হোম > আমার দেশ স্পেশাল > বিশেষ প্রতিবেদন

বিপর্যয় ঘটতে পারে ট্রাম্পের

মুহাম্মদ আল বাহলুল

যুক্তরাষ্ট্রে আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হচ্ছে মধ্যবর্তী নির্বাচন। আমেরিকানদের পাশাপাশি এখন সারা বিশ্বেরই নজর এই নির্বাচনের দিকে। দেশটিতে আগাম ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে আগেই। ক্ষমতাসীন রিপাবলিকান পার্টির লাল নাকি বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির নীল শিবিরÑ কারা জিতবে নির্বাচনে, তা নিয়ে চলছে নানা জল্পনা-কল্পনা। নির্বাচনের ফলের পূর্বাভাস জানাতে বিভিন্ন সংস্থা ও সংবাদমাধ্যম জরিপ চালাচ্ছে ভোটারদের মধ্যে।

এরই মধ্যে প্রকাশিত বিভিন্ন জনমত জরিপে দেখা যাচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রতি ভোটারদের আস্থায় ধস নামছে দ্রুতগতিতে। এমন অবস্থা অব্যাহত থাকলে তা লাল শিবিরের জন্য বিপর্যয় নিয়ে আসতে পারে। ডেমোক্র্যাটরা মার্কিন আইনসভা কংগ্রেসের কোনো একটি কক্ষ বা উভয়কক্ষেই সংখ্যাগরিষ্ঠতা পেলে ট্রাম্প তার বাকি দুই বছরের মেয়াদে নিজের খেয়াল-খুশিমত সিদ্ধান্ত গ্রহণ ও বাস্তবায়ন করতে বাধার মুখে পড়বেন। এমনকি আগের মেয়াদের মতো অভিশংসনের মুখোমুখিও হতে পারেন তিনি।

যুক্তরাষ্ট্রে প্রতি চার বছর অন্তর প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। তবে দুই বছর পরপর কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদ বা হাউসের ৪৩৫ আসনের সবটাতে এবং উচ্চকক্ষ সিনেটের ১০০ আসনের এক-তৃতীয়াংশে সদস্য নির্বাচন করা হয়। প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের দুই বছর পর অর্থাৎ প্রেসিডেন্টের মেয়াদের মধ্যবর্তী সময়ে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসন এবং সিনেটের অন্য এক-তৃতীয়াংশ আসনে নির্বাচনের মাধ্যমে তার জনপ্রিয়তার পরীক্ষা হয়ে যায়। ক্ষমতাসীন প্রেসিডেন্টের মেয়াদের মধ্যবর্তী সময়ে (মিডটার্ম) এ নির্বাচন হওয়ায় সাধারণভাবেই এটি মধ্যবর্তী নির্বাচন হিসেবে পরিচিত।

প্রতিনিধি পরিষদের সদস্যরা দুই বছরের জন্য নির্বাচিত হলেও সিনেট সদস্যদের মেয়াদ ছয় বছর। বর্তমানে প্রতিনিধি পরিষদে রিপাবলিকান সদস্য সংখ্যা ২১৮। অন্যদিকে ডেমোক্র্যাটদের সংখ্যা ২১৪। স্বতন্ত্র সদস্য রয়েছেন একজন, শূন্য আছে দুটি আসন। এছাড়া ১০০ আসনের সিনেটে রিপাবলিকানদের সংখ্যা ৫৩, ডেমোক্র্যাটদের ৪৫ এবং স্বতন্ত্র সদস্য দুজন।

অবশ্য সিনেটের স্বতন্ত্র দুই সদস্য ডেমোক্রেটিক পার্টির মিত্র। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের একমাত্র স্বতন্ত্র সদস্য রিপাবলিকান শিবিরের জোটভুক্ত। এ হিসেবে সিনেটে সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য নীল শিবিরকে আর চারটি আসনে জিততে হবে। অন্যদিকে প্রতিনিধি পরিষদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্যও তাদের একইভাবে চারটি আসন লাভ করতে হবে।

নির্বাচন হচ্ছে কয়টি আসনে

এবারের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদের সব আসনের সঙ্গে সিনেটের ৩৫টি আসনে নির্বাচন হচ্ছে। নিয়মিত ৩৩টি আসনের সঙ্গে এবার সিনেটের দুই আসনে বিশেষ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। বিশেষ দুই আসনের একটি ওহাইওর, যেখান থেকে বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স সিনেট সদস্য ছিলেন। অপরটি পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর ফ্লোরিডার আসন। ট্রাম্প প্রশাসনের দায়িত্ব নেওয়ার কারণে তাদের আসনেও নতুন নির্বাচন হচ্ছে।

নির্বাচন হতে যাওয়া সিনেটের ৩৫ আসনের মধ্যে ২২টি বর্তমানে রিপাবলিকানদের হাতে রয়েছে। বিশেষ নির্বাচন হতে যাওয়া দুই আসনও ছিল লাল শিবিরের। অন্যদিকে নীল শিবিরের হাতে থাকা ১৩টি আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

অতীত ইতিহাস

ঐতিহাসিকভাবেই যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনে প্রেসিডেন্টের দল প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ হারায়। গত ১০০ বছরে মাত্র দুবার এর ব্যতিক্রম ঘটেছে। এর মধ্যে প্রথমটি ১৯৯৮ সালের। ইন্টারনেটভিত্তিক ব্যবসার উত্থানের মাধ্যমে অর্থনৈতিক উন্নতি এবং প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটনকে অভিশংসনের চেষ্টার বিরুদ্ধে জনমতের জোরে ক্ষমতাসীন ডেমোক্র্যাটরা সেবার প্রতিনিধি পরিষদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে সক্ষম হয়। অপর ঘটনাটি ২০০২ সালে প্রেসিডেন্ট জর্জ ডব্লিউ বুশের সময়ে। ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার পর জাতীয় নিরাপত্তা ইস্যুতে সমর্থনের জোরে সেবার রিপাবলিকানরা সুবিধা পেয়েছিল।

তবে প্রতিনিধি পরিষদের পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে সিনেটেও নিয়ন্ত্রণ পরিবর্তনের ইতিহাস বিরল। গত ৫০ বছরে মাত্র দুবার এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে। কাকতালীয়ভাবে এ দুই বিরল উদাহরণও আগের মতোই বিল ক্লিনটন ও তার উত্তরসূরি জর্জ ডব্লিউ বুশের শাসনামলের।

এর মধ্যে ডেমোক্র্যাট ক্লিনটনের প্রথম মেয়াদে তার কিছু সিদ্ধান্তে ভোটারদের অসন্তুষ্টির জেরে ১৯৯৪ সালে রিপাবলিকানরা একসঙ্গে দুই কক্ষের নিয়ন্ত্রণ নেয়। এটি ইতিহাসে ‘রিপাবলিকান বিপ্লব’ নামে পরিচিত হয়। দ্বিতীয় ঘটনায় ২০০৬ সালে ইরাকে বুশের আগ্রাসনের ফলে তৈরি হওয়া যুদ্ধবিরোধী জনমতের জোরে ডেমোক্র্যাটরা উভয়কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পায়।

বিভিন্ন আসনের পরিস্থিতি

যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিবিষয়ক ম্যাগাজিন কুক পলিটিক্যাল রিপোর্টের বরাত দিয়ে গত মঙ্গলবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রতিনিধি পরিষদের ২১টি আসনে প্রচণ্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে এবং ফলাফল পরিবর্তনের সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে ১৬টি বর্তমানে রিপাবলিকান পার্টির এবং পাঁচটি ডেমোক্রেটিক পার্টির হাতে রয়েছে।

সিএনএনের তথ্য অনুসারে, সিনেট নির্বাচনে ১০টি আসনে প্রচণ্ড প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে। এর মধ্যে আলাস্কা, আইওয়া, কানসাস, মেইন, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও ও টেক্সাসের আসন রিপাবলিকানদের হাতে রয়েছে। অপরদিকে জর্জিয়া, মিশিগান ও নিউ হ্যাম্পশায়ারের বর্তমান সিনেটররা নীল শিবিরের।

ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস

নির্বাচনের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই যেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জনপ্রিয়তায় ধস নামছে। গত বুধবার যৌথভাবে নিউ ইয়র্ক টাইমস ও সিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয় প্রকাশিত জনমত জরিপে দেখা যায়, ট্রাম্পের সার্বিক কার্যকলাপে সমর্থন দিয়েছেন ৩৬ শতাংশ অংশগ্রহণকারী। এর বিপরীতে তার প্রতি অনাস্থা জানিয়েছে ৫৯ শতাংশ। নিউ ইয়র্ক টাইমস/সিয়েনা বিশ্ববিদ্যালয়ের জরিপে এটিই ট্রাম্পের প্রতি অনাস্থার সর্বনিম্ন চিত্র।

অংশগ্রহণকারীদের প্রশ্ন করা হয়, কংগ্রেসে নির্বাচন হলে তারা কোন দলের প্রার্থীকে ভোট দেবেন। জবাবে অংশগ্রহণকারীদের ৫২ শতাংশ ডেমোক্র্যাট এবং ৪১ শতাংশ রিপাবলিকান প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার কথা জানান।

এর আগে গত মঙ্গলবার রয়টার্স/ইপসোসের প্রকাশিত জরিপে দেখানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র ৩১ শতাংশ ভোটার ট্রাম্পকে সমর্থন করছেন। বিপরীতে ট্রাম্পের প্রতি অনাস্থা জানিয়েছেন ৬৬ শতাংশ ভোটার। গত সোমবার ওয়াশিংটন পোস্ট/এবিসি/ইপসোসের জরিপে দেখানো হয়, ট্রাম্পের প্রতি আস্থা রয়েছে ৩৩ শতাংশ ভোটারের। অপরদিকে ৬৬ শতাংশ ভোটার অনাস্থা জানিয়েছেন।

গত রোববার এনবিসি প্রকাশিত জরিপে জানানো হয়, ৭১ শতাংশ মার্কিন নাগরিক মনে করেন দেশ ভুল পথে অগ্রসর হচ্ছে। বিপরীতে মাত্র ২৩ শতাংশ বলেন, দেশ সঠিক পথেই রয়েছে। অংশগ্রহণকারীদের ৩৪ শতাংশ ট্রাম্পের প্রতি সমর্থন জানান। বিপরীতে অনাস্থা জানান ৬৬ শতাংশ।

মধ্যবর্তী এই নির্বাচনে জ্বালানি, নিত্যপণ্যের দাম ও অর্থনৈতিক অবস্থা গুরুত্বপূর্ণ ইস্যু হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। ইরানে আগ্রাসনের জেরে জ্বালানির দাম বেড়ে যাওয়ায় যুক্তরাষ্ট্রে সব ধরনের পণ্যের মূল্যই বেড়ে গেছে। এতে সাধারণ মার্কিন নাগরিকরা ক্ষুব্ধ ট্রাম্পের ওপর।

কংগ্রেসে রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রণ থাকলে কী হবে

বর্তমানে মার্কিন কংগ্রেসের উভয়কক্ষই রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। যদিও জনমত জরিপ অনুসারে কংগ্রেসের এক বা উভয়কক্ষে রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ হারানোর সম্ভাবনা রয়েছে, তবে কোনোভাবে নিয়ন্ত্রণ যদি লাল শিবিরের হাতেই থেকে যায়, ট্রাম্পের জন্য তার বাকি মেয়াদে প্রশাসন চালানো সহজ হবে।

কংগ্রেসে যদি রিপাবলিকানদের নিয়ন্ত্রণ থাকে ট্রাম্পের আইনগত ও বাজেটসংক্রান্ত কর্মসূচি এগিয়ে নেওয়া তুলনামূলক সহজ হবে। এছাড়া প্রেসিডেন্টের নেতৃত্বের প্রশাসনের বিরুদ্ধে কংগ্রেসের তদন্তমূলক চাপ সীমিত থাকবে। একই সঙ্গে ট্রাম্প তার প্রস্তাবিত বিভিন্ন নীতিগত সিদ্ধান্ত বাস্তবায়নে সুবিধা পাবেন।

তবে রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ পেলেই যে ট্রাম্প তার সব পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারবেন, তা নয়। বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন দেশে শুল্ক আরোপের সময় রিপাবলিকান দলীয় বেশ কয়েকজন কংগ্রেস সদস্য ট্রাম্পের বিরোধিতা করেছেন। এছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসনের সময় যুদ্ধ ঘোষণায় কংগ্রেসের অনুমোদন ক্ষমতার পক্ষে লাল শিবিরের কিছু সদস্য বিতর্ক করেছিলেন।

অবশ্য ইতিহাসের পুনরাবৃত্তি করে যদি প্রতিনিধি পরিষদের বিপরীতে সিনেটে রিপাবলিকানরা নিয়ন্ত্রণ রাখে, তাহলে নিম্নকক্ষের বিভিন্ন প্রস্তাব উচ্চকক্ষে আটকে দেওয়া সম্ভব হবে। সিনেটের হাতেই রাষ্ট্রের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদগুলোতে নিয়োগ অনুমোদনের ক্ষমতা রয়েছে। রিপাবলিকান সদস্যরা সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতার মাধ্যমে ট্রাম্পকে তার প্রশাসনের সহযোগী নিয়োগে সহায়তা করতে পারেন।

ডেমোক্র্যাট নিয়ন্ত্রণ থাকলে কী হবে

মধ্যবর্তী নির্বাচনে গত ১০০ বছরের ধারাবাহিকতা যদি অব্যাহত থাকে, তাহলে নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণ পেতে যাচ্ছে নীল শিবির। প্রতিনিধি পরিষদে ডেমোক্র্যাটরা সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করলে, ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্তের বিষয়ে তদন্ত ও শুনানির উদ্যোগ নিতে পারবে তারা। এছাড়া প্রশাসনের কর্মকর্তাদের তলব ও নথিপত্র চাওয়ার ক্ষমতা ব্যবহার করে প্রশাসনকে নজরদারি করতে পারবে প্রতিনিধি পরিষদ। এছাড়া নিজস্ব এজেন্ডার প্রস্তাবকে আইন হিসেবে পাসের জন্য নিম্নকক্ষ থেকে অনুমোদন করিয়ে নিতে পারবে নীল সংখ্যাধিক্যের নিম্নকক্ষ। তবে লাল সংখ্যাধিক্যের সিনেট ও প্রেসিডেন্টের বিরোধিতার কারণে তা আইন হিসেবে পাস করা কঠিন হয়ে পড়বে।

অবশ্য ডেমোক্র্যাটদের নিম্নকক্ষের নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে ক্ষমতায় এক ধরনের ভারসাম্য প্রতিষ্ঠা হবে। ট্রাম্প তার খেয়াল খুশিমত কোনো সিদ্ধান্ত নিতে চাইলে, তা নিম্নকক্ষে বাধার মুখে পড়বে। নিম্নকক্ষে অনুমোদনের পরেই তা বাস্তবায়নে অগ্রসর হতে পারবেন তিনি।

অপরদিকে, যদি ২০০৬ সালের মতো নতুন ইতিহাস তৈরি করে ডেমোক্র্যাটরা উভয়কক্ষের নিয়ন্ত্রণ পায়, তবে আইন প্রণয়ন, বাজেট ও প্রশাসনিক নীতির ওপর ডেমোক্র্যাটদের প্রভাব বাড়বে। কোনো প্রস্তাবের আইন হিসেবে পাসের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের সামনে প্রেসিডেন্টের ভেটো ছাড়া আর কোনো বাধা থাকবে না। এছাড়া বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে সিনেটের অনুমোদনের ক্ষমতা থাকায় ট্রাম্পের ক্ষমতাকে আরো নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেন ডেমোক্র্যাটরা।

তবে সিনেটের নিয়ন্ত্রণ পেলেও ডেমোক্র্যাটদের ক্ষমতার সীমাবদ্ধতা থাকবে। কোনো বাস্তবসম্মত নির্বাচনি পরিস্থিতিতেই কোনো দল নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে না। ফলে ব্যয়সংক্রান্ত বিল পাস করতে শেষ পর্যন্ত দুই দলের সমর্থন এবং হোয়াইট হাউসের সম্মতি প্রয়োজন হতে পারে।

আবার ডেমোক্র্যাটরা নিয়ন্ত্রণ পেলেই যে ইরানে ট্রাম্পের আগ্রাসন বা ভূমি দখলের নীতি বদলে যাবে, তা নয়।

অভিশংসনের মুখে পড়বেন ট্রাম্প?

মধ্যবর্তী নির্বাচন উপলক্ষে বিভিন্ন প্রচারণা সভায় ট্রাম্প বারবার আশঙ্কা প্রকাশ করছেন, যদি নীলের জোয়ারে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ রিপাবলিকানদের হাতছাড়া হয়, তাহলে তাকে অভিশংসনের মুখে পড়তে হবে। অক্টোবরের শুরুর দিকে ওকলাহোমার ডুরান্টের সভায় তিনি বলেন, ‘আমরা যদি জয়ী না হই, তবে শেষ পর্যন্ত তারা আমাকে অভিশংসন করবে।’

এর আগে ২০১৯ ও ২০২১ সালে অভিশংসনের মুখে পড়েন ট্রাম্প। দুবারই নিম্নকক্ষে তাকে অভিশংসিত করা হয়। কিন্তু উচ্চকক্ষে প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ ভোট না পড়ায় তিনি অভিশংসন এড়াতে সক্ষম হন।

এর মধ্যেই কিছু ডেমোক্র্যাট সদস্য জানিয়েছেন, ট্রাম্প পরিবারের দুর্নীতির অভিযোগগুলো খতিয়ে দেখা তাদের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার হবে। তবে সিনেটে যদি প্রয়োজনীয় দুই-তৃতীয়াংশ অর্থাৎ ৬৭ সদস্য বিজয়ী হতে না পারেন, তাহলে ট্রাম্পকে অভিশংসন করা সম্ভব হবে না।

মধ্যবর্তী নির্বাচনে মোট ব্যয়

গতকাল শুক্রবার পর্যন্ত পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, শুধু কংগ্রেসের দুই কক্ষ—প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নির্বাচনে প্রার্থী এবং বাইরের রাজনৈতিক সংগঠনগুলোর সম্মিলিত ব্যয় ৪.১৭ বিলিয়ন (প্রায় ৪১৭ কোটি) ডলার। এর মধ্যে প্রার্থীদের নিজস্ব নির্বাচনি কমিটির ব্যয় ৩.১১ বিলিয়ন এবং বাইরের সংগঠনগুলোর স্বাধীন ব্যয় ১.০৫ বিলিয়ন ডলার।

দলভিত্তিক ব্যয়ে এগিয়ে ডেমোক্র্যাট শিবির। দলটির পক্ষে ব্যয় ২.৩৭ বিলিয়ন (২৩৭ কোটি) ডলার। অন্যদিকে রিপাবলিকানদের পক্ষে ব্যয় হয়েছে ১.৭৪ বিলিয়ন (১৭৪ কোটি) ডলার।

প্রথম মুসলিম সিনেটর

মার্কিন কংগ্রেসের নিম্নকক্ষ প্রতিনিধি পরিষদে বর্তমানে পাঁচজন মুসলিম সদস্য রয়েছেন। এদের মধ্যে চারজনই নারী। তবে এখনো পর্যন্ত উচ্চকক্ষে কোনো মুসলিম সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হননি। এর আগে ২০২২ সালে রিপাবলিকান পার্টির হয়ে তুর্কি বংশোদ্ভূত মার্কিন চিকিৎসক মুহাম্মদ ওজ সিনেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। কিন্তু তিনি জয়লাভ করতে ব্যর্থ হন।

চলতি বছর মিশিগান থেকে ডেমোক্রেটিক পার্টির টিকিটে সিনেট সদস্য হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন মিসরীয় বংশোদ্ভূত আরেক মুসলিম মার্কিন চিকিৎসক আবদুর রহমান আল-সাইয়েদ। যিনি ‘আবদুল আল-সাইয়েদ’ নামেই বেশি পরিচিত। নির্বাচিত হলে সিনেটের প্রথম মুসলিম সদস্য হিসেবে ইতিহাস তৈরি করবেন তিনি।

মিশিগানের এ আসনটিতে বর্তমানে ডেমোক্রেটিক পার্টির সদস্যই রয়েছেন। তবে জরিপ অনুসারে, এ আসনের প্রতিদ্বন্দ্বিতা হাড্ডাহাড্ডি হবে। যদিও আল-সাইয়েদ তিন পয়েন্টে এগিয়ে রয়েছেন।

অবশ্য সব জল্পনা-কল্পনার অবসান ঘটবে আগামী ৩ নভেম্বর, নির্বাচনের ফল ঘোষণার মাধ্যমে।

আ.লীগ নিয়ে ঠেলাঠেলি

রহস্যঘেরা মাদক আড্ডায় গ্রেপ্তার ওরা কারা

এমপিদের খুশি করতে বরাদ্দ বাড়ছে ৪০০০ কোটি টাকা

ভুল নীতি দুর্ঘটনা বাড়াচ্ছে, উপেক্ষিত সুপারিশ

সচিবালয়ে ডিজিটাল হাজিরা, তদারকিতে প্রধানমন্ত্রী

অরক্ষিত সড়কে দস্যুদের রাজত্ব

পিএমওর নির্দেশনার পরও গোঁজামিলে ভরা জবাব বিটিআরসির

দুর্গাপূজার ছুটিতে ফাঁকা রাজধানী

অভিযোগ দাখিলের আট মাসেও শুরু হয়নি বিচার

কওমি অঙ্গনে টার্গেট মামুনুল হক