হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

আপনার ভোট অন্য কেউ দিলে কী করবেন

সংসদ নির্বাচনের টুকিটাকি

বিশেষ প্রতিনিধি

কোনো ভোটার ভোটকেন্দ্রে গিয়ে যদি দেখেন তার ভোট অন্য কেউ দিয়ে গেছেন, তখন তার করণীয় কী? জাল ভোটের মাধ্যমে কোনো ব্যক্তির ভোট অন্য কেউ আগেই দিয়েছেন। এসব ক্ষেত্রে ওই ভোটার ভোট না দিয়ে ফিরে আসেন। এমন দৃশ্য সচরাচর দেখা যায়। তবে নির্বাচনি আইন অনুযায়ী (আরপিও) বিকল্প পদ্ধতিতে ওই ভোটারের ভোট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। কোনো ভোটার যদি প্রমাণ করতে সক্ষম হন তিনি ভোট দেননি। তার নামে যে ব্যক্তি ভোট দিয়ে গেছেন, ওই ব্যক্তি তিনি নন। তাহলে তিনি ভোটদানের জন্য প্রিসাইডিং অফিসারের কাছে ব্যালট পেপার দাবি করতে পারবেন।

এক্ষেত্রে প্রিসাইডিং অফিসার তার নামে ব্যালট ইস্যু করবেন। তবে ওই ভোটার ভোট দিলেও তা ব্যালট বক্সে ফেলা হবে না। ওই ব্যালট আলাদা খামে করে রাখা হবে এবং ওই ভোট গণনার আওতায় আসবে না। আইনের ভাষায় এই ভোটটিকে বলা হয় ‘টেন্ডার্ড ভোট’। বাংলাদেশের নির্বাচনি আইনে এই ভোটের বিধান থাকলেও এ সম্পর্কে ভোটারদের যেমন খুব একটা ধারণা নেই, তেমনি এর প্রচলনও নেই। গণনার আওতায় না আসায় টেন্ডার্ড ভোটকে সান্ত্বনামূলক ভোটও বলা হয়।

ভোটার হিসেবে আপনার বিরুদ্ধে আপত্তি হলে করণীয়

টেন্ডার্ড ভোটের পাশাপাশি আরেকটি ক্ষেত্রে ভোটদানের সুযোগ রয়েছে। এক্ষেত্রে কোনো ভোটার ভোট দিতে গেলে পোলিং এজেন্ট যদি দাবি করেন যে, ইতঃপূর্বে এ নির্বাচনে ওই ব্যক্তি একই বা অন্য কোনো ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন অথবা যে ব্যক্তির নামে ভোট দিতে চাচ্ছেন, তিনি সেই ব্যক্তি নন। এক্ষেত্রে ওই ব্যক্তি আদালতে অভিযোগ প্রমাণে অঙ্গীকার করে মুচলেকা হিসেবে নগদ ১০০ টাকা জমা দেবেন। তখন ওই ব্যক্তির অনুকূলে ব্যালট ইস্যু করবেন প্রিসাইডিং অফিসার। ওই ব্যক্তির নাম-ঠিকানা লিখে ‘আপত্তিকৃত ভোট তালিকা’ হিসেবে তা ব্যালট বাক্সে না ফেলে ‘আপত্তিকৃত ব্যালট পেপার’ (চ্যালেঞ্জড ব্যালট পেপারে) লেভেলযুক্ত একটি স্বতন্ত্র খামে রাখা হবে। অবশ্য ‘টেন্ডার্ড ভোট’ গণনার আওতায় না এলেও আপত্তিকৃত ভোট গণনার আওতায় আসবে। ফলে ওই ভোট কোনো প্রার্থীর জয়-পরাজয়ে ভূমিকা রাখতে পারে।

নির্বাচনি এজেন্ট ও পোলিং এজেন্ট

যে কোনো নির্বাচনে প্রার্থী তার নির্বাচনি এজেন্ট ও পোলিং এজেন্ট নিয়োগের বিধান রয়েছে। কোনো প্রার্থী কেবল একজন নির্বাচনি এজেন্ট এবং তার নির্বাচনি এলাকার কেন্দ্রগুলোতে যতগুলো ভোটকক্ষ রয়েছে, ততসংখ্যক পোলিং এজেন্ট নিয়োগ দিতে পারেন। অর্থাৎ, যে কোনো নির্বাচনে একজন নির্বাচনি এজেন্ট ও একাধিকসংখ্যক পোলিং এজেন্ট নিয়োগের সুযোগ রয়েছে।

নির্বাচনি এজেন্ট নির্বাচনি এলাকায় প্রার্থীর প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ অনুযায়ী প্রার্থী নিজ নির্বাচনি এলাকার যোগ্য ভোটারকে নির্বাচনি এজেন্ট হিসেবে নিয়োগ দিতে পারবেন, যিনি সংসদ সদস্য হওয়ার যোগ্যতাসম্পন্ন। এ ক্ষেত্রে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে লিখিত নোটিস দিতে হবে। প্রয়োজনে এজেন্ট পরিবর্তন বা বাতিলও করা যাবে। ভোটকক্ষ ছাড়াও সংসদ নির্বাচনে পোস্টাল ব্যালট গণনার জন্য প্রতি আসনে একজন করে পোলিং এজেন্ট দেওয়ার সুযোগ রয়েছে।

নির্বাচনি এজেন্টের যোগ্যতার বিষয়টি স্পষ্ট করা থাকলেও পোলিং এজেন্টের বিষয়ে আইন বা বিধিতে সেভাবে কিছু বলা নেই। তবে তাকে পোলিং এজেন্ট হিসেবে প্রার্থী বা তার নির্বাচনি এজেন্ট নিয়োগ দিয়েছেন—এমন প্রমাণ লাগবে।

কয়েকজন রিটার্নিং কর্মকর্তার সঙ্গে আলাপকালে জানা গেছে, পোলিং এজেন্ট নিয়োগের কোনো শর্ত না থাকলেও জাতীয় পরিচয়পত্র ব্যতীত কাউকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হবে না। ব্যক্তি শনাক্তকরণ ও নিরাপত্তা ইস্যুতে এনআইডি চাওয়া হয়েছে বলে রিটার্নিং কর্মকর্তারা জানান। এক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট ভোটকেন্দ্রের ভোটারকে তারা প্রাধান্য দিচ্ছেন। অবশ্য অন্য কোনো এলাকার হলেও পোলিং এজেন্ট নিয়োগে আপত্তি করা হচ্ছে না।

অভিজ্ঞতা ছাড়াই ভোটের আয়োজন

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে কোনো অভিজ্ঞতা ছাড়াই সরাসরি বড় পরীক্ষায় বসতে হচ্ছে নির্বাচন কমিশনকে (ইসি)। ইতঃপূর্বে কোনো নির্বাচন আয়োজন না করেই নাসির কমিশনকে একইদিনে সংসদ নির্বাচন এবং জুলাই জাতীয় সনদের ওপর গণভোটের মতো বড় কর্মযজ্ঞ বাস্তবায়ন করতে হচ্ছে। একই দিনে সংসদ নির্বাচন ও গণভোট দেশের ইতিহাসে এবারই প্রথম।

জুলাই গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর ২০২৪ সালের ২৪ নভেম্বর নাসির উদ্দিনের নেতৃত্বাধীন বর্তমান ইসি দায়িত্ব নেয়। সাড়ে ১৪ মাসের এই কমিশনের ভোটগ্রহণের বাস্তব অভিজ্ঞতা নেই বললেই চলে। কমিশন দায়িত্ব নেওয়ার পর কোনো স্থানীয় সরকার বা উপনির্বাচন আয়োজন না করেই সরাসরি জাতীয় নির্বাচন করছে। একইদিনে বড় দুটি ভোট আয়োজনের পেছনে কমিশনের বাস্তব অভিজ্ঞতা হচ্ছে, একটি কেন্দ্রে চার ঘণ্টায় ৫০০ ভোটারের একটি ‘মক ভোটিং’। এছাড়া সিইসিসহ অন্য কমিশনারদের কর্মজীবনেও মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তা হিসেবে নির্বাচনি দায়িত্ব পালনের খুব বেশি অভিজ্ঞতা নেই বলে জানা গেছে।

দুটি ব্যালটই নিতে হবে, সিল না দিলেও ফেলতে হবে বাক্সে

নারী-তরুণরাই হবেন ভোটের ‘গেম চেঞ্জার’

ভোটে গুরুত্ব পাচ্ছে যেসব ইস্যু

বিদেশি পর্যবেক্ষকদের জন্য থাকবে বিশেষ নিরাপত্তা

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী হলে মিলবে যেসব সুফল

হাসিনার জালিয়াতির তিন নির্বাচন

৪৩ জেলায় ৭০০০ কিমি ঘুরে নির্বাচনি প্রচার জামায়াত আমিরের

১৯ দিনে তারেক রহমানের ৪৩ জনসভা

ভোট ডাকাতির পথপ্রদর্শক শেখ মুজিব

ঘরে বসেই যেভাবে জানবেন ভোটকেন্দ্র ও বুথের তথ্য