হোম > আমার দেশ স্পেশাল

জাল সনদে চাকরি আওয়ামীপন্থি ১৩ শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীর

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়

বাদশাহ ওসমানী, রংপুর

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ জন শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে জাল সনদ দিয়ে চাকরি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। তারা সবাই আওয়ামী লীগের পদধারী ও মতাদর্শের বলে পরিচিত। বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দীর্ঘদিন ধরে জাল সনদ দিয়ে চাকরি করে তারা আত্মসাৎ করেছেন সরকারি অর্থ। বিষয়গুলো জেনেশুনেও তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না নেওয়ায় উপাচার্য শওকত আলীর বিরুদ্ধে আওয়ামীপন্থি শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীদের পুনর্বাসনের অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, এর আগে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমে কয়েকজন শিক্ষক-কর্মকর্তা ও কর্মচারীর চাকরিতে যোগদানে জাল সনদ, শিক্ষাগত যোগ্যতার এবং অভিজ্ঞতার ঘাটতি ছিল উল্লেখ করে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেই সংবাদের সূত্র ধরে দুদক বিশ্ববিদ্যালয়ের কাছে সঠিক তথ্য চেয়ে বিষয়গুলো নিয়ে জানতে চেয়েছে। এ নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্টার ড. হারুন আর রশিদ- শিক্ষক, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সনদ এবং অভিজ্ঞতা যাচাই-বাছাই শুরু করেন।

শুরুতেই তিনি বেশ কয়েকজন শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারীর জাল সনদ, ঘষামাজা সার্টিফিকেট এবং অভিজ্ঞতার ক্ষেত্রে ব্যাপক গরমিল খুঁজে পান। এ বিষয়ে চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি এগুলো যাচাই-বাছাই করে যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা ছাড়াই জাল সনদে চাকরি করছেন আওয়ামীপন্থি এমন ১৩ জন শিক্ষক কর্মকর্তা- কর্মচারীর সার্বিক তথ্য তুলে ধরে তাদের নাম উল্লেখ করে একটি প্রতিবেদন দাখিল করেন।

রেজিস্টার তার প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, মো. সোহেল রানা সহকারী পরিচালক শারীরিক শিক্ষা বিভাগ। তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে যোগদান করেছেন ২০১৯ সালের মার্চ মাসে। যাচাই করে তার স্নাতক ও স্নাকোত্তর সনদ সঠিক নয় বলে প্রমাণিত হয়।

একইভাবে জাল সনদে ২০০৯ সালে যোগদান করে সহকারী স্টোর এবং কেন্দ্রীয় ভাণ্ডার পদে এখনো চাকরি করছেন মো. রেহমান সরকার। এমদাদুল হক একই সালে জাল সনদে গ্রেড-২ ভূগোল ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগে চাকরি করছেন। সেকশন অফিসার গ্রেড টু পদে মো. মনিরুজ্জামান, ক্যাটালগার সেন্টার ল্যাবরেটরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টার পদে চাকরি করছেন মো. মাহফুজুর রহমান, উপ-রেজিস্টার (স্টুডেন্ট ও ক্যাশ শাখা) পদে সাবেক উপাচার্যের ভাই মো. মাহবুবার রহমান।

২০১০ সালে জাল সনদে চাকরিতে যোগদান করে সহকারী রেজিস্টার ইইই বিভাগে চাকরি করছেন মো. শহীদ আল মামুন। ২০১১ সালে জাল সনদে চাকরিতে যোগদান করে সেকশন অফিসার গ্রেড ওয়ান পদে চাকরি করছেন মো. আতিকুজ্জামান সুমন। মো. আলমগীর হোসেন জাল সনদ এবং ভুয়া পুলিশ ভেরিফিকেশন রিপোর্ট জমা দিয়ে ক্যাটালগার সেন্টার ল্যাবরেটরি অ্যান্ড ইনফরমেশন সেন্টার পদে এখন পর্যন্ত চাকরি করছেন। ২০১১ সালে জাল সনদে মো. আবু তাহের মণ্ডল চাকরিতে যোগদান করে এখনো সিনিয়র সেমিনার সহকারী পদে চাকরিতে বহাল তবিয়তে আছেন।

অপরদিকে মো. সোহান মিয়া নিয়োগের শর্ত পূরণ না করে, অভিজ্ঞতা এবং যোগ্যতা অর্জন ছাড়াই ২০১০ সালে এসএসসি পাস করে প্রথমে অস্থায়ীভাবে ২০১১ সালে চাকরিতে যোগদান করেন। এরপর ২০১২ সালে সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর পদে যোগ্যতা ছাড়াই নিয়োগ পান। তিনি সনদ গোপন করে এখন সেকশন অফিসার গ্রেড টু পদে দিব্যি চাকরি করছেন।

বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-গ্রন্থাগার মো. মামদুদুর রহমান কেন্দ্রীয় গ্রন্থাগার পদে অভিজ্ঞতার শর্ত পূরণ না করেই ২০০৯-এর আগস্ট থেকে চাকরি করছেন। তার বিষয়ে তদন্তে উল্লেখ করা হয়েছে যে পদে তিনি এখন চাকরি করছেন সে পদের অভিজ্ঞতার দরকার ছিল পাঁচ বছর। কিন্তু সেটা তার ছিল না। তিনি ২০০৯ সালের ৭ জুন আওয়ামী লীগের প্যাডে সুপারিশ এনে ওই সময় অভিজ্ঞতা ছাড়াই চাকরিতে যোগদান করেন।

এ বিষয়ে মামদুদুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি আমার দেশকে বলেন, আমি নিয়োগ বিজ্ঞপ্তির শর্ত মোতাবেক যোগদান করেছি। আমি কোনো ওষুধ কোম্পানি থেকে আসিনি। তাছাড়া কোনো দলীয় পরিচয় আমি নিয়োগ নেইনি। ২০১৪ সাল থেকে আমি জিয়া পরিষদের সদস্য হিসেবে বিএনপি করে আসতেছি।

এ বিষয়ে বাচাই কমিটির সদস্য উপ-রেজিস্টার তারিকুল ইসলামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, দুদক থেকে আমাদের কাছে যে তথ্য চাওয়া হয়েছিল আমরা যাচাই-বাছাই করে কিছুসংখ্যক জাল সনদধারী এবং যোগ্যতা এবং অভিজ্ঞতা অর্জন ছাড়াই চাকরিতে যোগদানকারীদের বিরুদ্ধে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। সে বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করে দুদক তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেবেন।

বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র কয়েকজন শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী নাম প্রকাশ না করা শর্তে বলেন, যে সব শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী দীর্ঘদিন জাল সনদ ও অভিজ্ঞতা এবং যোগ্যতা অর্জন ছাড়াই বিশ্ববিদ্যালয় চাকরি করে সরকারি টাকা আত্মসাৎ করছেন। তাদের বিরুদ্ধে জেনেশুনেও উপাচার্য ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রশাসনের দুর্বলতা ফুটে উঠেছে। এখন যেহেতু সব পরিষ্কার হয়েছে। কারা কারা শুরু থেকে আজ পর্যন্ত অবৈধ পন্থায় চাকরি করছেন তাদের বিরুদ্ধে বর্তমান উপাচার্য ব্যবস্থা গ্রহণ না করে পক্ষপাতিত্ব করছেন। ভিসি তাদেরকে আজ পর্যন্ত একটি নোটিস ও দেননি।

এ বিষয়ে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য শওকত আলীর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, বিষয়গুলো দুর্নীতি দমন কমিশন তদন্ত করে দেখছেন। তবে এসব বিষয় নিয়ে ফোনে কথা বলা ঠিক হবে না। সামনাসামনি আসেন পেপারসগুলো দেখে কথা বলব।

রংপুর দুর্নীতি দমন কমিশনের উপ-পরিচালক শাওন মিয়া আমার দেশকে বলেন, বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের জাল সনদ এবং যোগ্যতা ও অভিজ্ঞতা অর্জন ছাড়াই যেসব শিক্ষক কর্মকর্তা-কর্মচারী চাকরি করছেন তাদের বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একটি রিপোর্ট আমাদের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে। আমরা আমাদের তদন্ত কর্মকর্তা নিয়োগ করে বিষয়গুলো যাচাই-বাছাই করছি। যাচাই বাছাই শেষ হলেই আমরা বিস্তারিত জানাবো।

গণহারে পুনঃতফসিল ও নীতি ছাড়ে কমল খেলাপি ঋণ

জমে উঠেছে কেরানীগঞ্জ গার্মেন্ট পল্লীর পাইকারি বাজার

জ্বালানি সরবরাহে বিপর্যয়ের শঙ্কা, খরচ বাড়বে আমদানি পণ্যে

চট্টগ্রামের রাউজানে আধিপত্যের লড়াইয়ে বিএনপিরই ১৫ খুন

স্পিকার পদে আলোচনায় মঈন খান, ডেপুটিতে পার্থ

আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে নারী নির্যাতন

পোস্টাল ব্যালটে ‘নয়-ছয়’ ইসির রাষ্ট্রের গচ্চা ২০ কোটি টাকা

পুলিশের শীর্ষপদ বাগাতে কর্মকর্তাদের দৌড়ঝাঁপ

ড. ইউনূসের বিদায়ে স্বস্তিতে দিল্লি

আসামি করা হচ্ছে হাসিনাসহ আওয়ামী মন্ত্রী-এমপিদের