হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

হাসিনার সম্পত্তির ক্রোকাদেশ পুরোপুরি বাস্তবায়ন হয়নি

এম এ নোমান ও আনোয়ারুল আজিম তুহিন

মানবতাবিরোধী অপরাধে মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনাসহ তার পরিবারের সদস্যদের সম্পত্তির একাংশ ক্রোক বা বাজেয়াপ্ত করা হলেও অধিকাংশই এখনো তাদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) ও নিম্ন আদালতে তাদের সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করার নির্দেশ দিলেও অজ্ঞাত কারণে তা পুরোপুরি বাস্তবায়িত হয়নি। এ বিষয়ে সরকারের সংশ্লিষ্ট কেউ মুখ খুলতে রাজি হননি।

এর আগে মানবতাবিরোধী অপরাধে ফাঁসির দণ্ডাদেশ দেওয়ার পাশাপাশি ভারতে পলাতক হাসিনার স্থাবর-অস্থাবর সব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দিয়েছিল আইসিটি। পাশাপাশি ঢাকার বিভিন্ন আদালত দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে হাসিনাপুত্র সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা এবং তার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববি ও মেয়ে টিউলিপ সিদ্দিকসহ তাদের কয়েকজন নিকটাত্মীয়ের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেয়।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, গাজীপুরের ‘টিউলিপ টেরিটরি’র মালিকানা শেখ পরিবারের হাতেই রয়েছে। দেখভালও করছেন তাদেরই লোকজন। এছাড়া রাজধানীর ধানমন্ডির ‘সুধা সদন’ ক্রোকের আদেশ দেওয়া হলেও সেটা এখন ভবঘুরেদের নিয়ন্ত্রণে। তবে ব্যাংকের লকারে থাকা হাসিনার ৮৩২ ভরি স্বর্ণালংকার জব্দ করেছে সরকার।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, রেহানার দেবর তারিক আহমেদ সিদ্দিকের ৫২ বিঘা জমি জব্দের আদেশ বাস্তবায়ন হয়নি। আদালতের আদেশ মেনে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) অনুকূলে নেওয়া ৬০ কাঠার প্লট বাজেয়াপ্ত করা হয়েছে। পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন ব্যাংকে তাদের ১২৪ অ্যাকাউন্টে থাকা ৩৯৪ কোটি টাকা জব্দ করা হয়েছে।

আদালতের আদেশে হাসিনা ও রেহানার সম্পদ বাজেয়াপ্তে ঢিলেভাব রয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন আইনজীবী ও শহীদ পরিবারের সদস্যরা। এটি ন্যায়বিচারের পথে অন্তরায় বলেও জানান তারা। আর আইসিটির চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, আলতের রায় বাস্তবায়নের দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের।

অনুসন্ধানে জানা গেছে, ধানমন্ডির ৫/এ সড়কে ১৬ কাঠা আয়তনের ৫৪ নম্বর ‘সুধা সদন’ নামে পরিচিত বাড়িটি ফ্যাসিস্ট হাসিনা ও তার পরিবারের সদস্যদের বাসভবন হিসেবে ব্যবহার হতো। পরমাণুবিজ্ঞানী ওয়াজেদ মিঞার মৃত্যুর পর ভবনটির মালিক হন জয়, পুতুল এবং হাসিনা। আইসিটির আদেশে হাসিনার অংশ এবং দুদকের আবেদনে ঢাকার একটি আদালত জয় ও পুতুলের অংশ ক্রোক করার নির্দেশ দেয়।

দুদকের এক কর্মকর্তা জানান, হাসিনা মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি। জয় ও পুতুল যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার নাগরিক। তারাও বিভিন্ন মামলায় আসামি। এসব কারণে আদালতে বাড়িটি ক্রোকের আবেদন করা হয়। তবে এটি এখন পরিত্যক্ত ও ধ্বংসপ্রাপ্ত অবস্থায় রয়েছে। এটির মালামাল ও আসবাবপত্র টোকাইরা নিয়ে গেছে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর তদারকি না থাকায় এটি এখন মাদকসেবীদের আড্ডাস্থলে পরিণত হয়েছে।

ক্রোক হয়নি যেসব সম্পদ

২০২৫ সালের ৩০ এপ্রিল ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিবের আদালত হাসিনার পরিবারের পাঁচ সদস্যের বাড়ি ও জমি ক্রোকের আদেশ দেয়। এর মধ্যে পুতুলের রাজধানীর বারিধারার চার কোটি ৯৮ লাখ টাকার বাড়ি, খুলনার দিঘলিয়ায় পুতুল ও জয়ের নামে থাকা ৮৭ দশমিক ৭০ শতাংশ জমি, রেহানা ও তার ছেলে ববি এবং মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকের ৮৭ দশমিক ৭০ শতাংশ জমি এবং গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় রেহানার নামে থাকা ১৯ শতাংশ জমি ক্রোকের আদেশ রয়েছে। আদালতের এ আদেশ এখনো কার্যকর হয়নি বলে জানিয়েছেন আইনজীবীরা। তারা বলেন, দুদকের আবেদনে আদালত এ আদেশ দিলেও এখনো কার্যকরে পদক্ষেপ নেয়নি সরকার।

এছাড়া টিউলিপের নামে গুলশানের ৭১ নম্বর রোডের ১১ নম্বর ভবনের দুই হাজার ৪৩৬ বর্গফুট আয়তনের বি/২০১ নম্বর ফ্ল্যাটটি ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। রেহানার নামে থাকা রাজধানীর সেগুনবাগিচার ৭৯ নম্বর হোল্ডিংয়ের ২০৬ নম্বর ফ্ল্যাট, গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুরে ৮ দশশিক ৫ শতাংশ জমি, ববির নামে থাকা নিকেতনের সাততলা বাড়ির চারতলায় কার পার্কিংসহ এক হাজার ৯২০ বর্গফুটের ফ্ল্যাট এবং একই আয়তনের তৃতীয় তলার আরেকটি ফ্ল্যাটও ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। একই এলাকার অন্য একটি ভবনের কার পার্কিংসহ দ্বিতীয়, পঞ্চম, ষষ্ঠ ও সপ্তম তলায় এক হাজার ৮০০ বর্গফুট করে চারটি ফ্ল্যাট ক্রোকের আদেশ দেয় আদালত। তবে এসব সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ এখনো কার্যকর হয়নি বলে জানান দুদকের এক কর্মকর্তা।

অবরুদ্ধ ১২৪ অ্যাকাউন্ট

২০২৫ সালের ১১ মে ঢাকার আদালত কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি হাসিনা, ছেলে জয়, মেয়ে পুতুল, বোন রেহানাসহ তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ১২৪টি ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধ করার নির্দেশ দিয়েছিল। অপর এক আদেশে শেখ মুজিবুর রহমান মেমোরিয়াল ট্রাস্ট, সেন্ট্রার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই), সূচনা ফাউন্ডেশন, বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘর এবং আবু সিদ্দিক মেমোরিয়াল ট্রাস্টের ব্যাংক হিসাব অবরুদ্ধের আদেশ দেওয়া হয়। আদালতের এ দুটি আদেশ কার্যকর হয়েছে বলে জানান দুদকের কর্মকর্তারা।

দুদকের অনুসন্ধান টিমের এক সদস্য জানান, দুর্নীতির অভিযোগ থাকায় হাসিনা, রেহানা, জয়, পুতুল ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্টদের নামে ৩১টি ব্যাংক হিসাবে থাকা ৩৯৪ কোটি ৬০ লাখ ৭২ হাজার টাকা দুদকের আবেদনে অবরুদ্ধ করা হয়েছে। তিনি বলেন, হাসিনা, রেহানা, জয়, পুতুল ও তাদের স্বার্থসংশ্লিষ্ট ৩১টি অ্যাকাউন্টের অস্থাবর সম্পদ অন্যত্র হস্তান্তর, স্থানান্তর বা বেহাত করার চেষ্টা করেছেন, এটা জানতে পেরে দুদকের পক্ষ থেকে বিপুল এ টাকা অবরুদ্ধের আবেদন করলে ঢাকা মহানগর সিনিয়র স্পেশাল জজ জাকির হোসেন গালিব ওই আদেশ দেন।

