হোম > আমার দেশ স্পেশাল

উত্তরাঞ্চলে চালের বাজারে উত্তাপ, কেজিতে বেড়েছে ২-৩ টাকা

সবুর শাহ্ লোটাস, বগুড়া

উত্তরাঞ্চলের প্রধান চালের মোকামগুলোতে গত দেড় থেকে দুই মাস স্থিতিশীল থাকার পর আবারও বাড়তে শুরু করেছে চালের দাম। গত সপ্তাহে বিভিন্ন ধরনের চালের পাইকারি দামে কেজিতে ২-৩ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। ধানের মূল্যবৃদ্ধি, বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয় বেড়ে যাওয়া এবং বাজারে ধানের সরবরাহ কম থাকাকে দাম বাড়ার কারণ হিসেবে দেখছেন মিল মালিক ও ব্যবসায়ীরা।

এতে করে মিলগেট থেকে পাইকারি, পাইকারি থেকে খুচরাÑ সব পর্যায়েই পড়ছে এর প্রভাব। ইরি-বোরো মৌসুমের ধান ঘরে তোলা শেষ হলেও নতুন আমন ধান বাজারে আসতে আরো প্রায় এক মাস বাকি। এই মধ্যবর্তী সময়ে চালের বাজার অস্থির হওয়ার আশঙ্কা করছেন ব্যবসায়ীরা। উৎপাদন ও পরিবহন ব্যয় বাড়তে থাকলে সামনে চালের দাম আরো বাড়তে পারে।

সরেজমিনে বগুড়া, নওগাঁ, জয়পুরহাটসহ উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন চালের মোকাম ও মিল ঘুরে এমন চিত্র দেখা গেছে। গত দুই মাস সরকারি খাদ্যগুদামে চাল সরবরাহের কারণে অনেক রাইস মিলে কাজের চাপ কম ছিল। সম্প্রতি বাজারে চাহিদা বাড়ায় সেসব মিলেও ব্যস্ততা ফিরতে শুরু করেছে। তবে ধানের বাড়তি দাম ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপে আগের দামে চাল সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সান্তাহারের এক অটো রাইস মিল মালিক বলেন, ধানের দাম, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয়—সবকিছুর খরচ বেড়েছে। ধান কেনা থেকে শুরু করে শ্রমিকের মজুরি, বিদ্যুৎ, প্যাকেজিং ও পরিবহন পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ে ব্যয় বাড়ায় আগের দামে চাল সরবরাহ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বাজার পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে মিলগেটে চালের দাম সমন্বয় করতে হচ্ছে।

সান্তাহারের বুশরা অটো রাইস মিলস ও বৈশাখী অটো রাইস মিলের মালিকেরা জানান, মিল থেকে খুচরা বাজার পর্যন্ত চাল পৌঁছাতে কয়েকটি ধাপ অতিক্রম করতে হয়। সাম্প্রতিক সময়ে পরিবহন ব্যয় ও বিদ্যুৎ বিল বেড়ে যাওয়ায় তার প্রভাব পাইকারি ও খুচরা বাজারে পড়ছে। তবে শুধু পরিবহন ব্যয়কে চালের দাম বাড়ার একমাত্র কারণ হিসেবে দেখলে পুরো পরিস্থিতি বোঝা যাবে না। ধানের বাজারদর, উৎপাদন খরচ এবং সরবরাহ পরিস্থিতিও এখানে গুরুত্বপূর্ণ।

তাদের মতে, বাজার স্থিতিশীল রাখতে মিলারদের পাশাপাশি পাইকার ও খুচরা ব্যবসায়ীদের বিক্রয়মূল্য নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা প্রয়োজন।

নওগাঁর চালের মোকামে গত সপ্তাহে দাম কিছুটা বেড়েছে। একই সঙ্গে কয়েক দিন ধরে চাহিদাও বাড়ছে। স্থানীয় পাইকারি বিক্রেতারা জানান, দীর্ঘদিন চালের চাহিদা কম থাকায় জেলার মোকাম ও মিলগেট পর্যায়ে বিক্রিতে একধরনের স্থবিরতা তৈরি হয়েছিল। তবে সপ্তাহখানেক ধরে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে চালের চাহিদা বাড়তে শুরু করেছে। এতে মোকামগুলোতে আবারও কর্মচাঞ্চল্য ফিরেছে।

নওগাঁ শহরের পার-নওগাঁ এলাকার আড়তদারপট্টি, জয়পুরহাট ও বগুড়ার কয়েকটি চালকল ঘুরে আড়ত ও মিলগেটে ক্রেতা-বিক্রেতাদের আনাগোনা বাড়তে দেখা গেছে। দেড় মাস ধরে প্রায় স্থিতিশীল থাকার পর বর্তমানে পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি স্বর্ণা-৫ চাল ৪৬ থেকে ৪৭ টাকা, জিরাশাইল ৫৮ থেকে ৬২ টাকা এবং কাটারিভোগ ৭৮ থেকে ৮২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এসব চাল ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে আরো বেশি দামে বিক্রি করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন মোকামে আসা গাজীপুরের ব্যবসায়ী সালাউদ্দিন।

