বিজ্ঞাপন

সরকারি মানবসম্পদ নীতিমালা তদারককারী সংস্থা ‘অফিস অব পার্সোনেল ম্যানেজমেন্ট’-এর পরিচালক স্কট কুপার বলেন, ‘প্রশাসনের নীতিগত অগ্রাধিকারগুলো বাস্তবায়নে আদেশ মেনে কাজ করতে ইচ্ছুক এবং সক্ষম ব্যক্তিদেরই নিয়োগ দেওয়া প্রয়োজন।’

তিনি আরো বলেন, ‘আপনার যেকোনো রাজনৈতিক মতামত থাকতে পারে। কিন্তু আপনি যদি সেই মতামতের কারণে প্রশাসনের বৈধ আদেশ ও নীতিগত নির্দেশনা বাস্তবায়নে অনীহা প্রকাশ করেন, তবে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলো যেকোনো ব্যক্তিকে ইচ্ছানুযায়ী বরখাস্ত করতে পারবে।’

ধনকুবের ইলন মাস্ক সরকারি ব্যয় ও জনবল কমানোর প্রচেষ্টা তদারকির পদ ছেড়ে দেওয়ার এক বছর পর এই আদেশ এলো। এর মাধ্যমে স্পষ্ট ট্রাম্প তার রাজনৈতিক লক্ষ্যগুলোকে বাধাগ্রস্ত করে এমন পেশাদার স্থায়ী কর্মকর্তাদের নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং বরখাস্তের প্রচেষ্টায় অবিচল রয়েছেন।

ট্রাম্প বিশ্বাস করেন, তার প্রথম মেয়াদে স্থায়ী সরকারি কর্মকর্তাদের বিরোধিতার কারণেই তার অনেক এজেন্ডা বা কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত হয়েছিল।

অবশ্য এই আদেশের আওতায় আসা কর্মকর্তাদের সংখ্যাটি প্রাথমিক পূর্বাভাসের চেয়ে অনেক কম। এর আগে ধারণা করা হয়েছিল প্রায় ৫০ হাজার কর্মকর্তা নতুন নিয়মের আওতায় পড়তে পারেন।

জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ট্রাম্প চাইলে এই সংখ্যা আরো বাড়াতে পারেন, তবে এই মুহূর্তে তার তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই।

এদিকে, এই নীতি চূড়ান্ত রূপ পাওয়ার আগেই তা ঠেকাতে গত জানুয়ারি মাসে ফেডারেল শ্রমিক ইউনিয়ন এবং তাদের সহযোগীরা মামলা দায়ের করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসন নীতিগত পরিবর্তনগুলো চূড়ান্ত করার সময় পর্যন্ত ফেডারেল আদালতের বিচারকেরা এই মামলার আইনি প্রক্রিয়া স্থগিত রেখেছিলেন।

সূত্র: রয়টার্স

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন