হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

টেলিকম নীতিমালায় বিদেশিদের অগ্রাধিকার, বাড়ছে অসন্তোষ

ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট

আল-আমিন

জুলাই বিপ্লবের পর অন্তর্বর্তী সরকার টেলিযোগাযোগ খাতের নীতিমালা পরিবর্তনের উদ্যোগ নিয়েছিল। ওই খসড়ায় ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার (আইএসপি) লাইসেন্স বিলুপ্তির উদ্যোগের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে সংশ্লিষ্ট ছোট প্রতিষ্ঠানগুলো। বিভিন্ন পক্ষ থেকে আপত্তি আসায় অন্তর্বর্তী সরকার শেষ পর্যন্ত সেই নীতিমালা চূড়ান্ত করতে পারেনি। সে সময় বিএনপির পক্ষ থেকে বলা হয়েছিল, ক্ষমতায় গেলে তারা অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিমালা পরিমার্জন করবে।

চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর টেলিযোগাযোগ এবং ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট খাতে বিদেশি বিনিয়োগের পথ উন্মুক্ত ও সহজ করতে ‘টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক ও লাইসেন্সিং পলিসি, ২০২৬’-এর একটি নতুন খসড়া প্রণয়ন করা হয়। প্রস্তাবিত নীতিমালায় বিদেশি উদ্যোক্তাদের জন্য ব্রডব্যান্ড নেটওয়ার্কে সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ এবং মোবাইল অপারেটরের ক্ষেত্রে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশি বিনিয়োগের বিধান রাখা হয়েছে।

বর্তমান সরকারের এই নীতিমালাতেও বিদেশি প্রতিষ্ঠানগুলোকে অধিক সুযোগ দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলো। বিষয়টি নিয়ে টেলিকম খাতের দেশি উদ্যোক্তাদের মাঝে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।

দেশি উদ্যোক্তারা বলছেন, প্রস্তাবিত নীতিমালায় বিদেশি কোম্পানিগুলোকে একইসঙ্গে একাধিক স্তরে ব্যবসা ও বিনিয়োগের সুযোগ দেওয়া হলেও দেশি উদ্যোক্তাদের জন্য সে সুযোগ সীমিত রাখা হয়েছে। এতে বৈষম্যমূলক প্রতিযোগিতার ক্ষেত্র তৈরি করা হচ্ছে। এর ফলে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলো অস্তিত্ব সংকটে পড়বে। পাশাপাশি দেশের ইন্টারনেট মূল অবকাঠামোর ওপর নিয়ন্ত্রণ বিদেশিদের হাতে চলে যাওয়ার শঙ্কা করছেন তারা।

জানা গেছে, নতুন প্রস্তাবিত নীতিমালায় ব্রডব্যান্ড ও আইএসপি খাতে দেশি প্রতিষ্ঠানগুলোর পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগের সর্বোচ্চ সীমা ৮০ শতাংশ করার প্রস্তাব রাখা হয়েছে। এখানে স্থানীয়দের জন্য অন্তত ২০ শতাংশ ইকুইটি বা মালিকানা সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। টেলিকম টাওয়ার, অপটিক্যাল ফাইবার ডেটা ক্যাবলসহ শেয়ার্ড ইনফ্রাস্ট্রাকচার খাতেও সর্বোচ্চ ৮০ শতাংশ বিদেশি মালিকানার অনুমোদন প্রস্তাব করা হয়েছে। দেশের সীমান্ত স্পর্শ করা আন্তর্জাতিক কানেক্টিভিটি খাতে বিদেশি মূলধনের সর্বোচ্চ সীমা রাখা হয়েছে ৪৯ শতাংশ। অর্থাৎ, এই কৌশলগত স্পর্শকাতর ক্ষেত্রে কমপক্ষে ৫১ শতাংশ মালিকানা ও মূল পরিচালনা পর্ষদের নিয়ন্ত্রণ বাংলাদেশিদের হাতে থাকবে। তবে জাতীয় নিরাপত্তাসংক্রান্ত বিশেষ শর্ত পূরণসাপেক্ষে মহাকাশ ও স্যাটেলাইটভিত্তিক ইন্টারনেট এবং টেলিকম সেবায় সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বিদেশি মূলধনের সুযোগ রাখা হয়েছে।

দেশি উদ্যোক্তারা বলছেন, লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকায় এ পলিসি বাস্তবায়ন হলে বৈষম্য বাড়বে। এতে পথে বসতে পারে দেশি উদ্যোক্তারা। পাশাপাশি স্থানীয় প্রতিষ্ঠানগুলোও অস্তিত্ব সংকটে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। ২০৩৬ সাল নাগাদ দেশে ব্যান্ডউইথের চাহিদা ৪৩২ টেরাবিটে পৌঁছাতে পারে। এজন্য নীতিমালার ক্ষেত্রে সরকারকে আরো ভেবে দেখার আহ্বান জানিয়েছেন তারা। টেলিকম বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগ আসা দরকার রয়েছে; বিদেশি রিজিওনাল প্লেয়ারদেরও দরকার আছে। কিন্তু নীতিমালার খেলায় দেশি-বিদেশি প্লেয়ারদের জন্য একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ থাকতে হবে।