নওগাঁ জেলা চালকল মালিক গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক ফরহাদ হোসেন বলেন, এক মাসের বেশি সময় ধরে মোকাম ও মিলগেটে ক্রেতা প্রায় ছিল না বললেই চলে। চালের বাজারে বড় ধরনের ধস নামতে পারে এমন আশঙ্কাও ছিল ব্যবসায়ীদের মধ্যে। সরকারি খাদ্যগুদামে এবার চালের মজুত বেশি থাকায় বাজার এত দিন স্থিতিশীল ছিল।

তিনি বলেন, বর্তমানে চাহিদা বাড়ায় চালের দাম কেজিতে ২ থেকে ৩ টাকা বেড়েছে। স্বর্ণা-৫ ও জিরাশাইলের দাম কিছুটা স্থিতিশীল থাকলেও মিনিকেট ও কাটারিভোগের দাম তুলনামূলক বেশি বেড়েছে।

সান্তাহারের বেলকম অটো, সালমান অটো ও বৈশাখী অটো রাইস মিলসের মালিক এবং জয়পুরহাটের বটতলির মিল মালিক লেবু মোল্লা, ক্ষেতলালের নুরুল ইসলাম ও দিনাজপুরের আহম্মেদ উল্লাহ আমার দেশকে বলেন, ইরি মৌসুম শেষ হয়েছে, সামনে আমন মৌসুম। এ সময়ে ধানের দাম বাড়তির দিকে থাকায় মোকামে চালের দাম কেজিতে ১ থেকে ২ টাকা বেড়েছে। বিদ্যুৎ ও পরিবহন ব্যয়ও বাড়ায় আগামী দিনে চালের বাজার স্থিতিশীল রাখা কঠিন হতে পারে।

জয়পুরহাট চেম্বারের সভাপতি আনোয়ারুল হক আনু বলেন, ইরি মৌসুমের শেষ এবং আমন ধান বাজারে আসার আগের প্রায় এক মাস চালের বাজারে অস্থিতিশীলতা দেখা দেয়। এবারও তার ব্যতিক্রম হয়নি। এ পরিস্থিতিতে বাজার নিয়ন্ত্রণে সরকারের কার্যকর বাজার ব্যবস্থাপনা দ্রুত নিশ্চিত করা প্রয়োজন।

ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবির) দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৪ সেপ্টেম্বর মাঝারি (পাইজাম ও আটাশ) চালের দাম কেজিতে ৩ টাকা বেড়ে সর্বনিম্ন ৫৮ টাকায় বিক্রি হয়। যেটি এর আগে সর্বনিম্ন ৫৫ টাকা ছিল। এরপর মাঝারি চালের দাম আর না বাড়ার তথ্য রয়েছে সংস্থাটির।

এদিক, চালের বাজারে নতুন করে মূল্যবৃদ্ধির প্রবণতার মধ্যে সামগ্রিক মূল্যস্ফীতিও বেড়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) হিসাবে, গত সেপ্টেম্বরে দেশে সার্বিক মূল্যস্ফীতি বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৮.৩৪ শতাংশে। আগস্টে এ হার ছিল ৮.২৬ শতাংশ। একই সময়ে খাদ্য মূল্যস্ফীতিও সামান্য বেড়েছে।

সংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, নতুন আমন ধান বাজারে আসার আগ পর্যন্ত সরবরাহ ও চাহিদার ভারসাম্য বজায় রাখা না গেলে চালের বাজারে ঊর্ধ্বমুখী চাপ অব্যাহত থাকতে পারে। এ অবস্থায় বাজার তদারকি জোরদার করার পাশাপাশি উৎপাদন, পরিবহন ও সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যয় পর্যালোচনা করে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন তারা।

পাঁচ বছরে জাপান বিনিয়োগ করবে ৬.৩ বিলিয়ন ডলার

জেলেদের জীবনমান উন্নয়নে ৪৭ কোটি টাকার প্রকল্প

হাসিনাসহ খুনিদের ফাঁসি চায় শহীদ পরিবার ও জামায়াত

অসুখের সঙ্গে আসে ঋণ, চিকিৎসায় নিঃস্ব পরিবার

জামিনে মুক্ত অপরাধীরা ফের পুরোনো অপরাধে

নৃশংস হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে সোচ্চার জামায়াত

ইস্টার্ন রিফাইনারি সম্প্রসারণ আটকে যাওয়ার নেপথ্যে

কৌশলগত সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নেওয়ার প্রত্য়য়

নিরাপদ খাদ্য পাওয়াই বড় চ্যালেঞ্জ

রাষ্ট্রপতি-প্রধানমন্ত্রীর বেতন বৃদ্ধিতে ধীরে চলো নীতি