এছাড়া পুতুলের গুলশানের একটি ফ্ল্যাট জব্দ এবং সূচনা ফাউন্ডেশনের ১৪টি ব্যাংক হিসাবে গচ্ছিত ৪৮ কোটি ৩৫ লাখ টাকা অবরুদ্ধ করা হয়েছে বলে জানান ওই কর্মকর্তা। এ বিপুল অর্থ রাষ্ট্রের অনুকূলে বাজেয়াপ্ত করার বিষয়টি এখন প্রক্রিয়াধীন বলেও জানান তিনি।

শেখ পরিবারে নিয়ন্ত্রণে ‘টিউলিপ টেরিটরি’

দুদকের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গাজীপুর মহানগর থেকে থেকে ১৩ কিলোমিটার দূরে মৌচাকের তেলিরচালায় ৩৫ বিঘার ওপর টিউলিপের নামে গড়ে তোলা হয় ‘টিউলিপ টেরিটরি’। এছাড়া বাঙ্গালগাছ এলাকায় ২৫ বিঘা এবং ফাওকাল এলাকায় ২৩ বিঘার ওপর দুটি বাগানবাড়ি রয়েছে রেহানা পরিবারের। রেহানার স্বামী ড. শফিক আহমেদ সিদ্দিক ও তাদের সন্তান ববির নামে রয়েছে আরো ২৩১ শতক জমি। শফিক ও ববির নামে ১৮টি দলিলে কেনা হয় এ বিপুল পরিমাণ জমি। দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২৫ সালের ২৪ জুলাই ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত এসব সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ দেয়। সবশেষ তথ্যানুযায়ী, এসব সম্পত্তি এখনো রেহানা পরিবারের সদস্যদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে। তাদের নিয়োজিত কেয়ারটেকার এগুলোর দেখভাল করছেন।

হাসিনার ৮৩২ ভরি স্বর্ণ জব্দ

আইসিটির হাসিনার সব স্থাবর ও অস্থাবর সম্পত্তি জব্দের রায় তামিল করতে গিয়ে দুদক অগ্রণী ব্যাংকে তার দুটি লকারের সন্ধান পায়। দুদকের অনুসন্ধান টিমের এক সদস্য জানান, হাসিনার দুটি লকার থেকে ৮৩২ ভরি স্বর্ণালংকার পাওয়া গেছে। লকার খোলার সময় দুদকের কর্মকর্তাদের পাশাপাশি এনবিআরের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সেলের (সিআইসি) সদস্য ও বাংলাদেশ ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

দুদকের কর্মকর্তারা জানান, হাসিনা এ বিপুল সোনা আয়কর বিবরণীতে দেখাননি। এখানে তিনি সম্পদের তথ্য গোপন করেছেন।

তারিক সিদ্দিকের জমি জব্দের আদেশ বাস্তবায়ন হয়নি

হাসিনার সাবেক সামরিক নিরাপত্তা উপদেষ্টা ও রেহানার দেবর তারিক আহমেদ সিদ্দিক ও তার স্ত্রী শাহীন সিদ্দিকের নামে গাজীপুরে থাকা ৫২ বিঘা জমি জব্দের আদেশ দিয়েছিল ঢাকার মেট্রোপলিটন সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালত। এসব জমির মূল্য দেখানো হয়েছে ২৬ কোটি ১৮ লাখ টাকা। আদালত জব্দের আদেশ দিলেও বর্তমানে এসব সম্পত্তি তাদের নিয়ন্ত্রণেই রয়েছে বলে সূত্র জানিয়েছে।

রাজউকের ৬০ কাঠার প্লট বাজেয়াপ্ত

রাজউকের আলোচিত পূর্বাচল নতুন শহর প্রকল্পে স্বয়ং নিজের নামে প্লট বরাদ্দ নিয়েছেন হাসিনা। শুধু তিনি একা নন, তার ছেলে জয়, মেয়ে পুতুল, ছোট বোন রেহানা ও তার দুই ছেলেমেয়ে ১০ কাঠা করে প্লট নেন। বর্তমান বাজারমূল্যে প্রতিটি প্লটের দাম ১২ কোটি টাকা করে বলে জানান দুদকের কর্মকর্তারা। তাদের এসব প্লট আয়কর বিরণীতেও দেখানো হয়নি। আদালতের আদেশে এসব প্লট বরাদ্দ বাতিল করে রাজউকের অনুকূলে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন সংস্থাটির কর্মকর্তারা।

