আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) ঋণচুক্তি নিয়ে উভয় সংকটে পড়েছে বিএনপি সরকার। ঋণের শর্তপূরণ করতে গেলে বড় ধরনের মূল্যস্ফীতির আশঙ্কা, অন্যদিকে ঋণ না পেলেও রিজার্ভ সংকট, বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময়হারে অস্থিতিশীলতা তৈরি এবং আন্তর্জাতিক আস্থা হারানোর মতো শঙ্কার মুখে পড়তে হতে পারে সরকারকে।
এটিকে সরকারের জন্য কঠিন পরিস্থিতি উল্লেখ করে অর্থনীতিবিদরা বলছেন, আওয়ামী লীগের আমলে দেশের অর্থনীতিতে যে বিপর্যস্ত অবস্থা ছিল, সেখানে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে কিছুটা স্বস্তি ফিরেছিল। কিন্তু মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি ও বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের প্রধান উৎস নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ অবস্থায় আইএমএফের ঋণ কর্মসূচি থেকে বের হওয়া সম্ভব হবে না। অর্থনীতির সংকটময় সময়ে কঠিন শর্তে ঋণচুক্তি করেছিল আওয়ামী লীগ সরকার। এখনো সে সংকট কাটিয়ে উঠতে পারেনি দেশ।
পলিসি এক্সচেঞ্জ অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী মাসরুর রিয়াজ আমার দেশকে বলেন, দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমাদের আইএমএফের ঋণচুক্তিতে থাকতে হবে। রিজার্ভের পরিমাণ বাড়লেও এটি কাঙ্ক্ষিত অবস্থায় নেই। আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির জন্য ৫-৬ শতাংশ আমদানি বাড়াতে হবে। কিন্তু আমদানি বাড়ানোর জন্য আমাদের রিজার্ভ যথেষ্ট নয়। আমাদের চলতি লেনদেন ভারসাম্যে কয়েকশ মিলিয়ন উদ্বৃত্ত হলেও সার্বিক লেনদেন ভারসাম্যে এখনো বড় ধরনের ঘাটতির মধ্যে রয়েছে। রেমিট্যান্সের কারণে রিজার্ভে ও চলতি হিসাব ভারসাম্যে উদ্বৃত্ত হলেও কোনো কারণে এটি বাধাগ্রস্ত হলে আমাদের মুদ্রা বিনিময়হারেও বড় ধরনের অস্থিরতা তৈরি হতে পারে।
তিনি আরো বলেন, সব ধরনের ভর্তুকি তুলে নেওয়া এবং সবক্ষেত্রে কর অব্যাহতি সুবিধা বাতিল করার মতো আইএমএফ যেসব শর্ত দিয়েছে, সেগুলো খুব সহসা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। এক্ষেত্রে সরকার একটি পরিকল্পনা তুলে ধরতে পারে। এজন্য দক্ষ নেগোসিয়েশনে যেতে হবে।
২০২৩ সালের জানুয়ারিতে ৪ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলারের ঋণচুক্তি করে সরকার। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে গত বছরের জুনে আরো ৮০ কোটি ডলার বেড়ে ঋণের আকার দাঁড়ায় সাড়ে পাঁচ বিলিয়ন ডলারে। আওয়ামী লীগের আমলে দুই কিস্তিতে অর্থছাড় দেয় আইএমএফ। এর মধ্যে ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি প্রথম কিস্তিতে ৪৭ কোটি ৭০ লাখ ডলার ঋণ দেওয়া হয়। অর্থনীতি ও নীতিগত শর্ত আংশিক পূরণে ডিসেম্বরে দ্বিতীয় কিস্তির ৬৮ কোটি ২০ লাখ ডলার ছাড় দেয় ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানটি। অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে তিনটি কিস্তি পাওয়া যায়। পাঁচ কিস্তিতে ঋণের ৩৬৪ ডলার পেয়েছে সরকার। ষষ্ঠ কিস্তিতে ১ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার ঋণ পাওয়ার কথা থাকলেও শর্ত পূরণ না হওয়ায় আইএমএফ সে অর্থ ছাড় দেয়নি।
মূলত জ্বালানি ও বিদ্যুত খাতে ভতুর্কি কমানো, ব্যাংকিং খাতে সংস্কার ও খেলাপি ঋণের পরিমাণ কমিয়ে আনা, রাজস্ব খাতে সংস্কার ও জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আহরণের হার বৃদ্ধির যেসব শর্ত রয়েছে, সেগুলো পূরণ না হওয়ায় গত ১৩ থেকে ১৮ এপ্রিল অনুষ্ঠিত আইএমএফের বসন্তকালীন বৈঠকে ষষ্ঠ কিস্তির অর্থছাড়ের প্রতিশ্রুতি পায়নি বাংলাদেশ।
সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের ঘাটতির কারণে ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। ব্যয় মেটাতে ব্যাংকিং খাত থেকে বড় ধরনের ঋণ করতে হচ্ছে। এর মধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বড় ধরনের ভর্তুকি, নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষক কার্ড চালুর কারণে সরকারের ব্যয়ের পরিমাণ বাড়ছে। সাধারণত আইএমএফ যেকোনো খাতে ভর্তুকির বিষয়ে সংরক্ষণশীল নীতি অনুসরণ করে থাকে এবং ভর্তুকি কমিয়ে আনার বিষয়ে সরকারকে পরামর্শ দিয়ে থাকে। বাংলাদেশের সঙ্গে আইএমএফের ঋণচুক্তির অন্যতম শর্ত হচ্ছে ২০২৭ সালের জানুয়ারির মধ্যে জ্বালানি তেল ও বিদ্যুতে ভর্তুকির পরিমাণ শূন্যে নামিয়ে আনা।
বিশ্বব্যাপী যখন জ্বালানি তেলের দাম বাড়ছিল, তখন সরকারের মন্ত্রী ও উপদেষ্টারা দাম না বাড়িয়ে ভর্তুকি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দেন। অপরদিকে অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ‘ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ সংশোধনের মাধ্যমে এস আলমের মতো লুটেরা গোষ্ঠীকে আবার ব্যাংকের মালিকানা ফেরত দেওয়ার পথ তৈরি হয়। এছাড়া রাজস্ব সংস্কারের অংশ হিসেবে ‘রাজস্ব নীতি ও রাজস্ব ব্যবস্থাপনা বিভাগ বাস্তবায়ন অধ্যাদেশ, ২০২৫’ জাতীয় সংসদে অনুমোদন দেয়নি সরকার। বিএনপি সরকারের এসব উদ্যোগকে আইএমএফের নীতির প্রতি এক ধরনের ‘উদাসীনতা’ এবং ‘ভুল বার্তা’ হিসেবে আইএমএফ গণ্য করতে পারে। কিস্তিছাড় না হওয়ার পেছনে এসবের প্রভাব পড়তে পারে বলে ধারণা করছেন সংশ্লিষ্টরা।
অবশ্য আইএমএফের অর্থছাড় না হওয়ার পরপরই ১৮ এপ্রিল রাতে জ্বালানি তেলের দাম ১৫-২০ টাকা বাড়ায় সরকার। তবে আইএমএফের ঋণের শর্তপূরণে নয়, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে দেশের অভ্যন্তরীণ বাজেট ব্যবস্থাপনার প্রয়োজনে বাজারভিত্তিক ফর্মুলা অনুযায়ী দাম সমন্বয় করা হয়েছে বলে জানান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এরপর বিদ্যুতের দাম বৃদ্ধির বিষয়টিও সরকারের বিবেচনাধীন রয়েছে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির কারণে বাজারে বিভিন্ন পণ্যের দাম বাড়তে শুরু করেছে। বর্তমানে উচ্চ মূল্যস্ফীতিকে আরো উসকে দেবে বলে অর্থনীতিবিদরা মনে করছেন।
জানা গেছে, জ্বালানি তেলের ক্রমবর্ধমান দাম বৃদ্ধিসহ সরকারের ব্যয় বেড়ে যাওয়ায় বিভিন্ন দাতাগোষ্ঠীর কাছে ৩ দশমিক ১৫ বিলিয়ন ডলারের মতো ঋণ সহায়তা চেয়েছে সরকার। আইএমএফের কাছ থেকেও আরো ঋণ সুবিধা আশা করছে সরকার। সাধারণত আইএমএফের শর্তপূরণকে ঋণপ্রাপ্তির মানদণ্ড হিসেবে অন্য ঋণদাতা প্রতিষ্ঠানগুলো বিবেচনা করে। এ অবস্থায় আইএমএফের শর্তপূরণে ব্যর্থ হলে এসব ঋণপ্রাপ্তিতে অনিশ্চয়তা তৈরির আশঙ্কা রয়েছে।
আইএমএফের ঋণের শর্ত হিসেবে ২০২৩ সালের জুলাইয়ে রিজার্ভের হিসাব পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনে বাংলাদেশ ব্যাংক। আগে গ্রস হিসাবে রিজার্ভকে দেখানো হতো। এখন বিএমপি৬ অনুযায়ী হিসাব দেখানো হয়। এর ফলে প্রকৃত ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ দেখানো হচ্ছে।
