টানা ১৩ বছর ধরে প্রায় তিন হাজার কোটি টাকার বেশি খরচ করার পর সরকার জানতে পেরেছে গাজীপুর-এয়ারপোর্ট বাস র্যাপিড ট্রানজিট (বিআরটি) প্রকল্পের নকশায় মারাত্মক ত্রুটি রয়েছে। ভুল পরিকল্পনা, ত্রুটিপূর্ণ নকশা এবং বাস্তবায়নকারী সংস্থা ও মন্ত্রণালয়ের মধ্যে সমন্বয়হীনতার বিষয়টি উঠে এসেছে সরকার গঠিত বিশেষ কমিটির প্রতিবেদনেও।
বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) জ্যেষ্ঠ শিক্ষক এবং সড়ক ও মহাসড়ক বিশেষজ্ঞদের নিয়ে গঠিত বিশেষ কমিটির সুপারিশে এটিকে নতুন করে এক্সপ্রেস হাইওয়ে রূপ দেওয়া কিংবা কিছু অবকাঠামো ভেঙে সার্ভিস লেনসহ টোল সড়ক করার কথা বলা হয়েছে। সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা আমার দেশকে এ তথ্য জানিয়েছেন।
কর্মকর্তারা জানান, বিআরটি প্রকল্পে ব্যবহারের অযোগ্য কাঠামো ভাঙতে লাগবে এক হাজার কোটি টাকার মতো আর হাইওয়েতে রূপান্তর করতে লাগবে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকা।
ঢাকা বাস র্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানি পিএলসি (ঢাকা বিআরটি পিএলসি) বাতিলের পরিকল্পনার কথাও বলেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তারা বলেন, প্রকল্পটি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের অধীন নিয়ে স্বাভাবিকভাবেই চালানো যাবে। প্রকল্প পরিচালকসহ বিআরটি কোম্পানির কর্মকর্তারা জানান, তারা সরকারের যেকোনো সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছেন।
পলাতক ফ্যাসিস্ট প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ব্যক্তিগত অভিপ্রায়ের এই প্রকল্পকে সড়ক ও জনপথ বিশেষজ্ঞরা দেখছেন ভজঘটের প্রকল্প হিসেবে। কেউ বলেন, প্রকল্পটি হচ্ছে ‘সরকারি মাল, দরিয়া মে ঢাল’-এর মতো অবস্থা। মেগা প্রকল্প মানেই মেগা দুর্নীতি। এ প্রকল্পেও সেটা হয়েছে।
তাদের মতে, প্রকল্পটিতে শুধু কারিগরি ও প্রকৌশলগত ত্রুটিই নয়, এটি দেশবাসীর সঙ্গে বড় ধরনের প্রতারণা। দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশও করেছে সরকার গঠিত বিশেষ কমিটি।
সরকারের নীতিনির্ধারকরা প্রকল্পটিকে ‘গলার কাঁটা’ উল্লেখ করে বলেছেন, প্রকল্পটি নতুন সরকারের গলায় এমনভাবে বিঁধেছে যে, এটি গেলাও যাচ্ছে না আবার ফেলে দেওয়াও যাচ্ছে না। মন্ত্রিসভায় আলোচনার পর এ বিষয়ে পরবর্তী করণীয় নির্ধারণ করা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা। তাদের মতে, প্রকল্পটি নিয়ে শুরু থেকে টানাপোড়েন চলছে। ভুল নকশা, সুষ্ঠু পরিকল্পনার অভাব ও সমন্বয়হীনতার কারণে কয়েকবার দুর্ঘটনাও ঘটেছে এখানে।
হাসিনার উন্নয়নের বর্ণনা ওয়েবসাইটে
শতভাগ রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন বাস র্যাপিড ট্রানজিট কোম্পানির ওয়েবসাইটে বিআরটি প্রকল্পটিকে হাসিনা সরকারের উন্নয়ন ও রূপকল্পের অনন্য নজির হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। শেখ মুজিবুর রহমান ও হাসিনার ছবিসংবলিত ৬২ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে প্রকল্পটিকে এই রুটে যাতায়াতকারীদের জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, সড়কপথে একচ্ছত্র লেনসংবলিত অবকাঠামো, নির্দিষ্ট সময়ে বাসের গমনাগমন এবং নির্দিষ্ট সময়ে গন্তব্যে পৌঁছানোর নিশ্চয়তাসহ নিরাপদ, সুলভ, আরামদায়ক ও পরিবেশবান্ধব বিআরটি ব্যবস্থা প্রবর্তন ও সম্প্রসারণ করে মহানগরীর যাত্রীদের ভ্রমণ ও দৈনন্দিন কর্মপরিকল্পনায় সাবলীলতা আনার মাধ্যমে ছন্দময় আবহ সৃষ্টি করবে এই বিআরটি লাইন।
প্রকল্পটির বিষয়ে বিআরটির প্রতিবেদনে আরো বলা হয়েছে, গাজীপুর থেকে ঢাকা আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর পর্যন্ত ২০.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ ডেডিকেটেড বিআরটি লেনে পিক আওয়ারে সর্বনিম্ন ৩০ সেকেন্ড পরপর স্ট্যান্ডার্ড এসি বাস চলাচল করবে। যাত্রীদের সুবিধার্থে স্টেশনগুলোয় ই-টিকিটিং, স্বয়ংক্রিয় টিকিট কাউন্টার এবং ইন্টেলিজেন্ট ট্রান্সপোর্ট সিস্টেমের (আইটিএস) ব্যবস্থা রাখার কথা বলা হয়েছে।
কর্মকর্তারা জানান, এ প্রকল্পের মূল অবকাঠামো বাস্তবায়ন করে সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তর এবং বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ। প্রকল্পটিতে পরামর্শক হিসেবে অস্ট্রেলিয়ার এসএমইসি ইন্টারন্যাশনাল ও ব্রিসবেন সিটি এন্টারপ্রাইজ, ফ্রান্সের সিস্ট্রা এসএ এবং বাংলাদেশের এসিই কনসালট্যান্স লিমিটেড দায়িত্ব পালন করে। তাদের কাজ ছিল প্রকল্প ব্যবস্থাপনা, সমন্বয় ও দক্ষতা উন্নয়ন এবং প্রকৌশল, ক্রয় ও নির্মাণ কার্যক্রমের তত্ত্বাবধান ও পরিচালনা। এছাড়া বিআরটি করিডোর পরিচালনা ও ব্যবসায়িক মডেল তৈরির দায়িত্ব যৌথভাবে পালন করে ভারতের সিইপিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েটের ব্যুরো অব রিসার্চ টেস্টিং অ্যান্ড কনসালটেশন। পরে সিইপিটি বিশ্ববিদ্যালয় ও বুয়েট প্রকল্প থেকে নিজেদের সরিয়ে নেয়।
গচ্চা তিন হাজার কোটি টাকা
বিআরটি প্রকল্প নিয়ে শুরু থেকেই সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয় ও কোম্পানির মধ্যে টানাপোড়েন ছিল বলে জানান মন্ত্রণালয়ের একাধিক কর্মকর্তা। তাদের মতে, কোম্পানিটি শতভাগ রাষ্ট্রায়ত্ত হলেও সিদ্ধান্ত গ্রহণে তারা স্বাধীনভাবে কাজ করেছে। ত্রুটিপূর্ণ নকশা ও সমন্বয়হীনতার জন্যই সরকারের বিপুল পরিমাণ অর্থ গচ্চা গেছে বলেও জানান তারা।
ফ্যাসিস্ট হাসিনার নির্বাচনি চমক হিসেবে নেওয়া আত্মঘাতী এই প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে গিয়ে একাধিকবার প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে। প্রকল্প ও কোম্পানিসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ বিষয়ে হতাশা ব্যক্ত করেছেন।
‘অদ্ভুত প্রকল্প’ উল্লেখ করে এটি স্থগিত করে অন্তর্বর্তী সরকারও। রাষ্ট্রের বিপুল অর্থ অপচয় ও তছরুপের দায়ে এর সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে দুর্নীতি দমন কমিশনে (দুদক) অভিযোগ দায়েরের সুপারিশ করেছিলেন ওই সরকারের পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদ উদ্দিন মাহমুদ। প্রকল্পের বিষয়ে ওই সময় আমার দেশকে তিনি বলেন, এই প্রকল্পের নকশা এমনভাবে করা হয়েছে, যা অসংগতিপূর্ণ ও অদ্ভুত। এখানে অনেক এসকেলেটর ও লিফট স্থাপন করা হয়েছে। কিন্তু আমাদের দেশে এসব একবার নষ্ট হলে কখন মেরামত হবে, তা বলা যায় না। এমনকি এসকেলেটর স্থাপন করা হয়েছে ফুটপাতে, যার ফলে পথচারীরা ফুটপাত ব্যবহার করতে না পেরে রাস্তা দিয়ে হাঁটতে বাধ্য হবেন। এমন প্রকল্প বিশ্বে দ্বিতীয়টি আর আছে বলে আমার জানা নেই।
প্রকল্পটিতে কিছুদিন পরামর্শক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন একজন খ্যাতনামা শিক্ষাবিদ ও অবকাঠামো বিশেষজ্ঞ। তিনি আমার দেশকে বলেন, এ প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার পর এটিকে আদৌ প্রকল্প মনে হয়নি। এটিকে মূলত লুটপাটের প্রকল্প মনে হয়েছে। ফলে আমরা এখান থেকে সরে গেছি। এটি ছিল চাপানো প্রকল্প, কোনোভাবেই জনগণের জন্য উপকারী প্রকল্প নয়।
বিআরটি প্রকল্পের বিদ্যমান নকশা বাংলাদেশের উপযোগী নয় জানিয়ে সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা আমার দেশকে বলেন, আমাদের দেশের বাসের দরজা বামদিকে খোলা। সব চালক গাড়ি বাম দিকে চালিয়ে থাকেন। তাদের প্রশিক্ষণ ও দক্ষতাও এভাবেই গড়ে উঠেছে। অন্যদিকে বিআরটি প্রকল্পের জন্য প্রস্তাবিত বাস ও চালকদের চলাচল ডান দিকে করা হয়েছে। এতেই প্রমাণ হচ্ছে, প্রকল্পটি বাংলাদেশের জন্য তৈরি করা হয়নি।
তিনি আরো বলেন, এ প্রকল্পের আওতায় যেসব গাড়ি চলার কথা, সেগুলোর জন্য চালকদের নতুন করে প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করতে হবে। এ ব্যবস্থা করতে গিয়ে জটিলতা বৃদ্ধি পাওয়ার শঙ্কাই বেশি। প্রকল্পের নকশা করার সময় এসব বাস্তবতা আমলে নেওয়া হয়নি; বরং মধ্যপ্রাচ্যের কোনো দেশের প্রকল্পের নকশা নকল করা হয়েছে। এটিই এ প্রকল্পের জন্য সবচেয়ে বড় অসুবিধা হিসেবে দেখছেন বিশেষজ্ঞরা।
প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, বিআরটি প্রকল্পের নির্মাণকাজ চারটি কনসোর্টিয়াম করে তিনটি চীনা কোম্পানি ও একটি বাংলাদেশি কোম্পানিকে দেওয়া হয়। উড়ালপথ ও সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব দেওয়া হয় চীনা কোম্পানি গেজহুবা গ্রুপ, জিয়াংসু প্রভিন্সিয়াল ট্রান্সপোর্টেশন ইঞ্জিনিয়ারিং গ্রুপ এবং ওয়েহেই ইন্টারন্যাশনাল ইকোনমিক অ্যান্ড টেকনিক্যাল কো-অপারেটিভকে। আর গাজীপুরে ডিপো নির্মাণের দায়িত্বে ছিল দেশীয় কোম্পানি সেল-ইউডিসি। এ প্রকল্পের প্রাথমিক বাজেট নির্ধারিত হয় ২,০৪০ কোটি টাকা। পরে তা বাড়িয়ে ৪,২৬৮ কোটি টাকা করা হয়।
সবশেষ ২০২৫ সালের ২৭ জুলাই আবার এ প্রকল্পের মেয়াদ ও অর্থের পরিমাণ বাড়ানোর প্রস্তাব করা হয়। এ দফায় ব্যয় ২,৩২৯ কোটি টাকা বাড়িয়ে ৬,৫৯৭ কোটি টাকায় উন্নীতের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল। পাশাপাশি প্রকল্পের মেয়াদ চার বছর বাড়ানোর প্রস্তাবও দেওয়া হয়, যা বাতিল করে দেয় অন্তর্বর্তী সরকার।
বন্ধ করতে লাগবে এক হাজার কোটি টাকা
বিআরটি প্রকল্প সূত্র জানায়, প্রকল্পটি ৪,২৬৮ কোটি টাকার হলেও হাসিনার সরকার এ খাতে ৩,০০০ কোটি টাকার মতো ছাড় করে গেছে, যার পুরোটাই ব্যয় করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাতিল করে কিছু সংস্কার করে সড়ক ও মহাসড়ক বিভাগের অধীন নিয়ে এক্সপ্রেস হাইওয়ে হিসেবে চালু করতে হলে ৪০০ থেকে ৫০০ কোটি টাকার মতো ব্যয় হতে পারে। আর যদি পুরোপুরি ভেঙে আগের অবস্থায় নিতে হয়, তাহলে খরচ হবে ১,০০০ কোটি টাকার বেশি। এতে সব মিলিয়ে সরকারকে প্রায় ৪,০০০ কোটি টাকা গচ্চা দিতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী প্রকল্পটির বিষয়ে অধিকতর যাচাই-বাছাই শেষে সুপারিশ পেশ করতে সরকার বুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. শামছুল হকের নেতৃত্বে বিশেষজ্ঞ কমিটি করে। এই কমিটি ইতোমধ্যে সরকারের কাছে কিছু সুপারিশ পেশ করেছে। সুপারিশের বিষয়ে সড়ক পরিবহন মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা জানান, বিআরটি প্রকল্পটি যাত্রীদের জন্য উপযোগী করে চালু করতে কিছু সুপারিশ করা হয়েছে। এটিকে বিআরটি প্রকল্প হিসেবে না দেখে সাধারণ সড়ক উন্নয়ন কার্যক্রম হিসেবে বিবেচনা করে এক্সপ্রেস হাইওয়ে করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
প্রকল্পের বিষয়ে অধ্যাপক ড. শামছুল হক আমার দেশকে বলেন, বিআরটি প্রকল্পটি শুরু থেকেই প্রশ্নবিদ্ধ। এটির সমীক্ষাও সঠিকভাবে হয়নি। এটি অনুমোদন যেমন ভুল সিদ্ধান্ত ছিল, তেমনিভাবে এটি পুরোপুরি ভেঙে ফেলাও ভুল হবে। এটিকে এখন ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে চলাচলের উপযোগী করতে হবে। এটিকে বিআরটি প্রকল্প হিসেবে না রেখে দ্বিতলবিশিষ্ট এক্সপ্রেস হাইওয়ে হিসেবে ব্যবহার করা যুক্তিযুক্ত হবে।
বুয়েটের নগর ও অঞ্চল পরিকল্পনা বিভাগের অধ্যাপক মোসলেহ উদ্দিন হাসান আমার দেশকে বলেন, বিআরটি প্রকল্পটি দীর্ঘ সময় ধরে বাস্তবায়নে বিলম্ব, সমন্বয়হীনতা, প্রকল্প ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হয়েছে। তিনি বলেন, নকশায় ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার অভাব ছিল। পাশাপাশি আবদুল্লাহপুর, ভোগড়া ও গাজীপুর মোড়ে ভবিষ্যতে অন্য পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়নের সুযোগ রুদ্ধ করা হয়েছে এ প্রকল্পে। রাষ্ট্রের প্রায় ৩,০০০ কোটি টাকা খরচ হয়েছে। এখন এটিকে চলাচলের উপযোগী করতে হবে বাস্তবতা বিশ্লেষণ করেই।
প্রকল্পের বর্তমান অবস্থা
প্রকল্প এলাকায় একাধিকবার গিয়ে দেখা যায়, হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের সামনে থেকে গাজীপুর পর্যন্ত মহাসড়কে এখন সব ধরনের যান চলাচল করছে। বিভিন্ন স্থানে গাড়ি, লেগুনা ও অটোরিকশার জটলা লেগে থাকে। অফিস খোলার দিনে কোথাও কোথাও জ্যামে পড়ে ঘণ্টার পর ঘণ্টা বসে থাকতে হয়। ৮-১০ বছর আগে এটি ছিল অত্যন্ত মসৃণ একটি সড়ক। এখন কোথাও উঁচু, কোথাও নিচু। প্রকল্পের আওতায় তৈরি করা ১৫ স্টেশনের অবস্থা ভুতুড়ে। কোনোটি মাটিতে আবার কোনোটি উড়াল সড়কের ওপর। চলন্ত সিঁড়ির খাাঁচাগুলো পড়ে আছে, বেশিরভাগের যন্ত্রপাতি টোকাইদের হাত হয়ে চলে গেছে ভাঙারি দোকানে। খোঁড়াখুঁড়ি ও দুর্ঘটনাসহ টানা দুর্ভোগের পর ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বিআরটি প্রকল্পের কার্যক্রম স্থগিত করে এটি সাধারণ পরিবহন যাতায়াতের জন্য খুলে দেওয়া হয়।
এখন এটি সাধারণ সড়ক হিসেবেই ব্যবহৃত হচ্ছে বলে জানান বিআরটি প্রকল্পের পরিচালকসহ (পিডি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা। তারা বলেন, এটি বাস্তবায়নের দায়িত্বে রয়েছে সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ। প্রকল্প বাস্তবায়ন শেষ হলেই আমাদের শুধু এটি পরিচালনার দায়িত্ব পালন করার কথা। এখন প্রকল্পের কার্যক্রম চলমান নেই। আপাতত সাধারণ সড়ক হিসেবেই এটি ব্যবহৃত হচ্ছে।
ত্রুটিপূর্ণ নকশার দায় নিচ্ছে না কেউ
ভুল পরিকল্পনা ও ত্রুটিপূর্ণ নকশায় রাষ্ট্রের ৩,০০০ কোটি টাকা খরচের দায় কে নেবেÑএমন প্রশ্ন ছিল সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তর ও কর্মকর্তাদের কাছে। এ প্রশ্নের জবাব কেউ দিতে পারেননি। তবে বিআরটি প্রকল্পের বিষয়ে ঢাকা বিআরটি পিএলসির ব্যবস্থাপনা পরিচালক মু. নুরুল আমিন খানের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি পিডির সঙ্গে কথা বলার পরামর্শ দেন। পিডির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, আমরা এ বিষয়ে সরকারের সিদ্ধান্তের অপেক্ষায় আছি। সরকার যে সিদ্ধান্ত দেয়, আমরা সেভাবেই কাজ করব।
বিগত সরকারের এই মেগা প্রকল্প নিয়ে বর্তমান সরকারের ভাবনা কীÑএমন প্রশ্ন ছিল সড়ক পরিবহন ও সেতু প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিবের কাছে। জবাবে তিনি বলেন, যতটুকু জানতে পেরেছি, একটি কমিটি এ প্রকল্পের অনিয়ম ও ভুলভ্রান্তি নিয়ে কাজ করেছে। দেশ ও জাতির বৃহত্তর স্বার্থে যেটা কল্যাণকর, সরকার সেটাই করবে।