হোম > সারা দেশ

মুকুলের ঘ্রাণে বিমোহিত চাষি

শেখ আনোয়ার হোসেন, নওগাঁ

নওগাঁর পরিচয় ছিল ‘ধানের স্বর্ণভূমি’ হিসেবে। গত ১২ বছরে তা বদলে ‘আমের রাজধানী’তে পরিণত হয়েছে। এলাকাজুড়ে সৃষ্টি হয়েছে বিভিন্ন জাতের আমবাগান। গত বছরের চেয়ে মুকুল বেশি আসায় স্বপ্ন বুনছেন চাষিরা। মৌসুমের শুরুতেই কুয়াশা থাকলেও এখন প্রকৃতি বেশ অনুকূলে। এতে বসন্তের বাতাসে আমের মুকুলের ঘ্রাণে চাঙা হয়ে উঠছে চাষির মন।

আমচাষিরা বলেন, মুকুল আসার শুরু থেকেই বাড়তি যত্ন শুরু করেছেন। গাছে যে পরিমাণ মুকুল দেখা যাচ্ছে, তা টিকে থাকলে আমের ফলন ভালো হবে; আমের আগাম ভালো দামও পাওয়া যাবে। গত বছরে জেলায় আমের ফলন কম হওয়ায় এবার আশানুরূপ ফলনের আশায় রয়েছেন তারা। তবে গাছে মুকুল প্রচুর এলেও সার-কীটনাশকের দাম বৃদ্ধিতে বাড়ছে বাগান পরিচর্যার খরচ।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্যমতে, এ বছর ৩০ হাজার ৫০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টন। গত বছর জেলায় ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছিল। উৎপাদন হয়েছিল ৪ লাখ ২৫ হাজার টন। নওগাঁর ১১টি উপজেলার মধ্যে সবচেয়ে বেশি আম চাষ হয় সাপাহার, পোরশা, বদলগাছী, নিয়ামতপুর ও পত্নীতলায়।

জেলার বিভিন্ন আমবাগান ঘুরে দেখা গেছে, আমের মুকুলের ম-ম ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে বাগানগুলো থেকে। মুকুলের সোনালি রঙ নজর কাড়ছে সবার। কিছু কিছু গাছে আমের গুটি দেখা যাচ্ছে। এক মুকুল থেকে আরেক মুকুলে ঘুরে বেড়াচ্ছে মৌমাছির দল। এ বছর প্রায় সব আমগাছেই প্রচুর পরিমাণে মুকুল এসেছে। তবে বড় আকারের চেয়ে ছোট ও মাঝারি আকারের গাছে বেশি মুকুল এসেছে। গাছের গোড়ায় পানি দেওয়াসহ পানি ছিটানো এবং কীটনাশক স্প্রে করাসহ মুকুল আটকাতে সব ধরনের যত্ন নেওয়ায় ব্যস্ত কৃষক।

সাপাহার আইহাই ইউনিয়নের রসুলপুরের বাগান মালিক নাজমুল হাসান বলেন, পাঁচ বিঘা জমিতে আম চাষ করেছি। গত বছরের চেয়ে এ বছর বাগানের সব গাছে মুকুল বেশি আসছে। এ সময়ে গাছে পোকার আক্রমণ থেকে রক্ষা ও মুকুল ভালো থাকার জন্য কীটনাশক স্প্রে করা হচ্ছে। এছাড়া গাছের গোড়ায় গর্ত করে সেখানে সার দেওয়া হচ্ছে। আবহওয়া শেষ পর্যন্ত ভালো থাকলে ভালো ফলন পাওয়া যাবে।

চাচাহার গ্রামের আমচাষি আলামিন ইসলাম বলেন, এবার আবহাওয়া ভালো। শীত ও কুয়াশা কম ছিল। অনেক সময় কুয়াশার কারণে মুকুলের ক্ষতি হয়; কিন্তু এ বছর সেই ঝুঁকি ছিল না। তাই গাছে ভালো মুকুল এসেছে। প্রতিটি গাছেই ৯০ ভাগ মুকুল এসেছে।

নওগাঁ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক আবুল কালাম আজাদ বলেন, শতভাগ গাছে মুকুল আসা শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে গাছে গুটি আসা শুরু করেছে। এ অবস্থায় কৃষকদের সেচ নিশ্চিতকরণসহ কী ধরনের কীটনাশক স্প্রে করতে হবে, তা মাঠ পর্যায়ে চাষিদের পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। এবার আবহাওয়া শেষ পর্যন্ত ভালো থাকলে রেকর্ড পরিমাণ আম উৎপাদন হবে।

তিনি আরো বলেন, জেলায় সুস্বাদু ও উৎকৃষ্টমানের গোপালভোগ, খিরসাপাত, ল্যাংড়া, ফজলি,

আম্রপালি, নাকফজলি, কাটিমন, বারি-৪, হিমসাগর, গৌরমতি, বানানা ম্যাংগোসহ দেশি-বিদেশি প্রায় ১৫ জাতের আম উৎপাদন হয়ে তাকে। এসব আম রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন এলাকার পাশাপাশি স্বল্পপরিমাণে বিদেশেও রপ্তানি হয়ে থাকে।

দেবিদ্বারে পাওনা টাকার জন্য ব্যবসায়ীকে হত্যার অভিযোগ

তজুমদ্দিনে স্কুল ফিডিংয়ের মালামালসহ ট্রলারডুবি

ফেলে যাওয়া ৩ লাখ টাকা মালিককে ফেরত দিয়ে দৃষ্টান্ত গড়লেন অটোচালক

ময়মনসিংহে সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ২

খোলা বাজারে জ্বালানি তেল বিক্রি, তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

হরিজন সম্প্রদায়ের মা হারা কনের বিয়েতে গাজীপুরের ডিসি

সংঘর্ষে পায়ের গোড়ালি বিচ্ছিন্ন ছাত্র শিবির কর্মীর

শিক্ষা মন্ত্রীর উপজেলায় ৮৩ জন এসএসসি পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত

পুলিশের পোশাক পরে একরাতে তিন বাড়িতে ডাকাতি

অস্ত্র হাতে হামলার ছবি ভাইরাল, প্রশাসন বলল শনাক্ত করা যায়নি