এছাড়া আইএমএফ কৃত্রিমভাবে ডলারের মূল্যমান ধরে রাখার পরিবর্তে চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে অর্থাৎ ডলারের দাম বাজারব্যবস্থার ওপর পুরোপুরি ছেড়ে দেওয়ার শর্তারোপ করে। ২০২৫ সালে অন্তর্বর্তী সরকার সে ব্যবস্থা চালু করে। যদিও স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংক বিভিন্ন সময় ডলার ক্রয়-বিক্রয় করেছে।
ব্যাংকের সংস্কারে আইএমএফের শর্তের মধ্যে খেলাপি ঋণের পরিমাণ হ্রাস, রাজনৈতিক বা প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ কমানো, আন্তর্জাতিক মান ব্যাসেল-২ অনুযায়ী মূলধনের পর্যাপ্ততা বজায় রাখা, কেন্দ্রীয় ব্যাংককে শক্তিশালীকরণ, বড় ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থাসহ যেসব শর্ত আরোপ করেছে, সেগুলোর অধিকাংশই বাস্তবায়ন হয়নি। আওয়ামী লীগ আমলে ব্যাংক খাতে সংস্কারের পরিবর্তে লুটপাট ও খেলাপি ঋণের সংস্কৃতি চালু করে। ব্যাংকিং খাতকে প্রায় ধ্বংস করে দেওয়া হয়। অন্তর্বর্তী সরকার আইএমএফের শর্তানুযায়ী ব্যাংক খাতে সংস্কারে বড় ধরনের উদ্যোগ নিয়েছিল। ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ, ২০২৫ জারির মাধ্যমে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে একীভূত করার প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হয়। কিন্তু বর্তমান সরকারের বেশকিছু পদক্ষেপের কারণে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন নিয়ে সংশয় তৈরি হয়েছে। যদিও বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সংস্কারকাজ এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
আইএমএফের শর্তপূরণে সবচেয়ে বেশি পিছিয়ে রয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। বিশেষ করে রাজস্ব আহরণে শর্তপূরণে পুরোপুরি ব্যর্থ হয়েছে সংস্থাটি।
আইএমএফের ঋণপ্রাপ্তির অন্যতম শর্ত ছিল রাজস্ব-জিডিপির হার বাড়ানো। প্রতি অর্থবছর শূন্য দশমিক ৫ শতাংশ অতিরিক্ত হারে রাজস্বের পরিমাণ বাড়াতে হবে। ২০২৩ সালে যখন ঋণ অনুমোদিত হয়, তখন রাজস্ব-জিডিপির পরিমাণ ছিল ৭ দশমিক ৮ শতাংশ। এ হিসাবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব-জিডিপির অনুপাত ৯ দশমিক ৫ শতাংশে উন্নীত হওয়ার কথা। কিন্তু জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আদায়ের এ হার তো বাড়েইনি; বরং কমেছে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, আওয়ামী লীগ আমলে ডেটা ম্যানুপুলেশনের মাধ্যমে ফুলিয়ে ফাঁপিয়ে জিডিপি বাড়িয়ে দেখানো হয়। এর ফলে জিডিপির আকার বেড়ে যায়। কিন্তু রাজনৈতিক কারণে এবং প্রভাবশালী ও বিভিন্ন গোষ্ঠীস্বার্থে কর অব্যাহতি ও কর রেয়াত দেওয়ার কারণে রাজস্ব আহরণে প্রবৃদ্ধি ঘটেনি। ফলে জিডিপির তুলনায় রাজস্ব আদায়ে আইএমএফের শর্তপূরণ হয়নি আওয়ামী শাসনামলে।
২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মুখে ফ্যাসিস্ট হাসিনা ভারতে পালিয়ে যাওয়ার পর অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। কিন্তু আওয়ামী আমলে অবাধ লুটপাট, দুর্নীতি ও অর্থ পাচারে বিপর্যস্ত অর্থনীতির হাল ধরতে হয় অন্তর্বর্তী সরকারকে। এর মধ্যে আওয়ামী লীগের বড় ব্যবসায়ীরা বিদেশে পালিয়ে যাওয়া কিংবা আত্মগোপনে চলে যাওয়ায় বিদ্যমান বাজার ব্যবস্থাপনা অনেকটাই ভেঙে পড়ে। এর ফলে অর্থনীতিতে একটি মন্দাবস্থা তৈরি হয়। দেশের অর্থনীতির ওপর বিভিন্ন ধরনের চাপ তৈরি হয়। রাজস্ব আদায় বাড়ানোর জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে শতাধিক পণ্য ও সেবায় ভ্যাট ও করের পরিমাণ বাড়ানো