যুক্তরাষ্ট্রের কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে বৈষম্যের অভিযোগে মামলা করেছেন বর্তমান ও সাবেক কয়েকজন ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী ও কর্মী।
তাদের অভিযোগ, ২০২৩ সালের শেষ দিক থেকে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনি সম্প্রদায়ের সদস্যদের প্রতি বৈষম্যমূলক আচরণ করছে।
নিউইয়র্কের একটি আদালতে দায়ের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের হয়রানি থেকে সুরক্ষা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে পক্ষপাতদুষ্ট ও অন্যায্য শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে ।
মামলাকারীদের দাবি, ফিলিস্তিনিদের অধিকার নিয়ে কথা বলা এবং গাজায় ইসরাইলি হামলার প্রতিবাদ করার কারণে অনেক শিক্ষার্থী ও কর্মীকে বিশেষভাবে নজরদারি ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থার মুখোমুখি হতে হয়েছে। তবে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয় এর আগে বৈষম্যের অভিযোগ অস্বীকার করেছে এবং সব ধরনের বিদ্বেষের নিন্দা জানিয়েছে। নতুন এই মামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি।
২০২৩ সালের অক্টোবরে গাজা যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়সহ যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিক্ষোভকারীরা গাজায় ইসরাইলের হামলার প্রতিবাদ, ইসরাইলকে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন বন্ধ এবং ইসরাইল-সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিনিয়োগ প্রত্যাহারের দাবি জানান। গত বছরের মে মাসে ফিলিস্তিনপন্থি একটি বিক্ষোভে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান গ্রন্থাগার বন্ধ করে দেওয়ার ঘটনায় কলম্বিয়া ৬৫ জনের বেশি শিক্ষার্থীকে সাময়িক বরখাস্ত করে। ওই সময় বিশ্ববিদ্যালয়টি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা করছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন ফিলিস্তিনপন্থি বিক্ষোভের সময় ইহুদিবিদ্বেষের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা না নেওয়ার অভিযোগে কলম্বিয়ার ফেডারেল অর্থায়ন বন্ধ করে দেয়। পরে তদন্ত নিষ্পত্তি এবং অধিকাংশ ফেডারেল অর্থায়ন পুনর্বহালের জন্য বিশ্ববিদ্যালয়টি মার্কিন সরকারের সঙ্গে ২০ কোটি ডলারের বেশি অর্থ পরিশোধের একটি সমঝোতায় পৌঁছায়। তবে বিক্ষোভকারীদের একাংশ, যার মধ্যে কিছু ইহুদি সংগঠনও রয়েছে, বলছে—গাজায় ইসরাইলি হামলা বা ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে দখলদারিত্বের সমালোচনা করাকে ইহুদিবিদ্বেষ হিসেবে দেখানো উচিত নয়।
তাদের মতে, ফিলিস্তিনিদের অধিকারের পক্ষে কথা বলাকে উগ্রবাদ সমর্থনের সঙ্গে এক করে দেখা হচ্ছে।
মতপ্রকাশের স্বাধীনতা নিয়ে কাজ করা বিভিন্ন সংগঠনও কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের বিক্ষোভ দমনের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছে। বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার কারণে অনেক শিক্ষার্থী গ্রেপ্তার, সাময়িক বরখাস্ত, বহিষ্কার এবং ডিগ্রি বাতিলের মতো শাস্তির মুখোমুখি হয়েছেন বলে তারা অভিযোগ করেছে। নতুন এই মামলার মাধ্যমে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে ফিলিস্তিনি শিক্ষার্থী ও কর্মীদের প্রতি আচরণ এবং যুক্তরাষ্ট্রের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফিলিস্তিনপন্থি আন্দোলন দমনের প্রশ্নটি আবারও সামনে এসেছে।
এআরই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

