হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

রাজধানীতে ধর্মীয় উপাসনালয়ে গিয়ে শান্তি ও ঐক্যের প্রতিশ্রুতি প্রার্থীদের

মাহমুদুল হাসান আশিক

প্রতীকী ছবি

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে রাজধানীতে জমে উঠেছে নির্বাচনি প্রচার। ভোটারদের কাছে পৌঁছাতে প্রার্থীদের প্রচারের কেন্দ্রবিন্দুতে উঠে এসেছে মসজিদ, মন্দির, মাজার, শহীদদের কবর ও শহীদ পরিবারের বাড়ি। শান্তি, সম্প্রীতি ও ঐক্যের বার্তা দিতে ধর্মীয় ও আধ্যাত্মিক স্থানগুলোতে প্রার্থীদের সরব উপস্থিতি লক্ষ করা যাচ্ছে।

প্রচারের প্রথম দিন ২২ জানুয়ারি থেকেই রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় প্রার্থীদের মসজিদে নামাজ আদায় করে মুসল্লিদের সঙ্গে মতবিনিময় করতে দেখা যায়। কেউ কেউ এক দিনে একাধিক মসজিদে নামাজ আদায় করছেন—ফজর এক এলাকায়, জোহর অন্য এলাকায়, আবার আসর, মাগরিব ও এশা ভিন্ন ভিন্ন মসজিদে। নামাজ শেষে উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচারের প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভোটারদের সঙ্গে কথা বলছেন তারা। অনেক প্রার্থী মাজার জিয়ারতের মধ্য দিয়ে গণসংযোগ শুরু করছেন।

একই সঙ্গে সন্ধ্যা ও রাতে বিভিন্ন এলাকায় মন্দিরে গিয়ে হিন্দু সম্প্রদায়ের ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করছেন প্রার্থীরা। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও সহাবস্থান বজায় রাখার আশ্বাস দিচ্ছেন তারা। এছাড়া কেউ কেউ শহীদদের কবর জিয়ারত ও শহীদ পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে নির্বাচনি প্রচার শুরু করছেন। শহীদদের আত্মত্যাগ স্মরণ করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও দেশ গঠনের অঙ্গীকার তুলে ধরছেন প্রার্থীরা।

গত মঙ্গলবার ঢাকা-১৫ আসনে পূর্ব কাজীপাড়ার ইটখোলা বাজার বায়তুর রহমান জামে মসজিদে আসরের নামাজের পর জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষে গণসংযোগে অংশ নেন বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের সদ্য সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম। কচুক্ষেত স্বাধীনতা চত্বরের মুহাম্মাদিয়া জামে মসজিদসহ আগারগাঁও ও শামীম সরণি এলাকার বিভিন্ন মসজিদে রাত পর্যন্ত গণসংযোগ করেন জামায়াতের নেতাকর্মীরা।

ঢাকা-১৬ আসনে জামায়াত প্রার্থী কর্নেল (অব.) আব্দুল বাতেন পল্লবী এলাকার বাইতুন নূর মসজিদে ফজরের নামাজ আদায়ের মধ্যদিয়ে দিনব্যাপী প্রচার শুরু করেন। পরে মিরপুর ১১, ঝুটপট্টি ও মিল্লাত ক্যাম্প এলাকায় নামাজ ও উঠান বৈঠকের মাধ্যমে ভোটারদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। রাত পর্যন্ত বিভিন্ন এলাকায় তার গণসংযোগ কার্যক্রম চলে।

ঢাকা-১৮ আসনে জামায়াতসহ ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী ও জাতীয় নাগরিক পার্টির সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব তুরাগ থানা এলাকায় ভোর থেকে গণসংযোগ করেন। মোল্লারটেক কেন্দ্রীয় মসজিদ, মুন্সি মার্কেট ও দেওয়ানবাড়ি মসজিদে নামাজ আদায়ের পর এলাকাব্যাপী প্রচার চালান তিনি।

ঢাকা-৫ আসনে জামায়াত প্রার্থী কামাল হোসেন বিভিন্ন মসজিদে নামাজ আদায়ের পাশাপাশি হিন্দুপাড়া এলাকায় গণসংযোগ করেন। রাতে ডগাই এলাকার হিন্দু সম্প্রদায়ের কেন্দ্রীয় মন্দিরে গিয়ে ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন তিনি।

অন্যদিকে, বিএনপির প্রার্থীরাও ধর্মীয় ও সামাজিক স্থানে প্রচারে সক্রিয়। গত ২৩ জানুয়ারি ঢাকা-৬ আসনে বিএনপি প্রার্থী ইশরাক হোসেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের জগন্নাথ হলের সরস্বতী পূজা ও রমনা কালী মন্দিরে গিয়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। একই দিনে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস পূজামণ্ডপে অংশ নিয়ে ভোটারদের উদ্দেশে বক্তব্য দেন। গতকাল তিনি মালিবাগ ও মৌচাক এলাকায় গণসংযোগ ও মিছিল করেন।

এছাড়া শহীদ পরিবারের বাড়ি ও মাজার জিয়ারতের মধ্যদিয়ে প্রচার শুরু করেছেন একাধিক প্রার্থী। ঢাকা-১৩ আসনে বিএনপি প্রার্থী ববি হাজ্জাজ এবং ঢাকা-১৪ আসনে বিএনপি প্রার্থী সানজিদা ইসলাম তুলিসহ বিভিন্ন দলের প্রার্থীরা শহীদদের স্মরণ ও মাজার জিয়ারতের মাধ্যমে নির্বাচনি মাঠে নামেন।

২২ জানুয়ারি শুরু হওয়া এই প্রচার কার্যক্রম চলবে আগামী ১০ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত। রাজধানীতে মাইকিং, স্লোগান ও ছোট পথসভার পাশাপাশি ধর্মীয় উপাসনালয়ে প্রার্থীদের এই সক্রিয় উপস্থিতি ভোটের মাঠে নতুন মাত্রা যোগ করেছে। শান্তি, ঐক্য ও সহাবস্থানের বার্তা ভোটারদের কতটা প্রভাবিত করবে—সেদিকেই এখন দৃষ্টি সবার।

জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে ফ্যাসিবাদ সমর্থকদের পৃষ্ঠপোষকতা

নির্বাচনের আগেই প্রাথমিকে ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ

মামুনের পক্ষে বিএনপির বেশির ভাগ নেতাকর্মী

নতুন সরকারের শপথের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন

নির্বাচনি কর্মকর্তাদের গণভোটের প্রচারে নিষেধাজ্ঞা ইসির

রাজধানীতে প্রার্থীদের প্রতিশ্রুতির বন্যা

হত্যায় অনীহা দেখানো র‍্যাব সদস্যদের ‘কাপুরুষ’ বলে ধমকাতেন জিয়াউল

প্রার্থীদের পদচারণে মুখর রাজধানীর অলিগলি

নিরাপত্তার শঙ্কায় জামায়াত জোটের প্রার্থীরা

আমরা চাঁদা নেব না, কাউকে চাঁদাবাজি করতেও দেব না