ব্রডব্যান্ড-সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য

এ খাতের বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ইন্টারনেট কেবল যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি একটি স্বাধীন রাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও তথ্যের মূল ভিত্তিও। তবে বিটিআরসির প্রস্তাবিত খসড়াটি পাস হলে দেশের আন্তর্জাতিক সাবমেরিন কেবল কানেক্টিভিটি থেকে শুরু করে সাধারণ নাগরিকের বাসাবাড়ির রাউটার পর্যন্ত সব নেটওয়ার্ক চলে যাবে বিদেশি শেয়ারহোল্ডারদের হাতে।

বর্তমান সরকারের আধুনিক ও সংস্কারমুখী চিন্তাভাবনার অংশ হিসেবে টেলিযোগাযোগ খাতের এই নতুন খসড়া নীতিমালার আধুনিকায়নকে তারা স্বাগত জানিয়েছেন। তবে তারা বলেন, দেশের ভেতরের স্থানীয় উদ্যোক্তাদের বাঁচিয়ে রাখা এবং জাতীয় ডিজিটাল সার্বভৌমত্ব রক্ষার বিষয়টিতেও সমানভাবে গুরুত্ব দিতে হবে।

এ বিষয়ে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী ফকির মাহবুব আনামের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তাকে পাওয়া যায়নি।

জানতে চাইলে ব্রডব্যান্ড ইন্টারনেট সেবাদাতাদের সংগঠন ইন্টারনেট সার্ভিস প্রোভাইডার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (আইএসপিএবি) সভাপতি আমিনুল হাকিম আমার দেশকে জানান, খসড়া গাইডলাইনে আইএসপি খাতে ৮০ শতাংশ বিদেশি ও ২০ শতাংশ স্থানীয় বিনিয়োগের প্রস্তাব করা হয়েছে। আমরা এর পরিবর্তে বিদেশি বিনিয়োগ সর্বোচ্চ ৪৯ শতাংশ এবং স্থানীয় বিনিয়োগ ৫১ শতাংশ রাখার দাবি জানিয়েছি।

এ বিষয়ে ফাইবার অ্যাট হোমের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান মঈনুল হক সিদ্দিকী জানান, নতুন নীতিমালায় বিভিন্ন স্তরে বিনিয়োগের সুযোগ রাখা হয়েছে। তবে বিষয়টি আরো স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা প্রয়োজন। বিদেশি বিনিয়োগ আকর্ষণের পাশাপাশি স্থানীয় উদ্যোক্তাদেরও সমান বিনিয়োগের সুযোগ নিশ্চিত করতে হবে। এখানে কোনো ধরনের বৈষম্য থাকা উচিত নয়।

১৩ বছরে ২৬০ গুণ বেড়েছে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার

২০১৬ সালে যেখানে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার ছিল মাত্র ২৫০ জিবিপিএস, ২০১৮ সালে তা বেড়ে দাঁড়ায় ০.৭৬ টেরাবিটে; ২০২০ সালে ১.৭৮ টেরাবিট, ২০২২ সালে ৪.২ টেরাবিট, ২০২৪ সালে ৬.৮৬ টেরাবিট ও ২০২৬ সালে প্রায় ১৩.৫ টেরাবিটে পৌঁছেছে। অর্থাৎ, ১৩ বছরে ব্যবহার বেড়েছে প্রায় ২৬০ গুণ। ২০২৮ সালে ব্যান্ডউইথের ব্যবহার ২৭ টেরাবিট, ২০৩০ সালে ৫৪ টেরাবিট, ২০৩৪ সালে ২১৬ টেরাবিট এবং ২০৩৬ সালে ৪৩২ টেরাবিটে পৌঁছাতে পারে বলে ধারণা করছে ইন্টারনেট খাতে কাজ করা বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।

হরমুজ নিয়ন্ত্রণে ট্রাম্পকে চ্যালেঞ্জ জানাল ইরান

পদ্মা নদীতে নিখোঁজ ছাত্রদল নেতার লাশ ৩৭ ঘণ্টা পর উদ্ধার

আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধের বৈধতা নিয়ে রিট খারিজ

যুদ্ধ ও গণহত্যা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না: ক্যাথরিন কনলি

মার্কিন স্বপ্ন বনাম জার্মান দেয়াল

হবিগঞ্জে সাংবাদিক গোলাম মোস্তফা রফিক স্মরণে নাগরিক শোকসভা

এক দশকেও কাঙ্ক্ষিত গতি পায়নি শিল্পায়নের স্বপ্ন

ইরান-ওমানের সমঝোতা হলেও এখনই খুলছে না হরমুজ প্রণালি

সাগর-রুনি হত্যার বিচার চেয়ে ট্রাইব্যুনালে লিখিত অভিযোগ

ইয়েমেনে বাস্তুচ্যুতি সংকট ভয়াবহ, ঘরছাড়া ৭৬ হাজার মানুষ: আইওএম