হয়। কিন্তু বড় ধরনের সমালোচনার মুখে বেশকিছু পণ্য ও সেবার ক্ষেত্রে অতিরিক্ত ভ্যাট ও শুল্ক প্রত্যাহার করে নেয় সরকার। আওয়ামী লীগ আমলে রাজনৈতিক কারণে কর অব্যাহতি সুবিধা দেওয়া বেশকিছু প্রতিষ্ঠানের সে সুবিধা প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও রাজস্ব আহরণে কর-জিডিপির শর্তপূরণ করতে পারেনি এনবিআর। বর্তমানে কর-জিডিপির হার সাড়ে ৭ শতাংশের মধ্যেই অবস্থান করছে। আইএমএফের শর্তানুযায়ী, চলতি অর্থবছরে এ হার সাড়ে ৯ শতাংশ হওয়ার কথা। কিন্তু নতুন সরকারের মাত্র দুই মাস অতিবাহিত হয়েছে। রাজস্ব আহরণে শর্তপূরণ না হওয়ার বিষয়টি মূলত উত্তরাধিকার সূত্রে বিএনপি সরকারের কাঁধে চেপেছে।
আইএমএফ রাজস্ব আহরণ বাড়াতে সব ধরনের কর অব্যাহতি সুবিধা বাতিল, করের হার বাড়ানো, করের আওতা বৃদ্ধি, ভ্যাটের একক হার ১৫ শতাংশ বাস্তবায়নসহ বেশকিছু শর্ত দিয়েছে। কিন্তু এসব শর্ত পূরণ করতে গেলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যে বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন এনবিআর কর্মকর্তারা। কিছু যৌক্তিক শর্ত থাকলেও বাংলাদেশের বাস্তবতায় সব শর্ত মানা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন তারা।
তারা বলছেন, শুধুমাত্র কর বাড়িয়ে রাজস্ব আদায় বাড়াতে গেলে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগে বড় ধরনের বাধা তৈরি হবে। বরং ব্যবসা-বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির মাধ্যমে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে হবে। এক্ষেত্রে করের হার না বাড়িয়ে করের আওতা বৃদ্ধি ও কর ফাঁকি রোধের কথা বলছে এনবিআর।
এদিকে, শর্তপূরণ না হওয়ার কারণে প্রতিশ্রুতি না পাওয়া গেলেও এ বিষয়ে আইএমএফের সঙ্গে আরো আলোচনা হবে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে নেওয়া ঋণের শর্ত বর্তমান সরকারের কাছে ‘গ্রহণযোগ্য নাও হতে পারে’ বলে মন্তব্য করেন তিনি।
সবশেষ তথ্যানুযায়ী, চলতি অর্থবছরের ৯ মাসে রাজস্ব আহরণে বড় ধরনের হোঁচট খেয়েছে এনবিআর। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় প্রায় ৯৮ হাজার কোটি টাকা কম রাজস্ব আদায় হয়েছে। রাজস্ব আদায় কম হওয়ায় ব্যয় মেটাতে সরকার হিমশিম খাচ্ছে। এরই মধ্যে নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণে সরকার গঠনের এক মাসেরও কম সময়ের মধ্যে ফ্যামিলি কার্ড চালু করে। প্রথম পর্যায়ে দেশের ১৪ উপজেলায় ৩৭ হাজার ৭৬৫ পরিবারের মধ্যে এ কার্ড বিতরণ করা হয় এবং প্রতিটি কার্ডধারী পরিবার মাসে আড়াই হাজার টাকা করে পাবে। এছাড়া সরকার গত ১৪ এপ্রিল চালু করে কৃষক কার্ড। ১০ জেলার ১১ উপজেলার ২২ হাজার ৬৫ কৃষককে এ কার্ড দেওয়া হবে। কার্ডধারী কৃষকরা নগদ সহায়তা, ভর্তুকি, সেচ ও বীমাসহ ১০ ধরনের সুবিধা পাবেন।
বর্তমান সরকারের এসব কার্ড চালু আইএমএফের শর্তের সঙ্গে সাংঘর্ষিক হচ্ছে কি নাÑজানতে চাইলে মাসরুর রিয়াজ বলেন, আইএমএফ এ বিষয়ে প্রশ্ন তুলতেই পারে। সরকার কতটা বিশ্বাসযোগ্যতার সঙ্গে সেটি তুলে ধরতে পারে, সেটি দেখার বিষয়। সরকার যদি প্রমাণ করতে পারে এ ধরনের উদ্যোগ মুল্যস্ফীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক নয়, সরকারের বাজেট কাঠামোয় এর জন্য কোনো ধরনের ঋণ নেওয়া প্রয়োজন হবে না এবং প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর দারিদ্র্য নিরসনে এটির ভূমিকা রয়েছে, তাহলে হয়তো এ নিয়ে প্রশ্ন তোলার সুযোগ থাকবে না।
এমপি