কারাগারে কুমির রাখার পরিকল্পনা স্থগিত করল ইসরাইল

কারাগারে কুমির রাখার পরিকল্পনা স্থগিত করল ইসরাইল
ছবি: সংগৃহীত।

ইসরাইলের নেগেভ মরুভূমিতে অবস্থিত কেতজিওত কারাগারের চারপাশে কুমির রাখার পরিকল্পনা সাময়িকভাবে স্থগিত করে দিয়েছে ইসরাইলি আদালত। দেশটির উগ্র ডানপন্থী নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গভিরের পরিকল্পনা অনুযায়ী গাজা থেকে আটক ফিলিস্তিনি বন্দিদের রাখা এই কারাগারের চারপাশে খনন করা পরিখায় কুমির ছাড়ার কথা ছিল। খবর আনাদোলুর।

বিজ্ঞাপন

ইসরাইলের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম কান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, প্রাণী অধিকার সংগঠন ‘লেট দ্য অ্যানিমালস লিভ’ এই পরিকল্পনার বিরুদ্ধে আবেদন দাখিল করার পর রোববার সন্ধ্যায় জেরুজালেম জেলা আদালত এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা জারি করে।

বিচারক আভরাহাম রুবিন পরিবেশ সুরক্ষামন্ত্রী ইদিত সিলমানের এক সিদ্ধান্তের ভিত্তিতে কর্তৃপক্ষকে যেকোনো পদক্ষেপ নিতে নিষেধ করেছেন। সিলমানের ওই সিদ্ধান্তে কুমিরকে ‘পোষা বন্যপ্রাণী’ হিসেবে শ্রেণিবদ্ধ করা হয়েছিল, যা আইনি কাঠামোয় কুমির স্থানান্তর ও কারাগারে রাখার অনুমতি দিত।

কান জানায়, বেন-গাভির, সিলমান ও ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষের বিরুদ্ধে প্রশাসনিক আবেদন দাখিলের কয়েক ঘণ্টা পরই এই রায় আসে। এই বিরোধের কেন্দ্রে রয়েছে সিলমানের ১৫ জুলাইয়ের সিদ্ধান্ত, যার লক্ষ্য ছিল কারাগারে ‘প্রতিরোধমূলক ও নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা’ হিসেবে কুমির ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়া।

আবেদনে বলা হয়েছে, এই সিদ্ধান্ত কুমিরের আইনি মর্যাদা পরিবর্তন করে এবং সুরক্ষিত বন্যপ্রাণী হিসেবে তাদের ওপর প্রযোজ্য নিয়ন্ত্রণ ও লাইসেন্সিং ব্যবস্থা প্রত্যাহার করে নেয়।

কান-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইসরাইলি কারা কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই কারাগারের চারপাশে খাল খননসহ অবকাঠামো নির্মাণকাজ শুরু করে দিয়েছিল, এবং জাতীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয় এই পাইলট প্রকল্পের জন্য প্রায় ২ কোটি ১০ লাখ শেকেল (আনুমানিক ৬৯ লাখ মার্কিন ডলার) বরাদ্দ করেছিল।

২০২২ সালের শেষদিকে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বেন-গভির ফিলিস্তিনি বন্দিদের আটক পরিস্থিতি কঠোরতর করার তদারকি করে আসছেন, যার মধ্যে রয়েছে অনাহারে রাখা, চিকিৎসা অবহেলা, নির্যাতন ও একাকী বন্দিত্বের মতো নীতি। ফিলিস্তিনি ও ইসরাইলি মানবাধিকার সংগঠনগুলোর তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার ৫০০ ফিলিস্তিনি বন্দি—নারী ও শিশুসহ—ইসরাইলি কারাগারে কঠোর পরিস্থিতিতে আটক রয়েছেন, যাদের মধ্যে বহুজনের মৃত্যু হয়েছে বলে অভিযোগ, যার কারণ হিসেবে অনাহার, নির্যাতন ও চিকিৎসা অবহেলাকে দায়ী করা হয়েছে।

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন