ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ ঘোষিত ছাত্রলীগের পোস্টার সাঁটানোর প্রতিবাদে প্রক্টর অফিস ঘেরাও কর্মসূচি পালন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু)। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সিসিটিভি ফুটেজ যাচাই করে দায়ীদের শনাক্ত ও আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছে সংগঠনটির নেতারা। দাবি পূরণ না হলে কঠোর কর্মসূচির হুঁশিয়ারিও দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৮ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়েরের নেতৃত্বে প্রক্টর অফিসের সামনে অবস্থান নেন নেতাকর্মীরা। এ সময় তারা বিভিন্ন স্লোগান দেন এবং প্রশাসনের ‘গাফিলতি’র অভিযোগ তোলেন। পরে একটি প্রতিনিধিদল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদের সঙ্গে বৈঠক করেন।
ডাকসু নেতাদের অভিযোগ, শুক্রবার (২৭ ফেব্রুয়ারি) রাতের আঁধারে ক্যাম্পাসের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনায় ‘বাংলাদেশ ছাত্রলীগের সকল রাজবন্দির নিঃশর্ত মুক্তি চাই’ লেখা পোস্টার সাঁটানো হয়। মধুর ক্যান্টিন, কেন্দ্রীয় লাইব্রেরি, কেন্দ্রীয় মসজিদ, কলাভবন সংলগ্ন শ্যাডো এলাকা, ডাকসু ক্যাফেটেরিয়া, সমাজবিজ্ঞান চত্বর, চারুকলা অনুষদ, হাকিম চত্বর, শামসুন্নাহার হল, কার্জন হল ও জগন্নাথ হলের দেয়ালে এসব পোস্টার দেখা যায়।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও শেয়ার করেন নিষিদ্ধ ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি মাজহারুল কবির শয়ন, যেখানে পোস্টার সাঁটানোর দৃশ্য দেখানো হয় বলে দাবি ডাকসুর।
বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের। তিনি বলেন, “যারা ১৫ জুলাই শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা করেছে, তারা প্রশাসনের নজর এড়িয়ে কীভাবে ক্যাম্পাসে পোস্টার লাগানোর সাহস পায়? আমরা প্রক্টরকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছি সিসিটিভি ফুটেজ চেক করে দায়ীদের শনাক্ত করার জন্য।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, নিষিদ্ধ সংগঠনটি এর আগেও ক্যাম্পাসে উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড চালিয়েছে। শেখ হাসিনার ছবি ও ব্যানার টানানো এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ গেটে তালা লাগানোর মতো ঘটনাও ঘটেছে বলে দাবি করেন তিনি। প্রশাসনের অবহেলার কারণেই তারা এসব করার সাহস পাচ্ছে বলে মন্তব্য করেন জুবায়ের।
ছাত্রলীগের উদ্দেশে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেন, “রাতের অন্ধকারে চোরের মতো এসে পোস্টার লাগিয়ে যেও না। যদি ধরা পড়ো, শিক্ষার্থীরা কঠোর জবাব দেবে।"
যারা শিক্ষার্থীদের রক্ত ঝরিয়েছে, তাদের সঙ্গে কোনো আপস করা হবে না বলে জানান তিনি।
অন্যদিকে, প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দীন আহমদ বলেন, “পোস্টার কখন লাগিয়েছে আমি যদি জানতাম, তাহলে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নেওয়া যেত। সিকিউরিটি অফিসারকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে প্রত্যেক দায়িত্বরত দারোয়ানের পরিচয় যাচাই করতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে। এস্টেট অফিসকেও বলা হয়েছে সংশ্লিষ্টদের তালিকা প্রস্তুত করতে।”
তিনি আরও বলেন, চারুকলা, কার্জন হল ও কলাভবনসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থানে দারোয়ান থাকার পরও কীভাবে পোস্টার লাগানো হলো, তা খতিয়ে দেখা হবে। বিষয়টি কঠোরভাবে দেখা হবে বলে আশ্বাস দেন তিনি।
ডাকসু নেতারা এ সময় দেশের সাম্প্রতিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন। পাবনা, নরসিংদী ও রামপুরায় নারী ও শিশু ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে তারা দ্রুত বিচার ও অপরাধীদের শাস্তির দাবি জানান।