ক্রোকের দায়িত্ব নির্বাহী বিভাগের

সম্পত্তি ক্রোকের আদেশ বাস্তবায়নের দায়িত্ব রাষ্ট্রের নির্বাহী বিভাগের বলে জানান চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। আমার দেশকে তিনি জানান, আইসিটি আইনানুযায়ী, ট্রাইব্যুনাল যে কোনো মামলার রায় দিতে পারে। তবে তা বাস্তবায়নের দায়িত্ব স্বরাষ্ট্র ও আইন মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্টদের। বাস্তবায়নের বিষয়ে প্রসিকিউশেনের কিছু করার থাকে না। আদালতের আদেশের যাবতীয় নথিপত্র সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরে পাঠানো হয়েছে। এখন কার্যকর করা তাদের দায়িত্ব।

বাস্তবায়নের অগ্রগতি নিয়ে আপনাদের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে যোগাযোগ করা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, প্রসিকিউশনের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়নি। এ বিষয়ে অগ্রগতি নিয়ে কিছু জানি না।

আদেশ বাস্তবায়ন চান বিশিষ্টজনেরা

আদালতের দেওয়া আদেশ বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো কারণ ছাড়াই বিলম্ব হলে সরকারের নেতিবাচক ভাবমূর্তি তৈরি হবে। এছাড়া জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে সরকারের সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন উঠবে বলে মনে করেন রাষ্ট্রবিজ্ঞানী ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক অধ্যাপক ড. দিলারা চৌধুরী। তিনি আমার দেশকে বলেন, জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার নিয়ে সরকারের একটা কালক্ষেপণ নীতি লক্ষ্য করা যাচ্ছে। এতবড় একটা খুনির বিষয়ে আদালত রায় দিয়েছে, দ্রুতসময়ে আদেশ বাস্তবায়ন করা ছিল সরকারের প্রধান দায়িত্ব, অথচ গড়িমসি করছে। কী কারণে এসব করছে তারাই ভালো জানে। এই সরকারের মূল ভিত্তিই হলো জুলাই শহীদেরা। সবার আগে এসব হত্যাকাণ্ডের ন্যায়বিচারের বিষয়ে মনোযোগী হওয়া উচিত ছিল সরকারের। কিন্তু দুঃখজনকভাবে আমরা তা দেখছি না। পলাতক খুনিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ কার্যকরে আরো বিলম্ব হলে জনমনে একটা আস্থার সংকট তৈরি হবে। এটা একটা গভীর সংকট তৈরি করতে পারে বলেও মনে করেন তিনি।

পলাতকদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করতে আদালতের দেওয়া আদেশের বাস্তবায়নের বিষয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল, বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, দুদক নিজেরাই উদ্যোগী হয়ে ব্যবস্থা নিয়েছে এবং এর ফলে আদালত সম্পত্তি জব্দের আদেশ দিয়েছে, যা অত্যন্ত ইতিবাচক। মনে রাখতে হবে, এটা বড় আইনি প্রক্রিয়ার একটি অংশ মাত্র। বাংলাদেশের বাস্তবতায় ক্ষমতার সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের বিশেষ করে ক্ষমতাসীনদের ঘনিষ্ঠ বা প্রভাবশালী এমন ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনের নির্মোহ প্রয়োগ হবে এটা ভাবা সহজ বিষয় নয়। এ ক্ষেত্রে আমরা এমন কিছু দেখতে চাই না। দেশবাসীর সঙ্গে আমরাও চাই, অবৈধভাবে অর্জিত সব সম্পদ আদালতের নির্দেশনা মেনেই যেন বাজেয়াপ্ত করা হয়।

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এহসান আব্দুল্লাহ সিদ্দিকী বলেন, আইসিটির দেওয়া আদেশ বাস্তবায়ন সবকিছুর ওপর অগ্রাধিকার পায়। এ বিষয়ে বিলম্ব হওয়া কাম্য নয়। ক্ষমতাচ্যুত হয়ে পলাতক হাসিনাসহ যাদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ দেওয়া হয়েছে, এ বিষয়ে কালক্ষেপণ করা উচিত হবে না। ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনসহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সামষ্টিক তৎপরতা জরুরি। অনেক ক্ষেত্রে দেখা যায়, সমসাময়িক সংকট মোকাবিলা করতে গিয়ে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু চাপা পড়ে যায়। সেক্ষেত্রে সমন্বিত তৎপরতা থাকলে দ্রুত সময়ে বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।

শহীদ পরিবারের উদ্বেগ

আইসিটির তিন মামলায় হাসিনাসহ ছয় আসামির সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ এতদিনেও পুরোপুরি কার্যকর না হওয়ায় শহীদ পরিবারসহ ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষ থেকে ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করা হয়েছে। আদেশ বাস্তবায়নে সরকারের সদিচ্ছা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তারা। এ বিষয়ে উদাসীনতা স্পষ্ট হয়েছে বলে মনে করেন তারা।

শহীদ শাহরিয়ার খান আনাসের মা সানজিদা খান দিপ্তী ক্ষোভ প্রকাশ করে আমার দেশকে বলেন, খুনিরা আমার প্রিয়তম সন্তান আনাসসহ এদেশের শত শত ছেলেমেয়েকে হত্যা করেছে। হাজারো মায়ের বুক খালি করেছে। শহীদের বাবা-মায়েরা সন্তান হারিয়ে দিশাহারা হয়ে বেঁচে আছেন। আর খুনিরা বিদেশে আরাম-আয়েশে জীবন কাটাচ্ছে। তাদের মৃত্যুদণ্ড হলেও এখনই কার্যকরের সুযোগ নেই। তাদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ কার্যকর করা হলেও একটা দৃষ্টান্ত তৈরি হতো। কিন্তু দুঃখের বিষয় হলো, রায়ের পর সাত মাস পার হয়েছে, এখন পর্যন্ত সরকার এ বিষয়ে কোনো উদ্যোগ নেয়নি। সরকারের সদিচ্ছা নিয়ে আমাদের সন্দেহ হচ্ছে। এ বিষয়ে সর্বোচ্চ উদাসীনতা দেখতে পাচ্ছি আমরা।

তিনি আরো বলেন, সরকারের কাছে আমার আবেদন, যেন দ্রুত সময়ে হাসিনাসহ খুনিদের সম্পত্তি বাজেয়াপ্তের আদেশ বাস্তবায়ন করা হয়। আন্দোলনে আহত হাজার হাজার মানুষ অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে পারছে না। এই অর্থ যেন তাদের চিকিৎসায় ব্যয় করা হয়। আমি আমার কলিজার টুকরা আনাসকে হারিয়েছি। আমার কিছু লাগবে না। একটাই চাওয়াÑখুনিদের যেন বিদেশ থেকে ফিরিয়ে এনে বিচার নিশ্চিত করা হয়।

শহীদ ফারহান ফাইয়াজের বাবা শহীদুল ইসলাম ভূঁইয়া আমার দেশকে বলেন, এতদিনেও সরকার কেন খুনিদের সম্পদ বাজেয়াপ্তের আদেশ কার্যকরে কোনো উদ্যোগ নিচ্ছে না, আমরা জানতে চাই। এটা খুবই দুঃখজনক। সরকারের কাছে আমার আবেদন, যেন দ্রুত সময়ে আদালতের দেওয়া আদেশ বাস্তবায়ন করা হয়।

[প্রতিবেদন তৈরিতে সহযোগিতা করেছেন গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার নাসির আহমেদ ও খুলনা ব্যুরো প্রধান এহতেশামুল হক শাওন]

বিএসএফের বুলেটে চোখ হারিয়ে অনিশ্চিত জীবন

বর্ষায় বিপর্যস্ত দেশ

গণহত্যার কুশীলব ৮০ পুলিশ কর্মকর্তার বিদায় চূড়ান্ত

ফিরল তত্ত্বাবধায়ক সরকার ও গণভোট

কাজের খোঁজে ঢাকা অভিমুখে জনস্রোত

বিতর্ক পিছু ছাড়ছে না জামায়াত এমপিদের

বৃষ্টির ত্রুটিপূর্ণ প্রতিবেদন দিচ্ছে পানি উন্নয়ন বোর্ড

পলাতক ৩ জেনারেল এখন কলকাতার সেনা এলাকায়

কেউই খোঁজ নেয় না দুই শিশুর হত্যাকারী ইয়াসমিনের

সরানো হচ্ছে ৫ আগস্টের আগের ১৬৯ পুলিশ সদস্যকে